৩৭ দিন পর জেলমুক্তি! যুবভারতীকাণ্ডে অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন শতদ্রু, ১০ হাজার টাকার...
গত ১৩ ডিসেম্বর কলকাতায় এসেছিলেন বিশ্ব ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসি। তাঁর কলকাতা সফরকে ঘিরে অনেকদিন আগে থেকে আবেগের পারদ চড়ছিল।
যুবভারতীকাণ্ডে ৩৭ দিনের মাথায় বড় স্বস্তি শতদ্রু দত্তের। ১০ হাজার টাকা ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দিল বিধাননগর মহকুমা আদালত। অন্তর্বর্তী জামিন পেলেও একাধিক শর্ত মানতে হবে লিওনেল মেসির ভারত সফরের প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্তকে। সমস্ত ডকুমেন্ট জমা রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এমনকী, অন্তর্বর্তী জামিনে থাকাকালীন কলকাতার বাইরে যেতে পারবেন না তিনি।

বিধাননগর দক্ষিণ থানায় ওই ঘটনা নিয়ে দু’টি পৃথক মামলা হয়েছিল। প্রথম মামলায় একমাত্র গ্রেফতার করা হয় শতদ্রু দত্তকে। দ্বিতীয় মামলায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আরও কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশের দাবি ছিল, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক মেসিকে দেখবেন বলে টিকিট কেটেছিলেন। ১৯ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছিল। জামিন পেলে শতদ্রু প্রভাব খাটিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন। এই যুক্তিতেই এতদিন জামিন পাচ্ছিলেন না তিনি। তবে সোমবার আদালতে তাঁর আইনজীবী দাবি করেন, মামলার এই পর্যায়ে অগ্রগতি কিছু নেই। তাই শতদ্রুকে হেফাজতে রাখারও দরকার থাকে না। সরকারি আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করেছিলেন। তবে আদালত শতদ্রুর আইনজীবীর যুক্তিতে সায় দিয়েই জামিন মঞ্জুর করে।
লিয়োনেল মেসির সফর ঘিরে কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গত ১৩ ডিসেম্বর মেসির ভারত সফরের আয়োজক শতদ্রুকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ দুর্নীতির। তবে শতদ্রু দত্তের আইনজীবী সৌম্যজিৎ রাহা সওয়াল করেন, এটি একটি সম্পূর্ণ পেশাদার সংস্থার আয়োজন করা অনুষ্ঠান ছিল। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই কাজ করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, সংস্থাটি আগেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান সফলভাবে করেছে এবং পেশাদারিত্ব প্রমাণ করেছে। তিনি আদালতকে জানান, ৭ নভেম্বরই বিধাননগর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ পাওয়া গিয়েছিল। ঘটনার পরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলেও প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। আয়োজক সংস্থার তরফে কোনও নিয়মভঙ্গ করা হয়নি বলেও দাবি করা হয়। এর আগে একাধিকবার শতদ্রুর জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে। অবশেষে অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন তিনি।
গত ১৩ ডিসেম্বর কলকাতায় এসেছিলেন বিশ্ব ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসি। তাঁর কলকাতা সফরকে ঘিরে অনেকদিন আগে থেকে আবেগের পারদ চড়ছিল। যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসিকে একঝলক দেখতে প্রায় ৩৪,৫৭৬ জন দর্শক ১৯ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের টিকিট কেটেছিলেন। বিশৃঙ্খলার ঘটনায় প্রায় ২ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। যুবভারতীতে যখন বিশৃঙ্খলা বাড়ছে, তখন শহর ছাড়ার আগেই কলকাতা বিমানবন্দর থেকে শতদ্রুকে গ্রেফতার করে বিধাননগর পুলিশ। শতদ্রুর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠে। মাঝে একবার জামিন খারিজ হলেও, শর্তসাপেক্ষে সোমবার ছেড়ে দেওয়া হল মেসি কাণ্ডের প্রধান অভিযুক্তকে। প্রসঙ্গত, লিওনেল মেসির কলকাতা অভিযান ভেস্তে যায়। মাত্র ২৫ মিনিট মাঠে ছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা। মাঠের ভেতর একাধিক লোকজন মেসিকে ঘিরে থাকায় গ্যালারি থেকে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে দেখা যায়নি। হাজার হাজার টাকা খরচ করেও তাঁকে দেখতে না পাওয়ায় চটে যায় দর্শক। মেসি মাঠ ছাড়ামাত্র বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত। ভাঙচুর হয় স্টেডিয়াম। কিন্তু হায়দরাবাদ, মুম্বই এবং দিল্লিতে অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে হয়েছে।
E-Paper











