'মাসোহারা নেয় পুলিশ!' প্রকাশ্য জনসভায় বিতর্কিত মন্তব্য, BJP বিধায়ক অশোক দিন্দাকে তলব

ইতিমধ্যেই বিজেপি বিধায়কের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে।

Published on: Feb 17, 2026, 22:39:40 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। এরই মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দাকে ফের তলব করল পুলিশ। কিন্তু, কেন তলব করা হল বিজেপি বিধায়ককে? একটি প্রকাশ্য জনসভায় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, এলাকায় পুলিশ নিয়মিত তোলা আদায় করছে। সেই মাসোহারা নাকি পুলিশ সুপারের মাধ্যমে পৌঁছে যাচ্ছে সরাসরি ‘কালীঘাটে।' ইতিমধ্যেই বিজেপি বিধায়কের সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে।

BJP বিধায়ক অশোক দিন্দাকে তলব (সৌজন্যে টুইটার)
BJP বিধায়ক অশোক দিন্দাকে তলব (সৌজন্যে টুইটার)

ঘটনার সূত্রপাত

পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায় অবস্থিত মৎস্য হাব পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম মৎস্য উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। যা রাজ্যের মাছের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে। রাজ্যের প্রধান বিরোধীদল বিজেপির অভিযোগ ছিল, ময়নায় আসা-যাওয়া মাছের গাড়ি থেকে টাকা তোলে পুলিশ। সম্প্রতি ময়নায় বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প সভামঞ্চ থেকে ময়নার দলের বিধায়ক অশোক দিন্দা অভিযোগ করে বলেন, 'মৎস্যজীবীদের গাড়ি থেকে যে হারে টাকা তোলে পুলিশ, সেই রেকর্ড ভিডিও সব রয়েছে। সন্ধ্যা হলেই স্কুটি নিয়ে তিনজন পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকে। প্রত্যেক মাছের গাড়ি থেকে ১০০, ২০০ টাকা তোলা হচ্ছে। ৫০ শতাংশ থানায় থাকছে আর বাকি ৫০ শতাংশ এসপি নিচ্ছেন।' এমনকী 'কালীঘাটে'ও টাকার ভাগ যাচ্ছে বলেও বিতর্কিত মন্তব্য করেন বিজেপি বিধায়ক। এমন দাবি ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

পুলিশের পদক্ষেপ

বিধায়কের মন্তব্য মোটেই ভালো চোখে দেখেনি পুলিশ প্রশাসন। জানা গিয়েছে, আদালতের অনুমতি নিয়ে নোটিশ পাঠানো হয় ময়নার বিধায়কের কাছে। পূর্ব মেদিনীপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে বলেন, 'ময়নার বিধায়কের একটি ভিডিও ক্লিপ আমাদের নজরে আসে। যেখানে বলা হচ্ছে এসপি পূর্ব মেদিনীপুর বিশেষ পেশার মানুষের কাছ থেকে মাসোহারা নেন। এরপরেই কোর্টের মাধ্যমে অনুমতি নিয়ে নোটিস পাঠানো হয়েছে। আইন মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।' তাঁর কথায়, 'আমাদের কাছে সম্মানটাই গুরুত্বপূর্ণ।' তবে পুলিশ সূত্রে খবর, বিধায়কের পক্ষ থেকে তাঁর আইনজীবী একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। সেখানে জানানো হয়েছে, অশোক দিন্দার এখনই হাজিরা দিতে পারবেন না। ফলে কিছু অতিরিক্ত সময় চাওয়া হয়েছে তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য। এই প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, 'অশোক দিন্দাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। উনি আসবেন কিন্তু সময় চেয়েছেন।'

যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ

এই বিতর্কে বিধায়কের প্রতিক্রিয়া জানতে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফোনে সাড়া না মেলায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে। এখন মূল প্রশ্ন—বিধায়ক তাঁর গুরুতর অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ দিতে পারবেন কি না। নাকি এই পুলিশ-বনাম-বিধায়ক সংঘাত গড়াবে বড়সড় আইনি লড়াইয়ের পথে।