PM Modi: 'নাগরিকত্ব পাবেন, স্থায়ী ঠিকানা...,' ঠাকুরনগর থেকে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে মতুয়াদের 'গ্যারান্টি' PM মোদীর
PM Modi: এদিন বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী মতুয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, '৪-৫ বছর আগে ওড়াকান্দিতে গিয়ে মতুয়াদের সঙ্গে দেখা করার স্মৃতি আজও সতেজ। বড়মার আশীর্বাদের সেই মমতা আমি কোনওদিন ভুলব না।'
PM Modi: 'আপনারা আমাদের ভোট দিন, আমরা আপনাদের স্বাধীনতা দেব।' মতুয়াগড় বনগাঁর ঠাকুরনগরের জনসভা থেকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর উদ্ধৃতি দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ বানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর দাবি, প্রথম দফার ভোটেই তৃণমূলের 'অহঙ্কার ভেঙে গিয়েছে' এবং দ্বিতীয় দফার পর রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন নিশ্চিত। এদিন তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে আরজি কর এবং সন্দেশখালি-কাণ্ড থেকে শুরু করে অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতির প্রসঙ্গ।

‘মা-মাটি-মানুষ’ নিয়ে কটাক্ষ
রবিবার ঠাকুরনগরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী বিদ্রুপের সুরে বলেন, ‘বাংলার এই ভোট এখন শেষ পর্যায়ে। একটা জিনিস লক্ষ্য করেছেন, ১৫ বছর আগে তৃণমূল মা-মাটি-মানুষের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিল। এখন ওদের মুখ থেকে আর সে সব শোনা যায় না। সেই কারণ বলি, এই তৃণমূল মা-মাটি-মানুষের কথা বললে ওদের পাপ প্রকাশ্যে চলে আসবে। মা কাঁদছে ওদের নির্মমতায়। মাটিকে ওরা সিন্ডিকেট আর অনুপ্রবেশকারীদের হাতে তুলে দিয়েছে। আর ওদের অত্যাচারে বাংলার ‘মানুষ’ আজ ভিটেমাটি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে।’ তাঁর দাবি, তৃণমূল আমলে মহিলারা সবথেকে বেশি প্রতারিত হয়েছেন এবং সরকার সবসময় অপরাধীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেন, ‘তৃণমূলের আমলে ছোট গুন্ডারাও নিজেদের সরকার ভাবে। হুগলি নদীর এপারের এলাকায় ছিল কারখানা। আজ সেখানে তালা পড়ার নোটিস আসে। গত ১৫ বছরে অনেক পাটকল বন্ধ হয়েছে। একটা কারখানাই চলছে, তা হল সিন্ডিকেটের কাটমানি, কমিশন আদায়।’
নেতাজির উদ্ধৃতি ও পরিবর্তনের ডাক
এদিন জনসভায় জনজোয়ার দেখে উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বিখ্যাত আহ্বান স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘ওদের এখান থেকে যেতেই হবে। এই সরকার হঠাতে হবে। তাই বাংলার একটাই সিদ্ধান্ত, পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার। বাংলার কাছে সব কিছু রয়েছে। সামর্থ রয়েছে। তাই দেশের এক নম্বর রাজ্য হতে পারে। নেতাজি সুভাষচন্দ্রের আহ্বান মনে রাখবেন। তিনি বলেছিলেন তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব। দেশের মানুষ সব উজার করে দেন। আজ আমি আপনাদের বলছি, আপনারা আমাকে ভোট দিন, আমরা আপনাদের তৃণমূল থেকে মুক্তি দেব। জঙ্গলরাজ, ভয়, দুর্নীতি, মহিলা নির্যাতন, বেকারত্ব, অনুপ্রবেশকারী থেকে মুক্তি দেব।’ তাঁর দাবি, ‘বিজেপি কৃষকদের কল্যাণে নজর দেয়। পাটের এমএসপি (ন্যূনতম সহায়ক মূল্য) দ্বিগুণ করেছে। পাটের প্যাকিং অনির্বায করেছে। তার ব্যবহার বৃদ্ধির দিকে নজর দিয়েছে। এখানে কারখানা চলতেই দেয় না তৃণমূল। ওদের বাজনা বাজিয়ে বিদায় করুন।’
মতুয়া আবেগ ও গ্যারান্টি
এদিন বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী মোদী মতুয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, '৪-৫ বছর আগে ওড়াকান্দিতে গিয়ে মতুয়াদের সঙ্গে দেখা করার স্মৃতি আজও সতেজ। বড়মার আশীর্বাদের সেই মমতা আমি কোনওদিন ভুলব না।' মতুয়া সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'মতুয়ারা নাগরিকত্ব পাবেন, স্থায়ী ঠিকানা পাবেন, প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিক যে নথি পান, সবই পাবেন-এটা মোদীর গ্যারান্টি।' একইসঙ্গে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে দাবি করেন, 'তৃণমূলের মিথ্যে কথা থেকে সাবধান থাকুন।' সিএএ প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'যাঁরা সিএএ-এর বিরোধিতা করেন, তাঁরা কী আদৌ আপনাদের ভাল চান?' ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, কেউ যদি তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার কথা ভাবেন, তবে তা তাঁদের পূর্বপুরুষদের প্রতি অবিচার হবে বলেই মন্তব্য করেন তিনি।
প্রথম দফার সাফল্যে আত্মবিশ্বাসী
প্রথম দফার ভোটে (১৫২টি আসন) বিজেপির জয় নিশ্চিত দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'প্রথম দফায় বাংলার মানুষ কামাল করে দিয়েছে। তৃণমূলের অহঙ্কার চূর্ণ হয়ে গিয়েছে। আমি আপনাদের কাছে আবেদন করছি, বুথে বুথে শক্তি বাড়িয়ে দ্বিতীয় দফায় (১৪২টি আসন) প্রথম দফার রেকর্ডও ভেঙে দিন।' বাংলার গৌরব পুনরুদ্ধার করে একে দেশের এক নম্বর রাজ্যে পরিণত করতে ‘চাই বিজেপি সরকার’-এই স্লোগান দিয়েই এদিন বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। পাশাপাশি সভা থেকে অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও কড়া বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ভুয়ো নথি নিয়ে যারা বাংলায় রয়েছে, তাদের ২৯ এপ্রিলের আগে রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। অন্যথায় ৪ মে-র পর তাদের খুঁজে বের করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
E-Paper

