হাওড়া থেকে আরও এক সন্দেহভাজন গ্রেফতার, হামিম মণ্ডল-কাণ্ডে তদন্তে নতুন মোড়

তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, হামিম মণ্ডলের সঙ্গে আদিত্যের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। শুধু তাই নয়, হাওড়ার এক মন্ত্রীকে ঘিরে যে হুমকি ফোনের ঘটনা সামনে এসেছিল, তার সঙ্গেও আদিত্যের যোগসূত্র রয়েছে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। 

Published on: Aug 3, 2026, 11:02:43 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বর্ধমান থেকে জঙ্গি যোগের সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। সোমবার হাওড়া থেকে আদিত্য সিংহ ওরফে রাজ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাসিন্দা। সূত্রের খবর, রবিবার গভীর রাতে তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে এসটিএফ। দীর্ঘ জেরার পর সোমবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয় এবং পরে তাঁকে বর্ধমান আদালতে তোলা হয়।

তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, হামিম মণ্ডলের সঙ্গে আদিত্যের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।
তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, হামিম মণ্ডলের সঙ্গে আদিত্যের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, হামিম মণ্ডলের সঙ্গে আদিত্যের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। শুধু তাই নয়, হাওড়ার এক মন্ত্রীকে ঘিরে যে হুমকি ফোনের ঘটনা সামনে এসেছিল, তার সঙ্গেও আদিত্যের যোগসূত্র রয়েছে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। পুলিশ সূত্রের দাবি, তিনি মন্ত্রীর গতিবিধি ও ব্যক্তিগত কিছু তথ্য হামিমের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই তথ্য আদানপ্রদানের মাধ্যমে কোনও বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল কি না, সেটিও তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই পাকিস্তান থেকে আসা একটি হুমকি ফোন পান বলে অভিযোগ ওঠে। ফোনকারী নিজেকে আবিদ জাঠ নামে পরিচয় দিয়ে মন্ত্রীকে খুন এবং তাঁর ছেলেকে অপহরণের হুমকি দেয়। পাশাপাশি দাবি করা হয়, মন্ত্রী এবং তাঁর পরিবারের বিস্তারিত তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। প্রথমদিকে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে পুলিশকে জানানো হলে তদন্তভার এসটিএফের হাতে যায়। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই প্রথমে বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয় এবং এখন ধরা পড়লেন আদিত্য।

এর আগেই হামিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত অর্পিতা সরকারকে ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, হামিম ও অর্পিতার সঙ্গে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর যোগাযোগ ছিল। তাঁদের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে নাশকতার ছক কষা হচ্ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামিম কিছুদিন নিউটাউন এলাকায় অবস্থান করেছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচলের রুট সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন বলে অভিযোগ। নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করে তা অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

এছাড়া তদন্তকারীদের দাবি, অর্পিতা সরকারকে তথাকথিত ‘হানিট্র্যাপ’-এর কাজে ব্যবহার করা হত। অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তি, নেতা, মন্ত্রী কিংবা আমলাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে তাঁদের কাছ থেকে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হতো। এই গোটা নেটওয়ার্কে আদিত্যর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, হামিমের সঙ্গে তাঁর কতবার যোগাযোগ হয়েছে এবং তিনি ঠিক কী ধরনের তথ্য সরবরাহ করেছিলেন, তা এখন খতিয়ে দেখছে এসটিএফ।

তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আদিত্যর জিজ্ঞাসাবাদ থেকে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্রে এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনার পরিধি কতটা বিস্তৃত ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More