Voyage to Mars: এবার মঙ্গলগ্রহে পাড়ি দেবে কলকাতা-বাসী! ‘ভয়েজ টু মার্স’-এ যা হচ্ছে, এক কথায় অবিশ্বাস্য
Space Theatre Kolkata: এবার কলকাতা-বাসী পাড়ি দেবে মহাকাশে। এক চক্কর মেরে আসা যাবে মঙ্গল গ্রহ থেকেও। অসাধ্য সাধন কীভাবে হচ্ছে? জেনে নিন।
ISRO Mangalyaan Science City: কলকাতার সায়েন্স সিটি বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য নিয়ে এসেছে এক অভাবনীয় উপহার। মঙ্গলের লাল মাটিতে পা রাখার স্বপ্ন এখন আর কেবল মহাকাশচারীদের একচেটিয়া নয়। 'দ্য স্টেটসম্য্যান'-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সায়েন্স সিটির নতুন ইমারসিভ শো ‘ভয়েজ টু মার্স’ কীভাবে সাধারণ মানুষকে মহাকাশের স্বাদ দিচ্ছে, তা জেনে নিন।

কলকাতার সায়েন্স সিটি মানেই নতুন কোনো বিস্ময়। তবে এবারের আয়োজনটি সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে। সায়েন্স সিটির স্পেস থিয়েটারে যুক্ত হয়েছে নতুন এক ইমারসিভ শো— ‘ভয়েজ টু মার্স’ (Voyage to Mars)। অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্রজেকশন এবং থ্রি-ডি প্রযুক্তির মেলবন্ধনে তৈরি এই শো দর্শকদের এমন এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন করছে, যেখানে মনে হবে তারা সত্যিই পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে পাড়ি দিচ্ছে লাল গ্রহের দিকে।
কী আছে এই নতুন অভিযানে?
‘ভয়েজ টু মার্স’ কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, এটি একটি সম্পূর্ণ মহাকাশ ভ্রমণ। ডিজিটাল গম্বুজ বা ডিজিটাল ডোম থিয়েটারে বসে দর্শকরা দেখতে পাবেন কীভাবে রকেট উৎক্ষেপণ হয়, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে মহাকাশের বিশালতায় হারিয়ে যাওয়ার অনুভূতি কেমন এবং লক্ষ লক্ষ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশ করার রোমাঞ্চ।
প্রযুক্তিবিদদের মতে, এই শো-তে যে প্রজেকশন সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে, তা দর্শকদের চারপাশের দৃশ্যকে জীবন্ত করে তোলে। মঙ্গলের রুক্ষ পাহাড়, বিশালাকার আগ্নেয়গিরি (অলিম্পাস মন্স) এবং গভীর গিরিখাতগুলো যখন চোখের সামনে ফুটে ওঠে, তখন মনে হবে আপনি সত্যিই মঙ্গলের মাটিতে দাঁড়িয়ে আছেন।
শিক্ষামূলক ও বিনোদনের মিশেল
সায়েন্স সিটির এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য হলো নতুন প্রজন্মকে মহাকাশ বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে তোলা। এখানে মঙ্গলের পরিবেশ, আবহাওয়া এবং সেখানে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলো অত্যন্ত সহজভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে মঙ্গল অভিযানের ইতিহাসে ভারতের 'মঙ্গলযান' (Mangalyaan) মিশনের সাফল্য এবং ইসরো-র (ISRO) অবদানের কথাও এখানে সগৌরবে চিত্রিত হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি অসাধারণ সুযোগ। বইয়ের পাতায় পড়া মঙ্গলের তথ্যগুলো যখন তারা বড় পর্দায় বাস্তবসম্মতভাবে দেখতে পায়, তখন তা তাদের কৌতূহলকে আরও বাড়িয়ে দেয়। সায়েন্স সিটির কর্মকর্তাদের মতে, উদ্বোধনের পর থেকেই এই শো-টি দেখতে মানুষের ভিড় উপচে পড়ছে।
কেন এই শো দেখা জরুরি?
১. অত্যাধুনিক প্রযুক্তি: ভারতের খুব কম জায়গায় এমন ইমারসিভ ডিজিটাল থিয়েটার রয়েছে যা সায়েন্স সিটিতে দেখা যাচ্ছে।
২. মহাকাশ ভ্রমণ: ব্যক্তিগতভাবে মঙ্গলে যাওয়ার সুযোগ না থাকলেও, কয়েকশ টাকার টিকিটে সেই অনুভূতি পাওয়া সম্ভব।
৩. বিজ্ঞান চেতনা: কেবল বিনোদন নয়, মহাকাশ বিজ্ঞান সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে এই শো সাহায্য করে।
কলকাতা চিরকালই জ্ঞান ও বিজ্ঞানের শহর। সায়েন্স সিটির এই নতুন সংযোজন শহরের মুকুটে আরও একটি পালক যোগ করল। আপনি যদি মহাকাশ নিয়ে উৎসাহী হন বা আপনার শিশুকে বিজ্ঞানের রোমাঞ্চকর দুনিয়ার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চান, তবে ‘ভয়েজ টু মার্স’ আপনার তালিকায় অবশ্যই থাকা উচিত।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


