₹39 Yatri Sathi Shuttle Service: অফিস থেকে ফিরতে চিন্তা নেই, মাত্র ৩৯ টাকায় ‘যাত্রী সাথী’ শাটল
কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ এবং পূর্ব থেকে পশ্চিম—শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটকে এই পরিষেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কয়েকটি রুটে শাটল চালু করা হতে পারে। পরবর্তীতে যাত্রীদের চাহিদা এবং পরিষেবার সাফল্য বিচার করে রুটের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে।
রাতে অফিস থেকে বাড়ি ফিরতে দেরি হয়ে গিয়েছে? কিংবা ভোরবেলায় জরুরি কাজে বেরতে হবে, কিন্তু বাস বা ট্রেনের পরিষেবা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে? এবার সেই সমস্যার কিছুটা সমাধান হতে পারে ‘যাত্রী সাথী’র নতুন উদ্যোগে। মহিলাদের জন্য কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ শাটল পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ, এই পরিষেবার ভাড়া শুরু হতে পারে মাত্র ৩৯ টাকা থেকে।

দৈনন্দিন যাতায়াতে মহিলাদের সুবিধা বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মহিলা এবং পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখে কম খরচে নির্দিষ্ট রুটে শাটল পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাতের দিকে বা ভোরবেলায় গণপরিবহণের সংখ্যা কমে গেলে অনেক মহিলাকেই বেশি ভাড়া দিয়ে ক্যাব বুক করতে হয়। নতুন পরিষেবা চালু হলে সেই খরচ অনেকটাই কমতে পারে।
কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ এবং পূর্ব থেকে পশ্চিম—শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটকে এই পরিষেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কয়েকটি রুটে শাটল চালু করা হতে পারে। পরবর্তীতে যাত্রীদের চাহিদা এবং পরিষেবার সাফল্য বিচার করে রুটের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে।
বর্তমানে রাতের সময়ে গণপরিবহণ ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক মহিলাকেই সমস্যায় পড়তে হয়। বাসের সংখ্যা কমে যাওয়া, ট্রেন পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা গন্তব্যের কাছাকাছি সরাসরি পরিবহণ না পাওয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত অ্যাপ ক্যাবের উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু ওলা-উবারের মতো পরিষেবায় অনেক সময় ভাড়া ১০০-১৫০ টাকা বা তারও বেশি হয়ে যায়। সেই জায়গায় মাত্র ৩৯ টাকা থেকে শাটল পরিষেবা চালু হলে তা যথেষ্ট সাশ্রয়ী হতে পারে।
‘যাত্রী সাথী’ মূলত রাজ্য সরকারের উদ্যোগে তৈরি অ্যাপ-ভিত্তিক ক্যাব পরিষেবা। বেসরকারি অ্যাপ ক্যাব পরিষেবার বিকল্প হিসেবে এই পরিষেবা চালু হয়েছিল। এবার সেই ব্যবস্থাকেই আরও বিস্তৃত করে মহিলাদের জন্য বিশেষ শাটল পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এই পরিষেবার মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র ভাড়া কমানো নয়, নির্দিষ্ট রুটে যাতায়াতকে আরও সহজ ও সংগঠিত করা। বিশেষ করে অফিস ছুটির পর রাতে বাড়ি ফেরা কর্মজীবী মহিলা এবং সকালবেলায় কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য বেরনো পড়ুয়াদের কাছে এই পরিষেবা কার্যকর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, শাটলগুলি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল এবং ব্যস্ত এলাকাগুলির মধ্যে চলাচল করতে পারে। ফলে যাত্রীদের একেবারে গন্তব্যের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে না দিলেও কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। সেখান থেকে অল্প দূরত্বের জন্য অন্য পরিবহণ ব্যবহার করে বাড়ি পৌঁছনো সহজ হবে।
তবে পরিষেবাটি কবে থেকে পুরোদমে চালু হবে, কোন কোন রুটে প্রথম পর্যায়ে শাটল চলবে এবং দিনে কতগুলি গাড়ি থাকবে—এই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। পরিষেবার চূড়ান্ত রুট এবং সময়সূচিও নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
মহিলাদের জন্য কম খরচে নিরাপদ ও সহজ যাতায়াতের ব্যবস্থা করা বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই জায়গায় ‘যাত্রী সাথী’র শাটল পরিষেবা চালু হলে শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায় নতুন বিকল্প তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে রাত ও ভোরের সময়ে মহিলাদের যাতায়াতে এই পরিষেবা কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর। ৩৯ টাকা থেকে ভাড়া শুরু হলে সাধারণ মহিলা যাত্রীদের কাছে এটি যে যথেষ্ট আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে, তা বলাই যায়।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


