Sumit Roy Extortion Case: ৫০ লক্ষ টাকার তোলাবাজির অভিযোগ, সুমিতের সঙ্গে নাম প্রতীক জৈনের পিএ সৌম্যজিতেরও

পুলিশকে দেওয়া অভিযোগে নাদিয়া চৌধুরী জানান, ২০২৪ সালে বালির ব্যবসার সূত্রে প্রশান্ত দাস নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। অভিযোগ, প্রশান্ত প্রথমে তাঁর কাছে ৫০ লক্ষ টাকা চান। বলা হয়, ওই টাকা দিলে নির্দিষ্ট সীমার তুলনায় বেশি বালি বোঝাই ট্রাক চলাচলে প্রশাসনের তরফে আর বাধা থাকবে না। 

Published on: Sep 25, 2026, 08:24:57 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

৫০ লক্ষ টাকা তোলাবাজি এবং প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে তদন্তের মুখে অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত। একই মামলাতে নাম এসেছে আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের তৎকালীন আপ্ত সহায়ক সৌম্যজিৎ সেনেরও। এক বালি ব্যবসা করা ব্যক্তির অভিযোগ, ওভারলোড করে বালি পরিবহণে প্রশাসনিক বাধা সরানোর আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছে ধাপে ধাপে টাকা চাওয়া হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

তোলাবাজি কাণ্ডে এবার নাম উঠল আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের তৎকালীন আপ্ত সহায়ক সৌম্যজিৎ সেনেরও। (saikat paul)
তোলাবাজি কাণ্ডে এবার নাম উঠল আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের তৎকালীন আপ্ত সহায়ক সৌম্যজিৎ সেনেরও। (saikat paul)

পুলিশকে দেওয়া অভিযোগে নাদিয়া চৌধুরী জানান, ২০২৪ সালে বালির ব্যবসার সূত্রে প্রশান্ত দাস নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। অভিযোগ, প্রশান্ত প্রথমে তাঁর কাছে ৫০ লক্ষ টাকা চান। বলা হয়, ওই টাকা দিলে নির্দিষ্ট সীমার তুলনায় বেশি বালি বোঝাই ট্রাক চলাচলে প্রশাসনের তরফে আর বাধা থাকবে না। ব্যবসা চালাতে সুবিধা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।

নাদিয়ার দাবি, শুরুতে টাকা দিতে তিনি রাজি হননি। পরে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলে তাঁর অভিযোগ। সেই চাপের পরে শেষ পর্যন্ত টাকা দিতে রাজি হন তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে নাদিয়া এবং তাঁর কয়েক জন ব্যবসায়িক সঙ্গীকে কলকাতার একটি অভিজাত হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রশান্তের মাধ্যমে সুমিত ও সৌম্যজিতের সঙ্গে তাঁদের আলাপ করানো হয়েছিল বলে জানান নাদিয়া।

এর পর টাকা লেনদেন শুরু হয়। অভিযোগকারীর দাবি, ২০২৪ সালের অগস্টে প্রশান্ত এবং আশিক কাজি ইমাম নামে এক ব্যক্তির হাতে ৩০ লক্ষ টাকা তুলে দেন তিনি। তার কিছু দিন পর ক্যামাক স্ট্রিটে আইপ্যাকের অফিসে গিয়ে সৌম্যজিতের হাতে নগদ ১৯ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। বাকি টাকা অনলাইনে পাঠানো হয়েছিল বলে পুলিশকে জানান নাদিয়া। সব মিলিয়ে ৫০ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ছিল বলে তাঁর দাবি।

কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। পরে যাঁদের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়েছিল, তাঁদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টাও ফলপ্রসূ হয়নি বলে জানান নাদিয়া। তাঁর অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত জুনে সুমিত, সৌম্যজিৎ, প্রশান্ত এবং আশিক-সহ আরও কয়েক জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। প্রতারণা ও তোলাবাজির ধারায় পুলিশ তদন্ত করছে।

তদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন। ৫০ লক্ষ টাকার দাবি কী ভাবে উঠল, প্রশাসনিক প্রভাবের কথা বলে সত্যিই কোনও সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস ছিল কি না, ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে নেওয়া নগদ টাকার হিসাব কী, এবং এই ঘটনায় আরও কেউ যুক্ত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগে যাঁদের নাম আছে, তাঁদের বক্তব্যও তদন্তের অংশ হতে পারে। পুলিশ দরকার মনে করলে একে একে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।

এই মামলাতে সুমিতকে অন্য একটি মামলায় হেফাজতে থাকার পর আলাদা করে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়েছে। আদালত তাঁকে ৯ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, বালি ব্যবসার এই অভিযোগের সূত্র ধরে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More