এখনই পুরভোট নয়! ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোটের বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিতাদেশ হাই কোর্টের
কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসকে কেন্দ্র করেই এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত। বর্তমানে কলকাতা পুরসভায় ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪। রাজ্য সরকার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ২০৯ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন নিয়ে তৈরি হল নতুন জটিলতা। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কলকাতা পুরসভার নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি জারি করা যাবে না। শুক্রবার এমনই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্টের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের এই নির্দেশের ফলে আপাতত পিছিয়ে গেল কলকাতা পুরসভার ভোটের প্রক্রিয়া। এর আগে নভেম্বরের শেষ দিকে পুরভোট হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছিল। কিন্তু আদালতের নির্দেশে সেই সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসকে কেন্দ্র করেই এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত। বর্তমানে কলকাতা পুরসভায় ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪। রাজ্য সরকার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ২০৯ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন সিপিএমের প্রাক্তন কাউন্সিলর দীপু দাস। তাঁর অভিযোগ, আইন মেনে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করা হয়নি। নির্বাচিত পুরবোর্ডের পরিবর্তে প্রশাসকের সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে গোটা প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের যুক্তি, কলকাতা পুরসভার নির্বাচিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রশাসক হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন স্মিতা পাণ্ডে। তাঁর সুপারিশকে নির্বাচিত পুরবোর্ডের সুপারিশ বলে গণ্য করা যায় না। পুর আইন অনুযায়ী, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে পুরসভার সুপারিশ প্রয়োজন। সেখানে নির্বাচিত বোর্ড না থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে প্রশাসকের সুপারিশের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মামলাকারী।
এ ছাড়াও ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। ভোটার সংখ্যার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ওয়ার্ডের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে দাবি মামলাকারীর। বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক সুবিধা মাথায় রেখে ওয়ার্ডের সীমানা বদল করা হয়েছে। যদিও রাজ্য সরকার এই অভিযোগ মানতে নারাজ।
এর আগে ২৯ অক্টোবর কলকাতা হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে মামলাটি উঠেছিল। বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে রাজি হননি। রাজ্যকে চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তার পরের দু'সপ্তাহের মধ্যে মামলাকারীকে নিজের বক্তব্য জানাতে বলা হয়। কিন্তু মামলাকারীর যুক্তি ছিল, এত দিন অপেক্ষা করলে তার মধ্যে পুরভোট হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে মামলার গুরুত্বই নষ্ট হয়ে যাবে। তাই সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যান তিনি।
শুক্রবার সেই আবেদনের শুনানি হয় বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের বেঞ্চে। মামলাকারীর বক্তব্য শোনার পর আগের নির্দেশে আংশিক পরিবর্তন করে আদালত। জানিয়ে দেওয়া হয়, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে সিঙ্গল বেঞ্চে দায়ের হওয়া মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশোধিত ওয়ার্ড বিন্যাসের ভিত্তিতে কলকাতা পুরসভার নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারবে না রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
এই নির্দেশের ফলে পুরভোটের দিনক্ষণ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচিত বোর্ড নেই। প্রশাসকের মাধ্যমে পুরসভার কাজকর্ম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে নাগরিক পরিষেবা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে।
আদালতের নির্দেশ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশের পরে তাঁদের কিছু বলার নেই। তবে ভোট না হলে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। তাই দ্রুত ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের জেরে আপাতত আটকে গেল কলকাতা পুরসভার ভোটের বিজ্ঞপ্তি। এখন সিঙ্গল বেঞ্চের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রাজনৈতিক দলগুলির।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


