রাতারাতি দাদু হয়ে গিয়েছেন বাবা! BLOর বাড়ি ঘেরাওয়ে ডোমজুড়ে উত্তেজনা, অবরোধ রাস্তা
শনিবার সকালে ক্ষুব্ধ ভোটাররা বিএলও কবিতা সাঁতরা সাহার বাড়ি ঘেরাও করে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ দেখান।
ভোটার তালিকায় গুরুতর ত্রুটির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল হাওড়ার ডোমজুড়ের মহিয়ারিতে। অভিযোগ, ভোটার তালিকায় প্রায় ২০০ ভোটারের বাবার নামের জায়গায় দাদুর নাম ঢুকে গিয়েছে। তাই সকলেরই ডাক পড়েছে এসআইআর শুনানিতে। এই ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকালে সাঁকরাইল বিধানসভার অন্তর্গত মহিয়াড়ি দু’নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৩ নম্বর পার্টের ভোটাররা বিএলও-র বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে বাড়ি সংলগ্ন রাস্তাও অবরোধ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার খসড়ায় তাঁদের নাম সঠিকভাবেই উঠেছিল। তবু সংশোধনের জন্য তাঁদের শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। এলাকার প্রায় ৫০০ ভোটারের মধ্যে অন্তত ২০০ জনের ক্ষেত্রে বাবার নামের জায়গায় দাদুর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর ফলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। শনিবার সকালে ক্ষুব্ধ ভোটাররা বিএলও কবিতা সাঁতরা সাহার বাড়ি ঘেরাও করে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ দেখান। পাশাপাশি মহিয়ারি রোড অবরোধ করে প্রতিবাদে সামিল হন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই ধরনের ভুলের জন্য ভোটারদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং অযথা শুনানির মুখোমুখি হতে বাধ্য করা হচ্ছে। এলাকার প্রায় পাঁচশো ভোটারের মধ্যে দু’শো ভোটারের ক্ষেত্রে বাবার নামের জায়গায় দাদুর নাম ঢুকে গিয়েছে। অভিযোগ, বিএলও-র ভুলে এই সমস্যা।
বিএলও জানান, কাজ করতে গিয়ে প্রায় ১১০ জনের ক্ষেত্রে এই ধরনের ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে তিনি আশ্বাস দেন, শুনানির মাধ্যমে সমস্ত ভুল সংশোধন করা হবে। বিএলওর আশ্বাসের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে এলাকার ভোটারদের দাবি, দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে ভোটার তালিকার সংশোধন করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। অন্যদিকে, শনিবারই শুনানি কেন্দ্রে হাজিরা দেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লা। দুপুরে পিলখানার কাছে ব্রিজ় অ্যান্ড রুফ কারখানার শুনানি কেন্দ্রে কাগজপত্র নিয়ে হাজিরা দেন। শুনানি থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, ‘গত ৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে শুনানির নোটিস পেয়েছিলাম। সেই অনুযায়ী, শুনানিতে এসেছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এবং ভারতীয় সংবিধানের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা আছে। আশা করছি, এসআইআর দেশের ভালর জন্যই হচ্ছে।’ তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক জানান, ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় তাঁর বাবার নাম ছিল না। হয়তো সেই কারণে তাঁকে ডাকা হয়েছে। শুনানির নোটিস পেয়েছেন বাবা, দাদা এবং স্ত্রীও। তবে বাবা অসুস্থ। তিনি শুনানিকেন্দ্রে যেতে পারেননি।
E-Paper











