'সেলিমদাকে দেখলেই প্রথমে...,' TMC যোগের সপ্তাহ পেরনোর আগেই 'ক্ষমাপ্রার্থী' প্রতীক উর, কিন্তু কেন?

প্রতীক উর রহমানের কথায় স্পষ্ট, উনি জানেন তাঁর সিদ্ধান্ত সহযোদ্ধাদের মতোই বাম কর্মী-সমর্থকদের আঘাত করেছে।

Published on: Feb 25, 2026, 18:22:00 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেই লড়েছিলেন তিনি। ঘটনাচক্রে বছর দুয়েক পর সেই ‘বিরোধী’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই হয়েছেন তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। গত শনিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে আমতলার দলীয় কার্যালয়ের সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন প্রতীক উর রহমান। একই সঙ্গে সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকেও ‘গব্বর সিং’ বলে তোপ দেগেছেন তিনি। তারপর থেকে স্বাভাবিকভাবেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বাম নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। অনেকেই আবার সুকৌশলে বিষয়টা এড়িয়ে যাচ্ছেন। এবার তাঁদের মন ভাঙার জন্য একটি সাক্ষাৎকারে ক্ষমা চাইলেন প্রতীক উর। শুধু তাই নয়, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে দেখা হলে তাঁর হাত ধরে ক্ষমা চাইবেন তিনি।

তৃণমূলে যোগদানের দিন প্রতীক উর রহমান। (ছবি সৌজন্যে তৃণমূল কংগ্রেস)
তৃণমূলে যোগদানের দিন প্রতীক উর রহমান। (ছবি সৌজন্যে তৃণমূল কংগ্রেস)

সিপিএমের রাজ্য ও জেলা কমিটি থেকে পদত্যাগ, দলের রাজ্য সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে শিরোনামে ডায়মন্ড হারবারের প্রতীক উর রহমান। পদত্যাগের চিঠি প্রকাশ্যে আসার পরই কানাঘুষো শুরু হয় তিনি তৃণমূলে যোগ দিতে চলেছেন। গত ২১ ফেব্রুয়ারি জল্পনায় সিলমোহর পড়েছে। খোদ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলের পতাকা হাতে নিয়েছেন প্রতীক উর। তারপর থেকেই তাঁকে নিয়ে কাটাছেঁড়া চরমে উঠেছে। এই আবহে এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতীক উরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যদি বন্ধ ঘরে মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে দেখা হয় কী করবেন? তাঁর জবাবে প্রতীক উর বলেন, 'সেলিমদাকে দেখলেই প্রথমে জিজ্ঞেস করব, ভাল আছেন? তারপর হাতদুটো ধরে বলব, ক্ষমা করে দিন। আপনার শেষ কথাগুলো আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।' শুধু তাই নয়, দলের একদা সহকর্মীদের কাছেও তিনি ক্ষমা চাইবেন বলে জানিয়েছেন।

প্রতীক উরের কথায় স্পষ্ট, উনি জানেন তাঁর সিদ্ধান্ত সহযোদ্ধাদের মতোই বাম কর্মী-সমর্থকদের আঘাত করেছে। তাঁকে দেখে যারা শাসকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার সাহস দেখিয়েছিলেন, তাঁদের কাছে 'অপরাধী' হয়ে গিয়েছেন তিনি। প্রতীক উর বলেন, 'জানি হয়তো ওরা পারবেন না, তাও বলব ক্ষমা করে দিন।' এতেই একাংশ মনে করছে তৃণমূলে যোগ দিয়েই নাকি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন তরুণ তুর্কী। কিন্তু তা মানতে রাজি নন প্রতীক উর। তাঁর কথায়, '২০ বছর তো সিপিআইএমকে দিয়েছি। তাও প্রশ্ন করতে পারিনি। আগামী ২০-৩০ বছর তৃণমূলকে দেব। দেখি না প্রশ্ন করতে পারি কি না। আমি ১০০ শতাংশ দিয়ে আগেও দল করেছি। এখনও করব। মানুষের জন্য কাজ করব। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যেন মানুষ পায় তা দেখব।' অর্থাৎ তিনি যে তৃণমূলের সঙ্গেই আছেন, থাকবেন, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রতীক উর। যদিও অনেকেই দাবি করছেন, মোটা টাকার বিনিময়ে নাকি তৃণমূল কিনে নিয়েছে প্রতীক উরকে। জবাবে প্রাক্তন বামনেতা বলেন, 'আমার যেটা মূল মোবাইল নম্বর, সেই নম্বরে ইনকামিং এখন বন্ধ। কারণ রিচার্জ করার পয়সা নেই। টাকা পেলে রিচার্জটা অন্তত করতাম।' অর্থাৎ সমালোচনাকারীদের অভিযোগকে যে তিনি মোটেও পাত্তা দিচ্ছেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রতীক উর রহমান।