Ratna Debnath on Baruipur Encounter: বারুইপুর এনকাউন্টার নিয়ে মুখ খুললেন রত্না দেবনাথ, অভিযুক্তের মাকে 'সাহসী' আখ্যা
এনকাউন্টার নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পানিহাটির বিধায়ক তথা আরজি কর-কাণ্ডে নিহত চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ। তিনি বলেন, ‘এখানে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগের সরকারের আমলে আমরা এখনও বিচার পাইনি।’
Ratna Debnath on Baruipur Encounter: বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া অন্যতম অভিযুক্তের পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এই ঘটনায় পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক তথা আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ। তাঁদের দাবি, অভিযুক্ত পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে গুলি চালানোর পর আত্মরক্ষার্থেই পুলিশ পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিল। একই সঙ্গে এনকাউন্টারে নিহত অভিযুক্তের মায়ের প্রতিক্রিয়াকেও 'সাহসী' বলে উল্লেখ করেছেন রত্না দেবনাথ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য ধৃত অভিযুক্তকে বারুইপুরের সূর্যপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। রাত প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ অভিযুক্ত আচমকাই এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। অভিযোগ, সে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিও চালায়। এরপর আত্মরক্ষার স্বার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে অভিযুক্ত গুরুতর জখম হয়। তাকে দ্রুত বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এনকাউন্টার নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পানিহাটির বিধায়ক তথা আরজি কর-কাণ্ডে নিহত চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ। তিনি বলেন, 'এখানে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগের সরকারের আমলে আমরা এখনও বিচার পাইনি। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। অভিযুক্ত যখন পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে তাঁদের দিকেই তাক করে গুলি চালিয়েছে, তখন পুলিশ আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালিয়েছে। আমার মনে হয় পুলিশ ঠিক কাজ করেছে। একজন ধর্ষকের পরিণতি হয়েছে। এভাবে কঠোর পদক্ষেপ হলে ভবিষ্যতে হয়তো আরও অনেক শিশুর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।'
এনকাউন্টারের ঘটনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, 'ঘটনার গুরুত্ব বিচার করলে দেখা যাচ্ছে, পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেছে, পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালিয়েছে। এই ধরনের অপরাধীর ক্ষেত্রে পুলিশের যা করণীয় ছিল, পুলিশ তাই করেছে।'
এদিকে অভিযুক্তের মৃত্যুর পর তাঁর মা ছেলের মৃতদেহ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ছেলে যে অপরাধ করেছে, তার উপযুক্ত শাস্তিই পেয়েছে এবং তাঁর মৃত্যুর জন্য তাঁর কোনও দুঃখ নেই। এই প্রসঙ্গে রত্না দেবনাথ বলেন, "এই মা বুকের মধ্যে পাথর চাপা দিয়ে কথাগুলো বলছেন। একজন মায়ের পক্ষে এমন কথা বলা সহজ নয়। কিন্তু তিনি অপরাধের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। নিজের সন্তানকে আড়াল করার চেষ্টা করেননি। বরং প্রথম থেকেই বলেছিলেন, যদি তাঁর ছেলে অপরাধ করে থাকে, তাহলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক। আমি তাঁকে একজন সাহসী এবং প্রতিবাদী মা বলেই মনে করি।"
উল্লেখ্য, বারুইপুরে ১১ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে অন্যতম অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যু এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। যদিও এনকাউন্টারের পুরো ঘটনাটি নিয়ে নিয়ম মেনেই তদন্ত চলবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


