প্রধান প্রতিপক্ষ বাম! CPM প্রার্থীর প্রশংসা করে বিজেপিকে নিশানা ইন্দ্রনীলের
চন্দননগরবাসীর উদ্দেশ্যে ইন্দ্রনীল সেন বলেন, 'আমার এখানে ২ লক্ষ ২০ হাজার ভোটারের জন্য বিগত দিনে যেভাবে কাজ করেছি, সে ভাবেই করব।'
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে চন্দননগরে। জ্যোতির মোড়ে সভা থেকে বিজেপিকে আক্রমণ শানাতে গিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন চন্দননগরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেন। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির প্রার্থী হতে গেলে বায়োডাটায় দেখা হয় কত বছর তৃণমূল করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর হাতে ছোঁয়া নাকি সব দলেই রয়েছে। এমনকী, তাঁদের প্রধান প্রতিপক্ষ যে বামেরা সে কথাও স্বীকার করেন রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী।

চন্দননগর জ্যোতির মোড়ে তৃণমূল প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেন সভা করেন। সেখানেই তিনি বলেন, 'কত বছর তৃণমূলের হয়ে কাজ করেছেন, বিজেপি প্রার্থী হতে গেলে সেটাই তার যোগ্যতামান। কেউ পাঁচ বছর, কেউ তিন বছর, কেউ দু’বছর। উত্তরবঙ্গের নিশীথ প্রামাণিক থেকে অর্জুন সিং, শুভেন্দু অধিকারী সবার বায়োডাটা দেখুন। তৃণমূল করেছে যারাই, তারাই বিজেপির প্রার্থী। সুতরাং তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতের ছোঁয়া সব দলেই রয়েছে। উনিই ঠিক করেন কে প্রার্থী হবেন, কে জয়যুক্ত হবে কে মন্ত্রী হবেন।' এরপরই ইন্দ্রনীলের সংযোজন, 'নরেন্দ্র মোদী আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুজনেই লাইনে বিশ্বাস করেন। মোদীর লাইনে আধার গ্যাস লিঙ্ক করতে হয়, তারপর এসআইআর-এও লাইন দিতে হবে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লাইনের মধ্যে দিয়ে যুবসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পায়, মানবিক ভাতা পায়। মমতার লাইনে একশো প্রকল্প পায় আর মোদীর লাইনে মানুষ হয়রান হয়।'
চন্দননগরবাসীর উদ্দেশ্যে ইন্দ্রনীল সেন বলেন, 'আমার এখানে ২ লক্ষ ২০ হাজার ভোটারের জন্য বিগত দিনে যেভাবে কাজ করেছি, সে ভাবেই করব। এই চন্দননগর আরও এগোবে। যাকে খুশি ভোট দিন। কিন্তু ভোট দেওয়ার আগে একবার ভাবুন কী কী পান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের জন্য প্রকল্প করেননি। তাহলে স্কুলের ছেলে মেয়েরা এত সুবিধা পেত না।' এখানেই শেষ নয়, রাজ্যে যে দলটা শূন্য সেই বামেদেরও প্রধান বিরোধী মনে করেন রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী। খুল্লামখুল্লা সভামঞ্চ থেকে তিনি বলেন, 'আমাদের প্রতিপক্ষ বিজেপি নয়। আমাদের প্রতিপক্ষ বামফ্রন্ট। শুনেছি এখান থেকে যিনি দাঁড়িয়েছেন তিনি খুব ভদ্র মানুষ। তাই ওঁকে বলব…রামবাম এক হয়ে গিয়েও আপনারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে পারবেন না।' বস্তুত, তৃণমূল বরাবর অভিযোগ করে, বামেদের ভোট গিয়ে পড়ে রামে। শুধু তৃণমূল নয়, সম্প্রতি বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্যও একপ্রকার মেনে নিয়েছিলেন সিপিএম-এর ভোট যাচ্ছে বিজেপিতে। সেই কারণে বিজেপির মার্জিন বাড়ছে। বাম ও বিজেপির এই ‘আতাঁতের’ কথাই এদিন উল্লেখ করতে চেয়েছেন ইন্দ্রনীল বলে মনে করছে রাজনীতিবিদদের একাংশ।
E-Paper

