Dhuliyan Municipality: পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৪ আগস্ট ১৩ কাউন্সিলর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন। অভিযোগ, অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়ার পর নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও সভা ডাকা হয়নি। পরবর্তীতে তলবি সভার মাধ্যমে অনাস্থা সভার আয়োজন করা হয়।
Dhuliyan Municipality: টানটান উত্তেজনা ও কড়া পুলিশি নিরাপত্তার ঘেরাটোপে অবশেষে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান পৌরসভায় অনুষ্ঠিত হলো বহু চর্চিত অনাস্থা সভা। মঙ্গলবার ভোটাভুটির মাধ্যমে কার্যত সিলমোহর পড়ল চেয়ারম্যান ইনজামূল ইসলাম রাজার অপসারণে। সামসেরগঞ্জের বিধায়ক ও বিশিষ্ট শিল্পপতি নুর আলমের উপস্থিতিতে ও নেতৃত্বে এই অনাস্থা সভায় পরাজিত হয়ে নিজের পদ হারালেন চেয়ারম্যান। অনাস্থার পর নতুন চেয়ারম্যান কে হবেন তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। জানা যাচ্ছে, দ্রুত পুরপ্রধান নির্বাচনের জন্য বৈঠক ডাকা হবে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৪ আগস্ট ১৩ কাউন্সিলর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন। অভিযোগ, অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়ার পর নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও সভা ডাকা হয়নি। পরবর্তীতে তলবি সভার মাধ্যমে অনাস্থা সভার আয়োজন করা হয়। ২১ আসনবিশিষ্ট ধুলিয়ান পুরসভার অনাস্থা সভায় মঙ্গলবার উপস্থিত ছিলেন মোট ১৫ জন কাউন্সিলর। ভোটাভুটিতে উপস্থিত ১৫ জন কাউন্সিলরের প্রত্যেকেই ইনজামূল ইসলামের বিরুদ্ধে ভোট দেন। অর্থাৎ, অপসারিত চেয়ারম্যানের পক্ষে একটি ভোটও পড়েনি। ফলে ১৫-০ ব্যবধানে অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হতেই আনুষ্ঠানিকভাবে অপসারিত হন তিনি।
অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুরসভার বাইরে ও ভেতরে মোতায়েন করা হয়েছিল বিপুল পুলিশ বাহিনী। অনাস্থা প্রক্রিয়া চলার সময় পুরসভার বাইরে অবস্থান করছিলেন সামসেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম এবং সামসেরগঞ্জ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা আনারুল হক বিপ্লব। অনাস্থা সভার আবহকে কেন্দ্র করে গোটা ধুলিয়ান শহর জুড়েই মঙ্গলবার রাজনৈতিক পারদ ছিল তুঙ্গে। অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হওয়ার পর এখন সকলের নজর, কে হতে চলেছেন ধুলিয়ান পুরসভার পরবর্তী পুরপ্রধান? স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রের খবর, দ্রুত প্রশাসনিক নিয়ম মেনে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য বিশেষ সভা আহ্বান করা হবে।
উল্লেখ্য, অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়ার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন ইনজামূল ইসলাম। তবে দলবদল করেও শেষরক্ষা হলো না। কয়েক দিন আগেই এক সাংবাদিক বৈঠক করে ইনজামূলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন বিধায়ক নুর আলম। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, অন্য দলে যোগ দিয়ে দুর্নীতির দায় থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না। মঙ্গলবার অনাস্থায় জয়ের পরও অপসারিত চেয়ারম্যানকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন বিধায়ক।