Aroop Biswas: অর্থ সঙ্কটের মুখে TMC? অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে ব্যাঙ্কে চিঠি অরূপের, পাল্টা চাল দলনেত্রীর
Aroop Biswas: সূত্রের খবর, ১২ জুন, ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে পাঠানো চিঠিতে দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন অরূপ বিশ্বাস। তিনি লিখেছেন, বর্তমানে তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে চরম বিরোধ তৈরি হয়েছে। একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিজেদের দলের বৈধ প্রতিনিধি বলে দাবি করছে।
Aroop Biswas: রাজ্য রাজনীতিতে এবার বেনজির পরিস্থিতি! দলের অন্দরে চরম ডামাডোলের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আর্জি জানিয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠালেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। নিজেকে দলের ‘কোষাধ্যক্ষ’ দাবি করে চলতি সপ্তাহে কলকাতার একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের ম্যানেজারের কাছে এই চিঠি জমা দিয়েছেন তিনি। বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর দলের অন্দরে তৈরি হওয়া তীব্র সংঘাতের আবহেই অরূপের এই পদক্ষেপ শোরগোল ফেলে দিয়েছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, গত ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ আস্থাভাজন যদি ৩-৪ জন থেকে থাকতেন, তাঁদের মধ্যে অরূপ বিশ্বাস ছিলেন একজন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এবার কী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাপে ফেলার চেষ্টা করছেন সেই অরূপ বিশ্বাসই? যদিও সূত্রের খবর, অরূপের চিঠিতে মান্যতা দিচ্ছে না ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। কারণ ৫ জুন থেকে তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শুভাশিস চক্রবর্তীকে।

সূত্রের খবর, ১২ জুন, ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে পাঠানো চিঠিতে দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন অরূপ বিশ্বাস। তিনি লিখেছেন, বর্তমানে তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে চরম বিরোধ তৈরি হয়েছে। একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিজেদের দলের বৈধ প্রতিনিধি বলে দাবি করছে। এই পরিস্থিতিতে দলের নামে থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কে বা কারা নিয়ন্ত্রণ করবেন, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাই দলের তহবিল সুরক্ষিত রাখতে এবং অননুমোদিত কোনও ব্যক্তির টাকা তোলা বা লেনদেন আটকাতে এই পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন তিনি। চিঠিতে সংসদীয় ও পরিষদীয় দলে ভাঙনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অরূপের সাফ কথা, যতক্ষণ না দলের কর্তৃত্ব সংক্রান্ত সমস্যার নিষ্পত্তি হচ্ছে ততক্ষণ যেন অ্যাকাউন্টে কোনও লেনদেন না হয়। এমনকী দলীয় দফতরে তাঁর সই করা যে চেকগুলি রয়েছে সেগুলির অপব্যবহার হতে পারে বলেও আশঙ্কা করেছেন অরূপ বিশ্বাস। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৬৭৫ কোটি টাকা রয়েছে।
আসলে অরূপ তৃণমূলের পুরনো কমিটিতে দীর্ঘদিন কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। যদিও দলের বিপর্যয়ের পর সেভাবে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি তাঁকে। কালীঘাটে নেত্রীর ডাকা একটি বৈঠকে তিনি পরে হাজির হন বটে, আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এমনকী মেসি কাণ্ডে মামলা দায়ের হওয়ার পর একপ্রকার অন্তরালে চলে গিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়া এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রী। সূত্রের খবর, কালীঘাটে যখন বৈঠক হয়েছিল, তখন অরূপের সঙ্গে তর্কাতর্কির মতো একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, এটাও জানা যাচ্ছে, অরূপকে যখন যখন ডেকে পাঠানো হচ্ছিল, তিনি কালীঘাটে যাচ্ছিলেন না। তিন, মেসিকাণ্ডে অরূপের বিরুদ্ধে যখন পরপর অভিযোগ দায়ের হতে থাকে, তার মধ্যে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও জড়িয়ে যায়, তখন দলের অন্দরেও প্রশ্নের মুখে পড়ছিলেন অরূপ। সঠিক উত্তর দলকেও দিতে পারেননি বলে খবর। কালীঘাটের অন্দরে জল্পনা বাড়তে থাকে, অরূপ বিশ্বাস ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। অরূপকে ডেকে জিজ্ঞাসাও করা হয়েছিল, সেখানেও নাকি তাঁর তরফে কোনও উত্তর মেলেনি। এরপরই দল কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব অরূপের থেকে নিয়ে রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তীকে দেয়।
গত ১২ জুন অরূপ বিশ্বাস ব্যাঙ্ককে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। এদিকে, তিনি সে সময়ে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় পুলিশের হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর হদিশও মিলছিল না। কিন্তু সেই চিঠি গৃহীত হয়নি, কারণ তার আগেই অর্থাৎ অরূপের হাবভাব বুঝেই ৫ জুন সমস্ত আইনি পদ্ধতি মেনে অরূপকে সরিয়ে শুভাশিসকে কোষাধ্যক্ষ বানিয়ে ফেলেছে। এখানে স্বাভাবিকভাবেই বলা যেতে পারে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় চাল! দলের তরফ থেকে রেজুলিউশন করে মিনিটস করে জানানো হয়েছে, এখন থেকে কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তী। আর সেটাই ব্যাঙ্ককে জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন হঠাৎ ১২ জুন চিঠি লিখতে গেলেন অরূপ? তিনি কী ঋতব্রতদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মমতাকে চাপে ফেলতে চাইছেন? এমনই উঠছে প্রশ্ন। অন্যদিকে, তৃণমূলের অ্যাকাউন্টের দাবিদার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রাও। বৃহস্পতিবারই কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিরোধী দলনেতা। এবার অ্যাকাউন্ট নিয়ে সন্দীপন সাহা বলেন, 'অরূপ বিশ্বাস চিঠি দিয়েছেন। তিনি কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি মনে করেছেন, এই চিঠিটা না দিলে হয়তো, তৃণমূলের যে অ্যাকাউন্টটা রয়েছে, তাতে অনিয়ম হতে পারে।'
সব মিলিয়ে দলের অভ্যন্তরে ভাঙন, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের আর্জি এবং হাই-প্রোফাইল মেসিকাণ্ডে পুলিশি জেরা, বৃহস্পতিবার জোড়া অস্বস্তির কেন্দ্রে অরূপ বিশ্বাস।
E-Paper

