'কে কার সঙ্গে প্রেম...,' নিশানায় বিজেপি, নেতাজির জন্মদিনে SIR তোপ মুখ্যমন্ত্রীর

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন একসঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করার পথে হাঁটছে। 

Published on: Jan 23, 2026 4:54 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

'এবার কী কে কার সঙ্গে প্রেম করবে সেটাও ওরা ঠিক করে দেবে? বাচ্চা জন্মানোর আগেও ওদের অনুমতি নিতে হবে।' নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মরণ মঞ্চ থেকে ফের একবার কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে বিজেপি, তৃণমূলের এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এদিনও কার্যত আবার সেই অভিযোগেই সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী।

নেতাজির জন্মদিনে SIR তোপ মুখ্যমন্ত্রীর (HT_PRINT)
নেতাজির জন্মদিনে SIR তোপ মুখ্যমন্ত্রীর (HT_PRINT)

এসআইআর শুনানি ও মুখ্যমন্ত্রী

বর্তমানে বাংলায় এসআইআরের শুনানি পর্ব চলছে। বহু মানুষ তাতে ডাক পাচ্ছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে নামের বানানে সামান্য ভুল বা বাবা-মায়ের সঙ্গে বয়সের ফারাকের কারণেই হিয়ারিংয়ে যেতে হচ্ছে। এমনকী নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকেও শুনানিতে ডাকা হয়েছিল বাবার সঙ্গে বয়সের পার্থক্য মাত্র ১৫ বছর হওয়ায়। সেই প্রসঙ্গ তুলেই বৃহস্পতিবার মঞ্চ থেকে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'এখন শুনানিতে গেলে প্রশ্ন করা হচ্ছে, ৫ ছেলেমেয়ে কীভাবে? বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক এত কম কী করে? জন্মশংসাপত্র কোথায়? আরে ২০০২ সালের আগে তো হোম ডেলিভারি হতো। দেখছি ৯০ বছরের বৃদ্ধাকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে হিয়ারিংয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এটা মায়েদের, বয়স্কদের অপমান।'

এরপরই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মরণ মঞ্চে দাঁড়িয়েই মেজাজ হারান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'এবার ওরা ঠিক করে দেবে কবে কে বিয়ে করবে? প্রেমটা ওরা ঠিক করে দেবে? কে কী খাবে, কী পরবে, বাচ্চা জন্মানোর আগেও অনুমতি নিতে হবে?' এদিন ফের এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু নিয়ে কেন্দ্র ও কমিশনকে নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, 'রোজ ৩-৪ জন করে আত্মহত্যা করছে। কত লোক হাসপাতালে ভর্তি। এই মৃত্যুর দায় কমিশন ও কেন্দ্রকে নিতে হবে। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এত বছর প্রমাণ করতে হবে আমি ভোটার কিনা। বাংলা ও ইংরেজি বানানের ফারাকই তো ওরা বোঝে না।'

নেতাজি ও এসআইআর

নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্র বসুকে নির্বাচন কমিশনের নোটিস পাঠানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, নেতাজি আজ জীবিত থাকলে, নামের অসঙ্গতির অজুহাতে তাঁকেও হয়তো এসআইআর শুনানিতে হাজিরা দিতে বলা হত। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন একসঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করার পথে হাঁটছে। তাঁর ভাষায়, দেশের ইতিহাসকে ইচ্ছেমতো বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মুখ্যমন্ত্রী কথায়, ‘ভারতের ইতিহাস গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। মনীষীদের অসম্মান করা হচ্ছে। ভাষার প্রতি অসম্মান চলছে।’ সেই সঙ্গেই জুড়ে দেন নেতাজির প্রসঙ্গ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘নেতাজি প্ল্যানিং কমিশন তৈরি করেছিলেন। জেনেবুঝে সেটা তুলে দেওয়া হয়েছে। তার বদলে তৈরি করা হয়েছে নীতি আয়োগ। সেটা খায় না মাথায় দেয় কেউ জানে না।’

কেন এখনও ২৩ জানুয়ারিকে জাতীয় ছুটির দিন হিসাবে ঘোষণা করা হল না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য যে, নেতাজির জন্মদিনটিকে এখনও জাতীয় ছুটির দিন হিসাবে ঘোষণা করা হয়নি। আমরা তাঁর মৃত্যুদিনটাও জানতে পারিনি।’ এসআইআর-সহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এটা কৌরবপক্ষের সঙ্গে লড়াই। মানবিকতার সঙ্গে দানবিকতার লড়াই।’ এই প্রসঙ্গেই নেতাজির স্লোগান উল্লেখ করে ‘দিল্লি চলো’র ডাকও দেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন সংবিধান প্রসঙ্গেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিদিনই সংবিধানের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। এই প্রেক্ষিতেই তাঁর প্রশ্ন - নামের তথাকথিত তথ্যগত গরমিল দেখিয়ে যদি নোটিস পাঠানো যায়, তবে নেতাজির মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বও কী রেহাই পেতেন?

নেতাজির জন্মদিনে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি এদিনের বক্তৃতায় ইতিহাস, গণতন্ত্র ও সংবিধান - এই তিন বিষয়কে সামনে রেখেই কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট ও ধারালো করে তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।