হাওড়ায় শুট-আউট! পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলিতে ঝাঁঝরা প্রোমোটার, হুলুস্থূল

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গোলাবাড়ি থানার পুলিশ। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।

Updated on: Feb 25, 2026, 14:38:36 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ছাব্বিশের মহারণ নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি, ভোট প্রচারের প্রস্তুতিতে মেতেছে শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। কমতি রাখছে না কর্মসূচিতে, যদিও বিধানসভার নির্বাচনের দিন এখনও ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। আর এই অবস্থায় বুধবার ভোরে হাওড়ার গোলাবাড়ি এলাকায় শুটআউটে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রমজানের পবিত্র ভোরে যখন শহর সবে জেগে উঠছে, ঠিক তখনই এক যুবককে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুনের অভিযোগ উঠেছে দুই দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। আর এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য ধরা পড়েছে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে, যা দেখে শিউরে উঠছেন স্থানীয়রা।

পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলিতে ঝাঁঝরা প্রোমোটার
পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলিতে ঝাঁঝরা প্রোমোটার

প্রোমোটারকে খুন

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত যুবকের নাম শফিক খান। বয়স আনুমানিক ২৭। পেশায় তিনি প্রোমোটার ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, রমজান মাস চলায় বুধবার ভোরে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন শফিক। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, পিলখানা মোড়ে হারুন ও রোহিত নামে দুই তরুণের সঙ্গে তাঁকে কথা বলতে দেখা যায়। পাশে ছিলেন আরও কয়েকজন। কথা বলতে বলতেই আচমকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে শফিকের মাথা ও বুক লক্ষ্য করে পরপর ৪ রাউন্ড গুলি চালায় অভিযুক্তরা। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন শফিক। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একাধিক রাউন্ড গুলি চালানোর পর ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায় আততায়ীরা। ঘটনার পর এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

তদন্তে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গোলাবাড়ি থানার পুলিশ। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। পদস্থ আধিকারিকরাও সেখানে যান। ইতিমধ্যে খুনের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে এবং তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কী কারণে এই খুন, তা জানার চেষ্টা চলছে। নিহতের ভাই জাহিদ খানের অভিযোগ, 'হারুন খান ও রোহিত নামে এলাকার দুই জেল ফেরত দুষ্কৃতী দাদাকে গুলি করে খুন করেছে। এই দুই দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিক পুলিশ।' প্রমোটিং সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই এই খুন হয়েছে বলে স্থানীয়দের প্রাথমিক অনুমান। তাঁদের দাবি, রোহিত এবং হারুন নামে দু’জন এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। এদিকে, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর মহম্মদ রুস্তম খান ঘটনাস্থলে গিয়ে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শফিক এলাকায় ভালো ছেলে বলেই পরিচিত ছিল। ভরা রাস্তায় এভাবে খুনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।’

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, প্রোমোটারি সংক্রান্ত পুরোনো শত্রুতা বা আর্থিক লেনদেনের বিবাদ থেকেই এই খুন। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। আকাশ মেঘারিয়া, হাওড়ার পুলিশ কমিশনার, জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দুই অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা বর্তমানে পলাতক এবং তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। অন্যদিকে, ভরা রাস্তায় এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে প্রবল ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত বিচার ও দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এই ঘটনায় রাজনৈতিক কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন এলাকার বিধায়ক গৌতম চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, ব্যক্তিগত বিবাদের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। পুরো বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।