PM Narendra Modi: 'কাটমানির খেলা, মাফিয়াদের মেলা...,' বঙ্গে পরিবর্তনের হাওয়া তুলে তৃণমূলকে হুঙ্কার PM মোদীর
PM Narendra Modi: এদিন ফের বাংলায় নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
PM Narendra Modi: 'কাটমানির খেলা, মাফিয়াদের মেলা আর চলবে না।' শিল্পাঞ্চল আসানসোলের খনি গর্ভ থেকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিধানসভা নির্বাচনের পারদ চড়াতে ফের বঙ্গে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় সভার পর আসানসোলের পোলো গ্রাউন্ড ময়দানে বিশাল জনসভায় যোগ দেন তিনি। আর সেখান থেকেই তৃণমূল সরকারকে বিদায় দেওয়ার স্লোগন তুলে সুর চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।

সিন্ডিকেট ও মাফিয়ারাজের অবসান
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে আসানসোলের কয়লা ও বালি চুরির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'আসানসোলে তৃণমূলের আমলে কয়লার কালোবাজারি বেড়েছে। কয়লা, বালি ও মাটি মাফিয়ারা সাধারণ মানুষের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিন্ডিকেট রাজের দাপটে নাজেহাল মানুষ। আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে কাজ করতে আসতেন, আর আজ এখানকার যুবকদের বাইরে কাজ খুঁজতে যেতে হচ্ছে।' একই সঙ্গে তাঁর সাফ কথা, এই নির্বাচন কেবলমাত্র সরকার গড়ার নয়, এই মাফিয়ারাজ থেকে মুক্তি পাওয়ার লড়াই। এরপরেই প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, 'বাংলায় তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে। বাংলায় পরের সরকার ডবল ইঞ্জিন সরকার হবে। ৪ মে-র পর বাংলা উন্নয়নের এক নতুন যুগে প্রবেশ করবে।'
অর্থনৈতিক অধঃপতন ও ডবল ইঞ্জিন সরকার
এদিন পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, 'গোটা দেশে উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু পিছিয়ে বাংলা। উন্নয়নের স্বার্থে তৃণমূলমুক্ত বাংলা চাই।' তিনি আরও জানান, '২০১১ সালে পরিবর্তন চেয়েছিলেন আপনারা। তৃণমূল কংগ্রেসকে ভরসা করেছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল সেই ভরসার দাম দেয়নি। আগে গোটা দেশ ১০০ টাকা উপার্জন করলে তার মধ্যে ১২ টাকা থাকত বাংলার, আজ সেটা ৫ টাকায় ঠেকেছে। তাঁর দাবি, 'তৃণমূল নির্মমতার সব সীমা পার করে দিয়েছে। ওদের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে।' এই অবস্থা থেকে ফিরতে ৪ মে-র পর বাংলায় ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার আসবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, 'মানুষের উৎসাহ, চারিদিকের পরিবেশ আর আবহাওয়া বলে দিচ্ছে বাংলায় পরিবর্তন আসছে। সব জায়গায় পরিবর্তনের তাজা হাওয়া চলছে। বাংলার উন্নয়ন চাইলে তৃণমূলকে সরাতে হবে। তৃণমূলমুক্ত বাংলাই নতুন দিশা দেবে। আগামী ৪ মে-এর পর নতুন যুগ শুরু হবে রাজ্যে। তখন থেকেই শুধু বিকাশ হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'এখন মানুষ আর শুধুমাত্র কথার ওপর ভরসা করছে না। কাজ এবং ট্র্যাক রেকর্ড দেখছে। আর এতে সবথেকে শক্তিশালী বিজেপি। বাংলার বিকাশ এবং উন্নয়নের ক্ষমতা আমাদেরই রয়েছে।' আসানসোলের উন্নয়নে বিজেপির পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই অঞ্চলের রেল যোগাযোগে প্রভূত উন্নতি হয়েছে। বন্দে ভারত ও অমৃত ভারত ট্রেনের সুবিধা পাচ্ছে মানুষ। তিনি বলেন, 'আসানসোল ও দুর্গাপুর ভারতের মেগা সিটি হওয়ার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু দূষণ, রাস্তাঘাট ও সেতুর বেহাল দশা বড় বাধা। বিজেপি ক্ষমতায় এলেই এলাকার প্রতিটি সমস্যার সমাধান হবে এবং ৪ মে-র পর বাংলা উন্নয়নের নতুন যুগে প্রবেশ করবে।'
মহিলা নিরাপত্তা ও দুর্নীতির অভিযোগ
এদিন ফের বাংলায় নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি বলেন, 'আরজি কর থেকে সন্দেশখালি-বাংলার পরিস্থিতি আজ কী হয়ে দাঁড়িয়েছে দেখুন। অপরাধীরা প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আর সরকার তাদের মদত দিচ্ছে।' তিনি আরও জানান যে, 'বাংলায় মহিলারা আর সুরক্ষিত নয়। অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তৃণমূল সরকার অপরাধীদের পক্ষে। মহিলাদের সুরক্ষা দিতে পারে বিজেপিই।' সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর হুঙ্কার, 'উন্নয়নের জন্য তৃণমূলমুক্ত বাংলা এখন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। যারা বাংলার সর্বনাশ করেছে, ৪ মে-র পর বেছে বেছে তাদের হিসাব হবে।'
বাম আমলের তুলনা ও পরিবর্তনের ডাক
তৃণমূলকে সতর্ক করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সিপিএম-ও একসময় ভয় ও আতঙ্ককে হাতিয়ার করেছিল। বাংলার মানুষ সেই ভয় কাটিয়ে তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এবার তৃণমূলও সেটাই করছে। মালদহে যা হল, তৃণমূল বিরাট ভুল করেছে। সিআরপিএফ-কে গালিগালাজ করছে। মানুষই এর জবাব হবে। বাংলায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা আর কেউ আটকাতে পারবে না। ৪ মে'র পর সব গুন্ডামির বেছে বেছে হিসাব নেওয়া হবে।' তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০১১ সালে মানুষ পরিবর্তনের আশায় তৃণমূলকে ভরসা করেছিল, কিন্তু বিনিময়ে জুটেছে কেবল অর্থনৈতিক অধঃপতন। বিজেপির ‘ট্র্যাক রেকর্ড’ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী মোদী আসানসোলবাসীকে আশ্বস্ত করেন যে, বাংলা বিকাশের ক্ষমতা একমাত্র তাঁদের দলেরই রয়েছে। চারপাশের আবহাওয়া পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, 'আগামী ৪ মে-র পর বাংলায় এক নতুন যুগের সূচনা হবে। তৃণমূলমুক্ত বাংলা গড়ার মাধ্যমেই রাজ্যে প্রকৃত উন্নয়ন এবং মহিলাদের নিরাপত্তা ফিরে আসবে।'
E-Paper

