বই বিক্রির টাকা গেল কোথায়? রয়্যালটি না পেয়ে ক্ষোভ মমতার, পাল্টা ব্যাখ্যা প্রকাশকদের

মঙ্গলবার ফেসবুক লাইভে নানা রাজনৈতিক প্রসঙ্গের পাশাপাশি নিজের আর্থিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন মমতা। তিনি বলেন, 'আমি এক পয়সা মাইনে নিইনি। এক পয়সা পেনশনও নিইনি। আমার বইয়ের রয়্যালটি দিয়েই আমার চলে। কিন্তু এ বছর এখনও পর্যন্ত সেই রয়্যালটিও পাইনি।'

Published on: Aug 6, 2026, 08:12:33 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Publishers on Mamata's Book Royalty: বেতন বা পেনশন কোনও দিনই নেননি। বইয়ের রয়্যালটি এবং ছবি বিক্রির অর্থেই তাঁর ব্যক্তিগত খরচ চলে— মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন একাধিকবার এমন দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার সেই রয়্যালটি নিয়েই প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত বই বিক্রির রয়্যালটির এক টাকাও হাতে পাননি। এর নেপথ্যে বিজেপির প্রভাব থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাঁর বইয়ের প্রকাশকরা।

মমতার অভিযোগ, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত বই বিক্রির রয়্যালটির এক টাকাও হাতে পাননি। (MAMATA BANERJEE SOCIAL MEDIA)
মমতার অভিযোগ, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত বই বিক্রির রয়্যালটির এক টাকাও হাতে পাননি। (MAMATA BANERJEE SOCIAL MEDIA)

মঙ্গলবার ফেসবুক লাইভে নানা রাজনৈতিক প্রসঙ্গের পাশাপাশি নিজের আর্থিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন মমতা। তিনি বলেন, 'আমি এক পয়সা মাইনে নিইনি। এক পয়সা পেনশনও নিইনি। আমার বইয়ের রয়্যালটি দিয়েই আমার চলে। কিন্তু এ বছর এখনও পর্যন্ত সেই রয়্যালটিও পাইনি।'

মমতার দাবি, কলকাতা বইমেলায় তাঁর বই যথেষ্ট বিক্রি হয়েছে। পাঠকেরা ‘জাগো বাংলা’ স্টল থেকেও বই কিনেছেন। তা সত্ত্বেও রয়্যালটির টাকা এখনও তাঁর হাতে পৌঁছয়নি। কেন এমন হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, 'নিশ্চয়ই বিজেপির ভয়ে তারা মুখ বন্ধ করে বসে রয়েছে। এর পিছনে কোনও খেলা রয়েছে বলেই আমার মনে হচ্ছে।'

রাজনীতির পাশাপাশি লেখালিখির জগতেও দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কবিতা, প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা-সহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। ‘কথাঞ্জলি’, ‘কবিতাঞ্জলি’, ‘কবিতা বিতান’-এর মতো বই পাঠকমহলেও পরিচিত। সেই সব বইয়ের বিক্রির রয়্যালটিই তাঁর ব্যক্তিগত আয়ের অন্যতম উৎস বলে বহুবার জানিয়েছেন তিনি।

তবে মমতার অভিযোগের সঙ্গে একমত নন প্রকাশকরা। তাঁর বইয়ের অন্যতম প্রকাশনা সংস্থা ‘দে’জ পাবলিকেশন’ জানিয়েছে, রয়্যালটি আটকে রাখার কোনও প্রশ্নই নেই। প্রতি বছর নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই বই বিক্রির হিসেব করা হয়। জুন ও জুলাই মাসে সেই হিসেব সম্পূর্ণ হওয়ার পরে অগস্ট মাসে লেখকদের রয়্যালটির অর্থ পাঠানো হয়। এ বছরও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে সংস্থার দাবি।

অন্য প্রকাশনা সংস্থা ‘বি বুকস’-ও জানিয়েছে, রয়্যালটি দেওয়ার বিষয়ে তাদের কোনও আপত্তি নেই। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রয়্যালটির বিষয়টি এতদিন যাঁরা দেখভাল করতেন, তাঁদের সঙ্গে সম্প্রতি যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফোন নম্বরও বদলে গিয়েছে। সেই কারণেই অর্থ পাঠাতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। যোগাযোগ পুনরায় স্থাপিত হলেই রয়্যালটির অর্থ মিটিয়ে দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ফলে রয়্যালটি না-পাওয়াকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক অভিযোগ তুলেছেন মমতা, তার সঙ্গে প্রকাশকদের বক্তব্যে স্পষ্ট ফারাক দেখা দিয়েছে। একদিকে তৃণমূলনেত্রীর অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে রয়্যালটি আটকে রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে প্রকাশকদের দাবি, বিষয়টি পুরোপুরি প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।

সব মিলিয়ে, বইয়ের রয়্যালটি ঘিরে মমতার অভিযোগ নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে প্রকৃত কারণ রাজনৈতিক, নাকি শুধুই হিসেবনিকেশ ও যোগাযোগের জট- তা নিয়ে এখন শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More