‘মরে যেতাম!’ গাড়িতে ছোঁড়া হল চটি-কাদা, বীজপুরে বিক্ষোভের মুখে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী

Mamata Banerjee: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এদিন ছিলেন লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। বিক্ষোভের মুখে পড়ে তাঁরাও রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

Published on: Aug 9, 2026, 16:20:35 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Mamata Banerjee: পুলিশি হেফাজতে এক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বীজপুরে তীব্র বিক্ষোভের সম্মুখীন হলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রবিবার তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন স্থানীয়রা। অভিযোগ, সে সময় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও ছেঁড়া চটি ছোড়া হয় এবং ‘চোর-চোর’ স্লোগানও দেওয়া হয়।

বীজপুরে বিক্ষোভের মুখে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী (MAMATA BANERJEE SOCIAL MEDIA)
বীজপুরে বিক্ষোভের মুখে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী (MAMATA BANERJEE SOCIAL MEDIA)

এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, শাসক দলের মদতপুষ্ট ‘গুন্ডা’ ও ‘লুম্পেন’রাই এই বিক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, পুলিশ এই বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা দিচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘নিরাপত্তা ভুলে যান। লুম্পেনদের প্রোটেকশন দিচ্ছে পুলিশ! বাংলা তো লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। আমরা কেস করব।’ গাড়িতে ইট ছোড়ার অভিযোগ তুলে তিন বারের মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমার মাথা ফেটে যেত। এখানে মরে যেতাম। পুলিশ বিজেপিকেই প্রোটেকশন দিচ্ছে।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এদিন ছিলেন লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) এবং রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন (Dola Sen)। বিক্ষোভের মুখে পড়ে তাঁরাও রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ দিয়ে রাজত্ব চালাচ্ছেন। মাফিয়াদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।’ পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বীজপুরের রাস্তায় পুলিশকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি ঘিরে রাখতে হয়।

অন্যদিকে, বিজেপির (BJP) পাল্টা দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এলাকায় প্ররোচনা সৃষ্টি করতে এসেছিলেন এবং সাধারণ মানুষ তার প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শকুনের মতো মৃতদেহ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। কালকে ঘটনা ঘটেছে। যদি কোনও এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে অবশ্যই শাস্তি হবে। এখন গোটা বাংলার মানুষ শান্তিতে বাস করছেন তাই চোরকে তো চোরই বলবে।' বলে রাখা প্রয়োজন, গত ৪ মে-র পর এই প্রথম জেলায় এলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে নিজের বাড়ির সামনে মিটিং মিছিল করেছিলেন ঠিকই, একবার কলকাতা হাইকোর্ট যাওয়ার পথে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। তবে, কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে এই প্রথম পথে নামলেন তিনি।

উল্লেখ্য, তোলাবাজির অভিযোগে হালিশহর থানার পুলিশ কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামী বিরজু কেওটকে গ্রেফতার করেছিল। শুক্রবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। বিচারক তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। কিন্তু শনিবার জানা যায়, পুলিশ হেফাজতেই কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামী বিরজু কেওটকের মৃত্যু হয়। মৃতের পরিবারের দাবি, লকআপের ভেতরে পুলিশি মারধরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। রবিবার বিরজু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘এ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে আর কিছু নেই।’