West Bengal Election: নবান্নের ক্ষমতায় কে?ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা-নিশ্ছিদ্র পাহারায় 'দুর্ভেদ্য দুর্গে' ভোটগণনার প্রস্তুতি
West Bengal Election 2026: রাজ্যের সমস্ত গণনা কেন্দ্রগুলিই কার্যত দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছে। আগে ঠিক হয়েছিল গোটা রাজ্যে ৮৭টি গণনা কেন্দ্রে হবে কাউন্টিং। কিন্তু সম্প্রতি সেই সংখ্যা কমে হয়েছে ৭৭।
West Bengal Election 2026: রাত পোহালেই ভোটের ফল। শেষ হাসি হাসবে কে? এই প্রশ্নে এখন তুঙ্গে বঙ্গ রাজনীতির পারদ। দুই দফায় (২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল) সম্পন্ন হওয়া নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে রাজ্যজুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইভিএম ও ভিভিপ্যাটে বন্দি জনমত শেষ পর্যন্ত কাকে নবান্নের ক্ষমতায় বসাবে, তার চূড়ান্ত ইঙ্গিত মিলবে সোমবার দুপুরের মধ্যেই। এই আবহে শান্তিপূর্ণ গণনা নিশ্চিত করতে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের ভাগ্য যেখানে বন্দি রয়েছে, সেই স্ট্রংরুমগুলিকে কার্যত দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করল নির্বাচন কমিশন। সিসিটিভি ক্যামেরা, ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় আর কয়েক হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে মুড়ে ফেলা হয়েছে রাজ্যের প্রতিটি গণনাকেন্দ্র। এই মুহূর্তে রাজ্যজুড়ে গণনা কেন্দ্রগুলিতে চলছে শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত প্রস্তুতি।

স্ট্রংরুমের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা
রাজ্যের সমস্ত গণনা কেন্দ্রগুলিই কার্যত দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছে। আগে ঠিক হয়েছিল গোটা রাজ্যে ৮৭টি গণনা কেন্দ্রে হবে কাউন্টিং। কিন্তু সম্প্রতি সেই সংখ্যা কমে হয়েছে ৭৭। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গভর্নমেন্ট গার্লস হাইস্কুলে ভবানীপুর কেন্দ্রের স্ট্রং রুম। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় রয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্য পুলিশের কড়া নজরদারি। রয়েছে রাজ্যের সশস্ত্র পুলিশও। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গণনা কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। ফলে সেখানে যে কোনও ধরনের জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। গণনা কেন্দ্রের প্রস্তুতিও শুরু করেছেন কর্মীরা। সিকিউরিটি জোন-সহ বিভিন্ন ব্যবস্থার চলছে আয়োজন। আগামিকাল সকাল ৮টা থেকে এখানেই নির্বাচনের ভরকেন্দ্র ভবানীপুর বিধানসভার গণনা শুরু হবে।
চুঁচুড়া এইচআইটি কলেজে স্ট্রংরুম ও গণনা কেন্দ্রের সামনেও কড়া নিরাপত্তা রয়েছে। স্ট্রং রুমের সামনে আধা সামরিক বাহিনী, দ্বিতীয় স্তরেও বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। গণনা কেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে রয়েছে রাজ্য পুলিশ। চন্দননগর পুলিশের পক্ষ থেকে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে গণনা কেন্দ্রে চলছে তল্লাশি। রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি প্রার্থীরা এসে খাতায় সই করে স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা দেখে যাচ্ছেন। পুরোদমে চলছে সিসিটিভি নজরদারিও। অন্যদিকে, কড়া নিরাপত্তার চাদরে মোড়া বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়। এই কেন্দ্রে বাঁকুড়া, ছাতনা, ওন্দা, বড়জোড়া এবং শালতোড়া বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনা হবে। গোটা চত্বর কেন্দ্রীয় বাহিনীর ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে মোড়া হয়েছে। একদম বাইরে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে রাজ্য পুলিশ। রবিবার সকাল থেকেই হিঙ্গলগঞ্জ-সহ বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় জওয়ানদের টহল চলছে।
সব জায়গাতেই তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির নির্বাচনী এজেন্টরা একনাগাড়ে পাহারায় বসে আছেন। গণনা চলাকালীন বা তার আগে-পরে যাতে কোনও এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি না হয় তার জন্য দিকে দিকে চলছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চ। এই আবহে গণনার আগে সাংগঠনিক স্তরে নজরদারি অটুট রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে শাসক দল। জেলায় জেলায় প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। এর অঙ্গ হিসেবে রবিবার সকালে হেলিকপ্টারে বহরমপুর স্টেডিয়ামে পৌঁছান তৃণমূল নেতা সুখেন্দু শেখর রায় এবং প্রতীক উর রহমান। বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব পাওয়া এই দুই শীর্ষ নেতা জেলার স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে গণনার কৌশল নিয়ে বিশেষ বৈঠক করবেন বলে জানা গিয়েছে।
সব মিলিয়ে, গণনার দিন পর্যন্ত পুরো রাজ্যই এখন এক নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা।
E-Paper

