RG Kar Nirmal Ghosh Arrest: নির্মল ঘোষকে থানার সামনে ডিম-জুতো! গোপন জবানবন্দি দিলেন আরজি করের নির্যাতিতার বাবা

নির্মল ঘোষকে খড়দহ থানায় নিয়ে আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই থানার বাইরে বহু মানুষ জড়ো হন। অনেককে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। কেউ কেউ ডিজে বাজিয়ে নাচেন বলেও জানা গিয়েছে। তবে আদালতে পেশের সময় পরিস্থিতি যে উত্তপ্ত হতে পারে, তা আগেই আঁচ করেছিলেন পুলিশকর্মীরা।

Published on: Aug 14, 2026, 13:52:25 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ওড়িশা থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে খড়দহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি শ্মশানঘাটে অভয়ার মৃত্যুর পর কী ঘটেছিল, তা জানতে তদন্তে গতি বাড়িয়েছে পুলিশ। শুক্রবার থানায় পৌঁছে গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন অভয়ার বাবা। অন্যদিকে নির্মল ঘোষকে আদালতে পেশ করার আগে থানার বাইরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। তাঁকে ঘিরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।

ওড়িশা থেকে গ্রেফতার হলেন পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ। (ফাইল ছবি)
ওড়িশা থেকে গ্রেফতার হলেন পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ। (ফাইল ছবি)

নির্মল ঘোষকে খড়দহ থানায় নিয়ে আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই থানার বাইরে বহু মানুষ জড়ো হন। অনেককে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। কেউ কেউ ডিজে বাজিয়ে নাচেন বলেও জানা গিয়েছে। তবে আদালতে পেশের সময় পরিস্থিতি যে উত্তপ্ত হতে পারে, তা আগেই আঁচ করেছিলেন পুলিশকর্মীরা। নিরাপত্তার কারণে নির্মল ঘোষকে হেলমেট পরিয়ে থানার বাইরে বের করা হয়।

তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি। থানার সামনে জড়ো হওয়া জনতার একাংশ নির্মল ঘোষকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে দেয়। তাঁর দিকে জুতোর মালাও ছোড়া হয়। এমনকি তাঁকে চড় ও লাথি মারা হয় বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ কোনওরকমে তাঁকে নিরাপদে বার করে আদালতের পথে নিয়ে যায়।

এই মামলায় তদন্তের সূত্রপাত গত ৯ অগস্ট। অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পানিহাটিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেন। বিশেষ করে মৃত্যুর পর শ্মশানঘাটে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখতে বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে—এই তিন জনের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছিল।

এর পর অভয়ার বাবা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের মাত্র দু’দিনের মধ্যেই নির্মল ঘোষকে ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, বালেশ্বরের সিমুলিয়া থানার একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। পুলিশের নজর এড়াতে নিজের পুরনো মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলেও জানা যায়। তবে মোবাইল টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরে তাঁর অবস্থান চিহ্নিত করে রাজ্য পুলিশ। পরে সিমুলিয়া পুলিশের সহযোগিতায় ওই হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর নির্মল ঘোষকে স্থানীয় আদালতে পেশ করা হয়। সেখান থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে খড়দহে নিয়ে আসা হয়েছে। এখন তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। শ্মশানঘাটের ঘটনাক্রম, মৃতদেহ সৎকারের প্রক্রিয়া এবং অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনাগুলিতে তাঁর ভূমিকা কী ছিল, তা জানার চেষ্টা করছে তদন্তকারীরা।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে অভয়ার প্রতিবেশী তথা প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কেও। শুক্রবার নির্মল ঘোষ ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।

দুই অভিযুক্তের গ্রেফতারিতে খুশি অভয়ার মা। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ করেছে। একইসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, তদন্তে আরও তথ্য সামনে আসবে এবং বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে নির্মল ঘোষের গ্রেফতারের পর অভয়ার বাবা ও মায়ের নিরাপত্তাও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। মামলাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

এখন তদন্তকারীদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—শ্মশানঘাটে আসলে কী ঘটেছিল এবং সেই ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল। নির্মল ঘোষ ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের জিজ্ঞাসাবাদ এবং অভয়ার বাবার গোপন জবানবন্দি থেকে সেই প্রশ্নের উত্তর কতটা স্পষ্ট হয়, এখন সেদিকেই নজর।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More