Overhead Electric Wires in WB Cities: ঝুলন্ত বিদ্যুতের তার অতীত! রাজ্যের ৬ শহরে মাটির নীচে যাবে বিদ্যুৎ লাইন
প্রথম পর্যায়ের এই প্রকল্পে জায়গা পেয়েছে কাঁথি, এগরা, জলপাইগুড়ি, বালুরঘাট, আলিপুরদুয়ার এবং সিউড়ি। অর্থাৎ দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গ—দুই অংশের মোট ছয় শহরকে একসঙ্গে এই আধুনিক বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে। এর ফলে শহরের রাস্তায় বিদ্যুতের তারের জট অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শহরের রাস্তা দিয়ে চলার সময় মাথার উপর ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তার এখনও পরিচিত দৃশ্য বহু জায়গায়। এর জেরে বড় বিপদ ঘটতে পারে যেকোনও সময়। বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টির সময়ে তার ছিঁড়ে বা নিচু হয়ে যাওয়ার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়। সেই সমস্যা কমাতেই এবার বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য বিদ্যুৎ দপ্তর। রাজ্যের ছয় শহরে ধাপে ধাপে বিদ্যুতের ওভারহেড নেটওয়ার্ক সরিয়ে মাটির নিচে কেবল বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রথম পর্যায়ের এই প্রকল্পে জায়গা পেয়েছে কাঁথি, এগরা, জলপাইগুড়ি, বালুরঘাট, আলিপুরদুয়ার এবং সিউড়ি। অর্থাৎ দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গ—দুই অংশের মোট ছয় শহরকে একসঙ্গে এই আধুনিক বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে। এর ফলে শহরের রাস্তায় বিদ্যুতের তারের জট অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গ স্টেট ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড বা WBSEDCL-এর প্রজেক্ট-৩ বিভাগ ইতিমধ্যেই ছয় শহরের জন্য পৃথক ই-টেন্ডার আহ্বান করেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রথম পর্যায়ে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি ও এগরা শহরে বিদ্যুতের ওভারহেড নেটওয়ার্ক সরিয়ে মাটির নিচে কেবল বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
শুধু দক্ষিণবঙ্গেই নয়, উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, বালুরঘাট এবং আলিপুরদুয়ার শহরেও একই ধরনের কাজ হবে। বীরভূমের সিউড়িকেও এই প্রকল্পের আওতায় রাখা হয়েছে। ফলে ছয় শহরেই ধীরে ধীরে বদলে যাবে প্রচলিত বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার চেহারা।
শহরের মাথার উপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারের জট কমানোই অবশ্য এই প্রকল্পের একমাত্র লক্ষ্য নয়। ঝড়, বৃষ্টি কিংবা প্রবল হাওয়ার সময়ে ওভারহেড তারে সমস্যা তৈরি হলে বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। কোথাও তার ছিঁড়ে পড়া, কোথাও খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া—এই ধরনের ঘটনায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। মাটির নিচে কেবল বসানো হলে এই ধরনের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে শহরের সৌন্দর্যও বাড়বে বলে মনে করছে প্রশাসন। রাস্তার উপর খুঁটি ও তারের জট কমলে নাগরিক পরিকাঠামো আরও গোছানো চেহারা পাবে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাকেও আরও আধুনিক এবং নির্ভরযোগ্য করে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
এই উদ্যোগকে রাজ্যের বিদ্যুৎ বণ্টন পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে শহরাঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরনো ওভারহেড নেটওয়ার্কের উপর চাপও বেড়েছে। শহর সম্প্রসারণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভবিষ্যতের প্রয়োজন মেটাতে পরিকাঠামোয় পরিবর্তন জরুরি হয়ে উঠেছে।
WBSEDCL-এর ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। কাজ শেষ হলে ছয় শহরে রাস্তার উপর ঝুলন্ত বিদ্যুতের তারের দৃশ্য অনেকটাই অতীত হবে।
দক্ষিণবঙ্গের কাঁথি ও এগরা থেকে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, বালুরঘাট ও আলিপুরদুয়ার, সঙ্গে সিউড়ি—একসঙ্গে ছয় শহরকে নিয়ে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। এখন নজর, কবে থেকে শুরু হয় মাটির নিচে কেবল বসানোর মূল কাজ এবং কত দ্রুত তা সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


