রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো নয়, বিকল্প ৫০ ঘাট তৈরি দক্ষিণ কলকাতায়, বিতর্কে অবস্থান বদল অগ্নিমিত্রার
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার। কলকাতা ও হাওড়ার বিভিন্ন গঙ্গার ঘাট পরিদর্শনে গিয়ে অগ্নিমিত্রা জানিয়েছিলেন, এ বছর রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরেও ছটপুজোর অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনা করেই এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে এ বছর ছটপুজো করা নিয়ে বিতর্কের জেরে অবস্থান বদল করল রাজ্য সরকার। দক্ষিণ কলকাতায় ছটপুজোর জন্য অন্তত ৫০টি বিকল্প জলাশয় ও ঘাট তৈরি রাখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পরিবেশ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কোনও পদক্ষেপ করা সম্ভব নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। ফলে রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজোর অনুমতি দেওয়ার প্রাথমিক ভাবনা থেকে সরে এসে বিকল্প ঘাট তৈরির উপরেই জোর দিচ্ছে সরকার। শহরের ছটব্রতীদের যাতে পুজো করতে অসুবিধা না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার। কলকাতা ও হাওড়ার বিভিন্ন গঙ্গার ঘাট পরিদর্শনে গিয়ে অগ্নিমিত্রা জানিয়েছিলেন, এ বছর রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরেও ছটপুজোর অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনা করেই এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, দীর্ঘদিন ধরে সরোবর দুটিতে ছটপুজো বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সমস্যায় পড়তে হয়। তাই তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
কিন্তু মন্ত্রীর এই মন্তব্য সামনে আসতেই আপত্তি জানান পরিবেশবিদদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজো বন্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে জাতীয় পরিবেশ আদালতের। এই নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টও বহাল রেখেছে। এমনকি বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। ফলে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে নতুন করে পুজোর অনুমতি দেওয়া যায় না। পরিবেশবিদ সুবাস দত্ত, মোহিত রায় এবং সোমেন্দ্রমোহন ঘোষের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। কেএমডিএ-র কাছেও আপত্তি জানান তাঁরা।
এর পরেই বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে শুরু করে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। বুধবার দক্ষিণ কলকাতার যোধপুর পার্কের কাছে একটি জলাশয় পরিদর্শন করেন অগ্নিমিত্রা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দপ্তরের আধিকারিকেরা। সেখানে গিয়ে মন্ত্রী জানান, রবীন্দ্র সরোবরে অনুমতি না মিললে দক্ষিণ কলকাতায় ৫০টি জলাশয় ও ঘাটে ছটপুজোর ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর কথায়, পরিবেশের বিষয়টি মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আদালতের নির্দেশের বাইরে গিয়ে কোনও কাজ করা সম্ভব নয়।
কেএমডিএ-র ইঞ্জিনিয়ারেরা ইতিমধ্যেই বিকল্প ঘাট তৈরির বিষয়ে একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা জমা দিয়েছেন। পাটুলি, নোনাডাঙা, যোধপুর পার্ক এবং পোদ্দারনগরের মতো এলাকায় আগে থেকেই বিকল্প জলাশয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এ বার আরও বেশি জায়গায় পুণ্যার্থীদের জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ৫০টি জলাশয়কে ছটপুজোর উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ঘাটগুলিতে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে। পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য অস্থায়ী রাস্তা, পোশাক পরিবর্তনের ঘর, বায়ো টয়লেট এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ঘাটে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দিকেও নজর দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে জাতীয় পরিবেশ আদালত রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। জলদূষণ, শব্দদূষণ এবং দুই সরোবরের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল। ২০২০ সালে কলকাতা হাই কোর্টও সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে। ১৯ নভেম্বর ২০২০ সুপ্রিম কোর্টও ওই নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি। এবার ছটপুজো ঘিরে বিতর্কের মাঝেই বিকল্প ৫০টি ঘাট তৈরির সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য। ফলে সরোবর দুটিকে ঘিরে আইনি জটিলতা এড়িয়ে পুণ্যার্থীদের জন্য উৎসবের ব্যবস্থা করাই এখন সরকারের লক্ষ্য।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


