Chemical Park: সিঙ্গুরে 'কেমিক্যাল পার্ক' গড়ার প্রস্তাব! মুখ্যমন্ত্রীকে ‘পরামর্শ’ দিয়ে চিঠি শমীক ভট্টাচার্যের

Chemical Park: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-কে লেখা এক চিঠিতে শমীক ভট্টাচার্য উল্লেখ করেছেন, গত ২৪ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ৩,০৩০ কোটি টাকার 'ভব্য রসায়ন' স্কিম অনুমোদন করেছে। এই স্কিমে সারা দেশে ৩ ডেডিকেটেড কেমিক্যাল পার্ক তৈরি হবে।

Published on: Jul 30, 2026, 16:34:42 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Chemical Park: রাজ্যের শিল্প খরা কাটাতে তৎপর নতুন সরকার। সেই লক্ষ্য দ্রুত পূরণ করতে ফের একধাপ এগলো বঙ্গ বিজেপি। কেন্দ্রীয় সরকারের 'ভব্য রসায়ন' প্রকল্পের আওতায় রাজ্যে একটি রাসায়নিক শিল্পকেন্দ্র বা 'কেমিক্যাল পার্ক' গড়ে তোলার আর্জি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি লিখলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য চান, ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ সিঙ্গুরেই গড়ে উঠুক এই 'কেমিক্যাল পার্ক।' একই সঙ্গে হলদিয়া, রঘুনাথপুর এবং দুর্গাপুরকেও বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীকে ‘পরামর্শ’ দিয়ে চিঠি শমীক ভট্টাচার্যের (PTI)
মুখ্যমন্ত্রীকে ‘পরামর্শ’ দিয়ে চিঠি শমীক ভট্টাচার্যের (PTI)

২৮ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-কে লেখা এক চিঠিতে শমীক ভট্টাচার্য উল্লেখ করেছেন, গত ২৪ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ৩,০৩০ কোটি টাকার 'ভব্য রসায়ন' স্কিম অনুমোদন করেছে। এই স্কিমে সারা দেশে ৩ ডেডিকেটেড কেমিক্যাল পার্ক তৈরি হবে। প্রতিটি পার্কের জন্য কেন্দ্র ১ হাজার কোটি টাকা অনুদান দেবে। রাজ্যকে দিতে হবে ন্যূনতম ৫০০ কোটি টাকা এবং ২,০০০ একর জমি। কেন্দ্রের প্রস্তাবিত ৩টি কেমিক্যাল পার্কের মধ্যে একটি বাংলায় গড়ে তোলার আর্জি জানিয়েই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি লিখেছেন শমীক ভট্টাচার্য। চিঠিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি উল্লেখ করেছেন যে, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ১৫০০ কোটি টাকার এই প্রাথমিক বিনিয়োগ পশ্চিমবঙ্গে বিপুল পরিমাণ বেসরকারি পুঁজি টেনে আনতে সাহায্য করবে। এটি বাংলার অর্থনৈতিক পরিকাঠামো উন্নয়নে একটি বিরল সুযোগ বলে দাবি করেছেন তিনি।

কেমিক্যাল, নির্মাণ, লজিস্টিক ও ক্ষুদ্র-মাঝারি (এমএসএমই) শিল্পে কর্মসংস্থার বাড়বে। বস্ত্র, ওসুধ, ইলেকট্রনিক্স, কৃষি, অটোমোবাইল ক্ষেত্র লাভবান হবে। এছাড়াও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কমন এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরির সুযোগ পাওয়া যাবে। এর জন্য আন্তঃবিভাগীয় টাস্ক ফোর্স তৈরি করে রাজ্যে কেমিক্যাল হাবের জন্য আবেদন প্রস্তুত করার পরামর্শ দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। চিঠির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সিঙ্গুরের প্রসঙ্গ। টাটা গোষ্ঠী চলে যাওয়ার পর থেকে সিঙ্গুরের জমি এবং শিল্পায়ন নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘ টানাপোড়েন চলেছে। শমীক ভট্টাচার্য এর আগেও টাটা গোষ্ঠীকে সিঙ্গুরে ফিরিয়ে আনার পক্ষে সওয়াল করেছেন। অতীতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, টাটারা ফিরে এলে বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা যাবে এবং পশ্চিমবঙ্গ যে বিনিয়োগের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত, তা বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হবে। এবারের চিঠিতে সিঙ্গুরের পাশাপাশি হলদিয়া, রঘুনাথপুর এবং দুর্গাপুরকেও এই প্রকল্পের উপযুক্ত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে কেন্দ্রীয় স্তরে সমন্বয় সাধনের জন্য তিনি সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। চিঠিটির অনুলিপি রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং শিল্প সচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

রাজ্য সরকার নতুন শিল্পনীতি প্রণয়নের পথে হাঁটার সময় এই প্রস্তাবকে কীভাবে গ্রহণ করে, এখন সেটাই দেখার। রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগের এই কেমিক্যাল পার্ক বাস্তবায়িত হলে বাংলার শিল্প মানচিত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।