Sudip Banerjee on TMC: NCPI-তে যোগ দিয়েও কি তৃণমূলের প্রতীক ও ১৬০০ কোটির দাবি ছাড়ছেন না বিদ্রোহীরা? বড় বার্তা সুদীপের

ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা করলেও তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরিচয়, প্রতীক, দলের অর্থ (বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী যা প্রায় ১৬০০ কোটি) এবং সংগঠনের দাবির প্রশ্নে যে তাঁরা পিছিয়ে আসছেন না, তা স্পষ্ট করে দিলেন তিনি।

Published on: Jun 15, 2026, 10:29:22 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন কলকাতা উত্তরের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা করলেও তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরিচয়, প্রতীক, দলের অর্থ (বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী যা প্রায় ১৬০০ কোটি) এবং সংগঠনের দাবির প্রশ্নে যে তাঁরা পিছিয়ে আসছেন না, তা স্পষ্ট করে দিলেন তিনি।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ থাকলেও যদি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না হওয়া যায়, তাহলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় পড়ার ঝুঁকি থাকে।' (PTI)
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ থাকলেও যদি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না হওয়া যায়, তাহলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় পড়ার ঝুঁকি থাকে।' (PTI)

গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল, লোকসভায় তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদরা কি আলাদা ব্লক হিসেবে বসবেন? নাকি দলত্যাগ বিরোধী আইনের জটিলতা এড়াতে অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের ছাতার তলায় আশ্রয় নেবেন? রবিবার সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিক্ষুব্ধ সাংসদরা ঘোষণা করেন, তাঁরা নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃত রাজনৈতিক দল এনসিপিআই-এর সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন।

টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ থাকলেও যদি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না হওয়া যায়, তাহলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় পড়ার ঝুঁকি থাকে। সেই কারণেই নির্বাচন কমিশন স্বীকৃত একটি রাজনৈতিক দলের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।'

তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ যে তৃণমূল কংগ্রেসের উপর থেকে তাঁদের দাবি সরে যাচ্ছে, তা নয় বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সুদীপের বক্তব্য, আগামী ২০ জুলাই সংসদের অধিবেশন শুরু হলে এবং আরও সাংসদ তাঁদের সঙ্গে যোগ দিলে স্পিকারের কাছে তাঁরা নিজেদের অবস্থান জানাবেন। তাঁর দাবি, বিক্ষুব্ধ শিবিরই যদি তৃণমূলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদকে প্রতিনিধিত্ব করে, তাহলে সংসদীয় স্বীকৃতি এবং দলের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন নতুন করে উঠতে পারে।

তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রতীক, লোগো এবং অন্যান্য সাংগঠনিক সম্পদের উপর ভবিষ্যতে দাবি জানানো হবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে সুদীপ বলেন, 'সেটা নিয়ম অনুযায়ী হবে। বিষয়টি আইনজীবীরা দেখবেন।' তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, বিক্ষুব্ধ সাংসদরা আপাতত নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে গেলেও তৃণমূল কংগ্রেসের উত্তরাধিকার এবং সাংগঠনিক বৈধতার প্রশ্নে লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্তব্যের ফলে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এখন শুধু সাংসদ ভাঙনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ভবিষ্যতে দলীয় পরিচয়, প্রতীক এবং সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে আগামী সংসদ অধিবেশন এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে নজর থাকবে জাতীয় রাজনীতির।

কেন নতুন দলে সুদীপ?

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বিক্ষুব্ধ সাংসদদের মূল উদ্দেশ্য ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুরোপুরি দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়। বরং তাঁকে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক কাঠামোর উপদেষ্টা হিসেবে দেখতে চেয়েছেন তাঁরা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের লক্ষ্য তৃণমূলের ঐতিহ্য, রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং কর্মীদের শক্তিকে সম্পূর্ণ বিলীন হতে না দেওয়া। বহু বছরের পরিশ্রমে তৈরি সংগঠন যদি রাজনৈতিক ভুলের কারণে ধ্বংসের মুখে পড়ে, তা তিনি মেনে নিতে পারছেন না।

নিজের দলত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গও টেনে আনেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, বাংলার রাজনীতিতে একবার ক্ষমতা হারালে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো কোনও দলের পক্ষেই সহজ নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অনেক দল দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পেতে পারেনি। এই বাস্তবতাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন করছে বলে জানান তিনি। বয়স এবং শারীরিক পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন প্রবীণ সাংসদ। তাঁর বক্তব্যে যেন ফুটে ওঠে রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া এক ধরনের আশঙ্কা—বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে তৃণমূলের অস্তিত্বই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More