Vote Counting Centers: ১৬৫ থেকে ফের কমে ৮৭! রাজ্যে ভোট গণনা কেন্দ্র অর্ধেক করল কমিশন, কিন্তু কেন?

Vote Counting Centers: বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে গণনা কেন্দ্রের সংখ্যা নিয়ে একাধিক দফায় পরিবর্তনের পর অবশেষে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হল।

Published on: Apr 15, 2026, 22:35:18 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Vote Counting Centers: হাতে বাকি আর মাত্র ৭দিন, এরপরেই রাজ্যজুড়ে দুই দফায় হতে চলেছে ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। জোর কদমে ভোট প্রচারের প্রস্তুতি চলছে জেলায় জেলায়। জনসভা, মিছিল এবং বক্তৃতায় রীতিমত রাজ্যে সাজ সাজ রব। এমতাবস্থায় ফের বঙ্গে গণনা কেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে আনল নির্বাচন কমিশন! প্রথমে ১৬৫ কেন্দ্রে গণনা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পিছু হটে এবার ৮৭ কেন্দ্রে নামল কমিশন। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের কারণে ফলাফল বেরতে দেরি হতে পারে বলে মেনে নিয়েছে কমিশনের একাংশ। আর এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।

রাজ্যে ভোট গণনা কেন্দ্র অর্ধেক করল কমিশন (Jitender Gupta)
রাজ্যে ভোট গণনা কেন্দ্র অর্ধেক করল কমিশন (Jitender Gupta)

রাজ্যের ভোট গণনা কেন্দ্রের সংখ্যা কমল

বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে গণনা কেন্দ্রের সংখ্যা নিয়ে একাধিক দফায় পরিবর্তনের পর অবশেষে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হল। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে প্রস্তাব পাঠিয়ে বলেছিল যে প্রথমে ১৬৫ কেন্দ্রে গণনা হবে। পরে তা কমিয়ে আনা হয় ১৫০-এ। এরপর নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশিকা জারির পর আরও এক দফা পর্যালোচনায় সংখ্যাটি দাঁড়ায় ১১২। শেষ পর্যন্ত সব দিক খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে গণনা কেন্দ্রের সংখ্যা নির্ধারিত হয়েছে ৮৭-তে। স্বাভাবিকভাবেই এত কম সংখ্যক গণনা কেন্দ্র থাকার কারণে ভোটের ফলাফল বেরতে দেরি হতে পারে বলে মনে করছে কমিশনের একাংশ। আর এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব।

চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি কমিশনের তরফে

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই ৮৭টি কেন্দ্র থেকেই রাজ্যের ২৯৪টি আসনের ফল ঘোষণা করা হবে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, নিরাপত্তা, পরিকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও গণনার স্বচ্ছতা বজায় রাখার দিকগুলি বিবেচনা করেই এই সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবারই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে সংশ্লিষ্ট সমস্ত নথি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন অপেক্ষা শুধুমাত্র কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদনের। সেই শিলমোহর পড়লেই রাজ্যজুড়ে নির্ধারিত ৮৭টি গণনা কেন্দ্র প্রস্তুত হয়ে যাবে ভোটের ফল ঘোষণার জন্য।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের দক্ষিণ কলকাতার ডিইও-র সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে বোরোলিন ও বার্নল সংক্রান্ত পোস্ট নিয়ে শুরু হয়েছিল মহা বিতর্ক। ওই পোস্টের ক্যাপশনে একদিকে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে রয়েছে প্রছন্ন হুমকিও! ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘সকল মা, বোন ও ভাইদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান করা হচ্ছে। যদিও কিছু লোক এতে জ্বলতে পারে। গুণ্ডা, অপরাধীরা সাবধান। নিজেদের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে বার্নল ও বোরোলিন মজুত রাখুন। না হলে উত্তাপ এতটাই বাড়বে যে আপনারা পুড়ে যাবেন।’ কমিশনের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এহেন পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। ঘটনায় রীতিমতো প্রশ্নের মুখে কমিশনের আধিকারিকরা। এরপরই তৃণমূলের তরফে ডিও-এর বিরুদ্ধে কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়। তারপরই তাঁকে শোকজ করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বেলডাঙার আইসিকে। কয়েকদিন আগেই বেলডাঙার এসডিপিও পদে বদল করে কমিশন। এবার আইসিকেও সরিয়ে দেওয়া হল।

উল্লেখ্য, নির্বাচন প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল এই গণনা পর্ব। কারণ এর মাধ্যমেই নির্ধারিত হয় সরকার গঠনের। ফলে প্রতিটি কেন্দ্রে নিরাপত্তা ও নজরদারিতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত। এদিকে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন যাতে সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয় তার জন্য নির্বাচন কমিশন একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে। তাই সব মিলিয়ে, ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই ভোটের ফল ঘোষণার প্রস্তুতিও বেশ জোরকদমে এগোচ্ছে, তা বেশ স্পষ্ট।