Raj Bhavan Search Op: অস্ত্র মজুতের অভিযোগ বেনজির তল্লাশি রাজভবনে! মেলেনি কিছুই, শাস্তি পাবেন কল্যাণ?
Raj Bhavan Search Op For Kalyan Comment: অস্ত্র মজুতের অভিযোগে এবার রাজভবনে বেনজির তল্লাশি হল। যা ইতিপূর্বে কখনও হয়েছে বলে মনে করতে পারছেন না কেউ। কল্যাণের মন্তব্যের জন্য কি তাঁকে বিপদে পড়তে হতে পারে?
বেনজির ঘটনার সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গের রাজভবন। সাংসদের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গোটা রাজভবন তল্লাশি করালেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। রাজভবনের চত্বর থেকে শুরু করে ভবনের প্রতিটি কোনা ডগ স্কোয়াড, বম্ব স্কোয়াডের বাহিনি তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখল। নেতৃত্ব দিলেন সিভি আনন্দ বোস নিজেই।

ঠিক কী বলেছিলেন কল্যাণ
প্রসঙ্গত, তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি মন্তব্য করেন রাজ্যপাল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিদের আশ্রয় দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাজভবনের মধ্যেই অস্ত্রশস্ত্র মজুত রাখা হচ্ছে! এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। রবিবারই এই মন্তব্যের বিরোধিতা করে একটি বিবৃতি জারি করা হয়। উত্তরবঙ্গে সফরে ছিলেন তিনি। কিন্তু সফরে কাটছাঁট করে সোমবারই ফিরে আসেন রাজভবনে। তৈরি ছিল কলকাতা পুলিশ, রাজভবন পুলিশ আউটপোস্ট, সিআরপিএফ, বম্ব স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াড। পাঁচ বাহিনীর সদস্য দিয়ে তন্নতন্ন করে তল্লাশি করান রাজভবনে।
কীভাবে চলল তল্লাশি
সোমবার সকালে প্রোটোকল ভেঙে রাজভবনের গেটের বাইরেই নেমে পড়েছিলেন রাজ্যপাল। সেখান থেকে গেটের পাশের একটি অফিসে যান। সেখানেই তৈরি ছিল বাহিনী। প্রথমে রাজভবন প্রাঙ্গণ ভালো করে তল্লাশি করে বম্ব স্কোয়াড এবং পুলিশের কুকুরেরা। ফুলের টবগুলিও শুঁকে দেখে তারা। এরপর যন্ত্রপাতি দিয়ে পরীক্ষা হয়ে গেলে রাজভবনের ভিতরে ঢোকে বাহিনী। প্রসঙ্গত, এই গোটা তল্লাশির সময় সাক্ষী হিসেবে সঙ্গী ছিলেন সাংবাদিকরাও। রাজভবনের ভিতরে প্রথমে একতলায় তল্লাশি করে বম্ব স্কোয়াড। এরপর দোতলায় সব ঘরের সর্বত্র তল্লাশি চালানো হয়। দোতলায় রাজ্যপালের একটি অফিসে সবশেষে পৌঁছায় যৌথবাহিনী। সেখানেই সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যপাল জানান, ‘তল্লাশিতে কিচ্ছু পাওয়া যায়নি।’
সাংবাদিক বৈঠকে কী বললেন রাজ্যপাল
সাংসদের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যপাল বলেন, ‘সাংসদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। ওই সাংসদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা কি কোনও পদক্ষেপ নেবেন? সংবাদমাধ্যমের এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সময়মতো সব পদক্ষেপ করা হবে।’ মুখ্যমন্ত্রীর এই ব্যাপারে কী মত জানতে চাওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক সহযোগীর সঙ্গে কথাবার্তা গোপনীয় রাখা উচিত। তবে সঠিক সময়ে ঠিক বিষয়গুলি সামনে আনবে রাজভবন। আমি আজ নিজে গোটা রাজভবন জুড়ে তল্লাশি চালিয়ে দেখেছি, কিন্তু কিছুই পাইনি।’
কল্যাণের প্রতিক্রিয়া
তবে কল্যাণ এতকিছুর পরও স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই হেসে হেসে নতুন যুক্তি ফেঁদেছেন। তাঁর কথায়, ‘বোমা রেখে দিয়ে কি কেউ বম্ব স্কোয়াড ডাকেন? এটা ছেলেমানুষি ছাড়া আর কিছুই নয়।’ পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, ‘অমিত শাহের কাছে নম্বর কমে গিয়েছে। তাই নম্বর বাড়ানোর চেষ্টা করছেন রাজ্যপাল। উনি যদি সংবিধান মেনে চলেন, তবে ভাল হয়। কিন্তু তিনি তা করেন না।’












