তদন্তে কি গাফিলতি? CBI-পুলিশ ও রাজনৈতিক যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে আদালতে নির্যাতিতার বাবা-মা
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে চিকিৎসক-ছাত্রীর পরিবার-সহ গোটা রাজ্য।
আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক-ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় এবার সরাসরি তদন্তকারী সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন নির্যাতিতার বাবা-মা। মঙ্গলবার শিয়ালদহ আদালতে হাজির হয়ে তাঁরা পুলিশ এবং সিবিআই-উভয় সংস্থার তদন্ত প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার আর্জি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই নৃশংস ঘটনার নেপথ্যে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের যোগ থাকতে পারে, যা এখনও অধরা। শুধু তাই নয়, পুলিশকর্মী অনুপ দত্তকে গ্রেফতারের দাবিতে তাঁরা আদালতে আবেদন জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার শিয়ালদহ আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে যান নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁদের আইনজীবীও ছিলেন সঙ্গে। সূত্রের খবর, এদিন এসিজেএম এমন কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন, যাঁদের এই ঘটনার সঙ্গে যোগ আছে বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার আগে তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের-সহ আরও কয়েক জনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আর্জিও জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টে সিবিআই যে রিপোর্ট দিয়েছে, তাতে বেশ কিছু তদন্তের দিক রয়েছে, যা নিয়ে সিবিআই কোনও পদক্ষেপ করছে না, এমন অভিযোগ এনে মঙ্গলবার শিয়ালদহ আদালতে আবেদন জানিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবীর দাবি, ঘটনার শুরু থেকে কলকাতা পুলিশ এবং পরবর্তীকালে সিবিআই-এর তদন্তে একাধিক ফাঁক রয়ে গিয়েছে। পরিবারের সন্দেহ, মূল অপরাধীকে আড়াল করা হচ্ছে অথবা বৃহত্তর কোনও ষড়যন্ত্র ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের আর্জি, আদালত যেন এই রাজনৈতিক যোগসূত্র ও তদন্তের স্বচ্ছতা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়।
শিয়ালদহ আদালত ইতিমধ্যেই আবেদন গ্রহণ করেছে। সূত্রের খবর, এদিন দুপুরেই বিষয়টি নিয়ে শুনানি হতে পারে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে তরুণী চিকিৎসকের পরিবার-সহ গোটা রাজ্য। আরজি কর-কাণ্ডে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় সাজা ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। তবু বিচার মেলেনি, এমনই অভিযোগ নির্যাতিতার বাবা-মায়ের। তাঁদের দাবি, ঘটনার পূর্ণ সত্য এখনও সামনে আসেনি। প্রৌঢ় দম্পতির কথায়, অপরাধে একজন নয়, একাধিক ব্যক্তি জড়িত। সেই সূত্রে তাঁদের করা মামলা এখনও বিচারাধীন। নির্যাতিতার বাবার বক্তব্য, আরজি কর-কাণ্ডের ডিএনএ রিপোর্টে একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত মিলেছে। কিন্তু তদন্ত সেই দিক ধরে এগোয়নি বলেই অভিযোগ তাঁর। তাঁর কথায়, প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়নি। নির্যাতিতার মা-ও একই দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায় একা নন, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল আরও কয়েক জন।
এদিকে, আদালতে তাঁদের দায়ের করা মামলার শুনানি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁদের অভিযোগ, দিনের পর দিন শুনানির জন্য আরজি কর মামলা লিস্টে আসলেও শুনানি হচ্ছে না। তাঁদের করা মামলা প্রতিদিন তালিকায় আসলেও, পরের দিকে থাকায় শুনানি হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হয়েছেন। বিষয়টি জানিয়ে প্রধান বিচারপতিকে চিঠিও দিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁদের আর্জি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, এবং সমস্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
E-Paper

