ন’বছর পর রবীন্দ্র ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজোর অনুমতি! এনজিটি-র নির্দেশ ঘিরে প্রশ্ন, আশঙ্কা পরিবেশ দূষণের
ছটপুজো সামনে রেখে বুধবার কলকাতা ও হাওড়ার বিভিন্ন ঘাট পরিদর্শনে যান অগ্নিমিত্রা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। গঙ্গার ঘাটগুলির পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন জলাশয়ের পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখেন তাঁরা।
কলকাতার দুই ঐতিহ্যবাহী সরোবর রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে ফের ছটপুজো আয়োজনের উদ্যোগ রাজ্য সরকারের। দীর্ঘ ন’বছর পর এই দুই জলাশয়ে ছটপুজোর অনুমতি দিতে চায় নতুন সরকার। বুধবার ঘাট পরিদর্শনে গিয়ে সেই কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর দাবি, এত দিন রাজনৈতিক কারণে হিন্দুদের উৎসব পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে। এবার থেকে সেই পরিস্থিতির বদল হবে। তবে সরকারের এই ঘোষণার পরেই পরিবেশের ক্ষতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, ২০১৭ সালে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল বা এনজিটির নির্দেশেই দুই সরোবরে ছটপুজো বন্ধ হয়েছিল।

ছটপুজো সামনে রেখে বুধবার কলকাতা ও হাওড়ার বিভিন্ন ঘাট পরিদর্শনে যান অগ্নিমিত্রা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। গঙ্গার ঘাটগুলির পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন জলাশয়ের পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এবার থেকেই ছটপুজো উপলক্ষে শহর ও জেলার পুকুর, নদী এবং ঘাটগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী।
অগ্নিমিত্রা জানান, রবীন্দ্র সরোবরে এবার ছটপুজো করতে দেওয়া হবে। সুভাষ সরোবরেও পুজোর আয়োজন করতে চায় সরকার। তাঁর কথায়, রবীন্দ্র সরোবর সংলগ্ন এলাকার বহু মানুষ সেখানে ছটপুজো করতেন। আগের সরকারের আমলে তা বন্ধ হয়ে যায়। এবার সেই সুযোগ ফিরিয়ে দিতে চায় রাজ্য। তবে পুজো শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত সামগ্রী জল থেকে তুলে নিতে হবে। পরিবেশের ক্ষতি যাতে না হয়, সে দিকে বিশেষ নজর রাখা হবে।
ছটপুজোর জন্য গঙ্গার ঘাট ও অন্যান্য জলাশয়ে বিশেষ ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী। ঘাটে নামার জন্য পেভার ব্লক দিয়ে অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করা হবে। থাকবে পোশাক বদলের ঘর এবং বায়ো টয়লেট। ভোরে সূর্যোদয়ের আগে পুজোর নিয়ম থাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হবে। বিভিন্ন জায়গায় পথনির্দেশক বোর্ডও বসানো হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ঘাটগুলিতে জরুরি ফোন নম্বর দেওয়া থাকবে।
ভিড় নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। একসঙ্গে অনেক মানুষ যাতে জলে না নামেন, তার জন্য স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হবে। একদল পুণ্যার্থী পুজো সেরে উঠে আসার পর অন্য দলকে জলে নামতে দেওয়া হবে। জলদূষণ রুখতে পুজোর আগে, চলাকালীন এবং পরে ঘাট পরিষ্কারের কাজ চলবে।
তবে রবীন্দ্র ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজোর অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে পরিবেশবিদদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০১৭ সালে এনজিটির নির্দেশে দুই সরোবরে পুজো বন্ধ হয়েছিল। পরিবেশবিদদের বক্তব্য, রবীন্দ্র সরোবর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকা। সেখানে পুজোর আয়োজন হলে জলাশয়ের বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রবীন্দ্র সরোবর বাঁচাও আন্দোলনের অন্যতম মুখ সৌমিত্র মোহন ঘোষের দাবি, সুপ্রিম কোর্ট এবং এনজিটির নির্দেশের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। সরোবরের জল এমনিতেই দূষিত। সেখানে মাছের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে, সূত্রের খবর, রবীন্দ্র সরোবরে চার-পাঁচটি অস্থায়ী ঘাট তৈরির মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এত কম সময়ে কীভাবে তা করা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন কেএমডিএ-র ইঞ্জিনিয়রদের একাংশ। অগ্নিমিত্রা অবশ্য জানিয়েছেন, সরোবরে পুজোর আয়োজন নিয়ে এনজিটির সঙ্গে আলোচনাও করা হবে। ফলে ন’বছর পর দুই সরোবরে ছটপুজো ফেরানোর সরকারি উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়িত হয়, এখন সেটাই দেখার।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


