'আপাতত এইটুকু!' দলবদলের প্রভাব ব্যক্তিগত জীবনে? গুঞ্জনের মধ্যে অবস্থান স্পষ্ট প্রতীকের

প্রতীক উর রহমান ও শিরিন সুলতানার পরিচয় কলেজ জীবন থেকেই। এসএফআই রাজনীতির সূত্রে একসঙ্গে আন্দোলন, মিছিল, সভা-সেই পথ ধরেই সম্পর্কের গভীরতা।

Published on: Feb 23, 2026, 18:16:11 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রাজনৈতিক জীবনে ওঠাপড়ার প্রভাব কী ব্যক্তিগত জীবনেও? দলবদলের পর থেকেই রাজনৈতিক ঝড়ের মুখে ডায়মন্ড হারবারের তরুণ নেতা প্রতীক উর রহমান। সিপিএম ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে যেমন রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তেমনই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে ‘রেনেগেড’, ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে একাংশ বাম সমর্থকদের তরফে। এই আবহেই হঠাৎ ফেসবুকে পরিবারের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখলেন, 'আপাতত এইটুকু।'

গুঞ্জনের মধ্যে অবস্থান স্পষ্ট প্রতীকের (সোশ্যাল মিডিয়া)
গুঞ্জনের মধ্যে অবস্থান স্পষ্ট প্রতীকের (সোশ্যাল মিডিয়া)

রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু

বিগত কয়েক বছর ধরে রাজ্যে সিপিএম শূন্য হলেও এই মুহুর্তে বিধানসভা ভোটের আগে খবরের শিরোনামে এখন শুধুই লাল শিবির, আর এর অন্যতম কারণ হল প্রতীক উর রহমান। কিছুদিন আগেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কার্যকলাপ নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ-সহ জেলা ও রাজ্য কমিটির সমস্ত দায়িত্ব ছেড়ে চিঠি দিয়েছিলেন প্রাক্তন এই সিপিএম নেতা। তখনই জল্পনা শুরু হয়েছিল তাঁর তৃণমূলে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে। আর সেই জল্পনাকে সত্যি করে শনিবার আমতলায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে সর্বভারতীয় দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে শাসক দলে যোগ দেন প্রতীক উর রহমান। দলবদলের পরপরই সিপিএম তাঁকে বহিষ্কার করে। এরপর থেকেই রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চা

তবে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি প্রতীক উর রহমানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও শুরু হয় জল্পনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি ওঠে, প্রতীকের দলবদলে নাকি অখুশি তাঁর স্ত্রী শিরিন সুলতানা, যিনি নিজেও ছাত্রজীবন থেকে বাম রাজনীতির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এমনকী সংসারে অশান্তি চরমে উঠেছে বলেও পোস্ট ছড়ায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক পোস্টে দেখা যাচ্ছে, স্বামীর সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া মোটেই মেনে নিতে পারেননি প্রতীকের রাজনৈতিক সতীর্থ এবং জীবনসঙ্গিনী শিরিন সুলতানা। এনিয়ে দাম্পত্য অশান্তি বাড়তে থাকায় অভিমানে শিরিন নাকি ঘর ছেড়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব পোস্টের সত্যতা কতটা? এই প্রসঙ্গে 'সংবাদ প্রতিদিন'কে শিরিন সুলতানা বলেছেন, 'এসবই রটনা, ইচ্ছে করে এসব কথা ছড়ানো হচ্ছে। যাঁরা এসব করছে, তাঁরা আমাদের ভালো চায় না।'

প্রতীক উর রহমানের পোস্ট

এই প্রেক্ষাপটেই রবিবার রাতে প্রতীক উর রহমান নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বিছানায় বসে তৃণমূল নেতা, তাঁর স্ত্রী শিরিন ও তাঁদের মেয়ে। সন্তানকে পড়াচ্ছেন শিরিন। ক্যাশপনে লেখেন, ‘আপাতত এটুকুই।' রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সংক্ষিপ্ত বার্তার মধ্যেই একাধিক স্তরের ইঙ্গিত রয়েছে। প্রথমত, পরিবার তাঁর পাশে আছে, এই বার্তা স্পষ্ট করতে চেয়েছেন তিনি। দ্বিতীয়ত, লাগাতার আক্রমণের মুখে ব্যক্তিগত পরিসরকে সামনে এনে তিনি যেন বলতে চেয়েছেন, রাজনৈতিক মতান্তর মানেই ব্যক্তিগত ভাঙন নয়।

প্রতীক ও শিরিনের পরিচয় কলেজ জীবন থেকেই। এসএফআই রাজনীতির সূত্রে একসঙ্গে আন্দোলন, মিছিল, সভা-সেই পথ ধরেই সম্পর্কের গভীরতা। পরবর্তীতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা। সংসারের দায়িত্ব সামলিয়েও প্রতীক ‘হোলটাইমার’ হিসেবে রাজনীতিতে সময় দিয়েছেন। শিরিনও নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন। তাই দলবদলের পর তাঁদের দাম্পত্যে ফাটল ধরেছে-এমন দাবি যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রচার, সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন প্রতীক উর? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, তাঁর পোস্ট আসলে এক নীরব জবাব সমালোচকদের উদ্দেশ্যে নয়, বরং সমর্থকদের আশ্বস্ত করতে। তবে এই মুহূর্তে প্রতীকের ফেসবুক বার্তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।