Second Saptami: দ্বিতীয় মহাসপ্তমীতে রাত বাড়তেই জনস্রোত, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার থেকে দেশপ্রিয় পার্কে উপচে পড়ল ভিড়
কোনও মণ্ডপে ভিড় বাড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভিড়ের চাপে যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সে দিকে বিশেষ নজর রাখছে প্রশাসন। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
রাত যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে ঠাকুর দেখার ভিড়। সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার থেকে দেশপ্রিয় পার্ক, জগৎ মুখার্জি পার্ক থেকে বাগবাজার সর্বজনীন— শহরের নামী পুজো মণ্ডপগুলিতে রবিবার রাতেও উপচে পড়ল দর্শনার্থীদের ভিড়। উৎসবের আলোয় ঝলমল কলকাতার রাস্তায় মানুষের ঢল। কেউ ব্যস্ত পুজোর থিম দেখতে, কেউ আবার মুঠোফোনে ছবি তুলে মুহূর্তকে ধরে রাখতে। সঙ্গে জমিয়ে খাওয়াদাওয়া আর সেলফি তোলার পর্বও। কলকাতার পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মানুষ শহরে ঠাকুর দেখতে আসছেন। মহাষ্টমী ও মহানবমীতে ভিড় আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তার কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা ও যান চলাচল সামলাতে বাড়তি প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

ভিআইপি লাইন তুলে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ
ভিড়ের মধ্যে যাতে কোনও বৈষম্য না থাকে, তার জন্য ভিআইপি পাস ও আলাদা লাইনের ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্দেশ পাওয়ার পরই একাধিক পুজো মণ্ডপে ভিআইপি লাইন খুলে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে আগে যে পথ দিয়ে বিশেষ পরিচয় থাকা দর্শনার্থীরা মণ্ডপে ঢুকতেন, সেই পথ দিয়েই অন্য দর্শনার্থীদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
কোনও মণ্ডপে ভিড় বাড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভিড়ের চাপে যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সে দিকে বিশেষ নজর রাখছে প্রশাসন। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
পুজোর ডিউটিতে আরও ৯ আইপিএস
পুজোর বাকি দিনগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে লালবাজারের তরফে বিশেষ পদক্ষেপ করা হয়েছে। অতীতে কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন, এমন ৯ জন আইপিএস আধিকারিককে পুজোর দায়িত্বে আনা হয়েছে। বর্তমানে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও শহরের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের অভিজ্ঞতা রয়েছে। রবিবার বিকেল থেকেই তাঁদের লালবাজারে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মহাষ্টমী ও মহানবমীতে ভিড়ের চাপ আরও বাড়তে পারে। সে কথা মাথায় রেখেই অতিরিক্ত পুলিশ আধিকারিকদের কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পুজো মণ্ডপ, ভিড়ের রাস্তা এবং দর্শনার্থীদের চলাচলের উপর নজর রাখবে পুলিশ। কোথাও ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই প্রস্তুতিও রাখা হচ্ছে।
মহাষ্টমীতে কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকবে মুদিয়ালি
মহাষ্টমীর পুজো ও সন্ধিপুজোর জন্য দক্ষিণ কলকাতার মুদিয়ালি ক্লাবের মণ্ডপ দর্শনার্থীদের জন্য সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হবে। সোমবার সকাল ৫টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ থাকবে। পুজোর বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতেই এই সিদ্ধান্ত।
অন্য দিকে, দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য সারা রাত ট্রেন ও মেট্রো চালানো হবে। ফলে রাত জেগে ঠাকুর দেখতে বেরোনো মানুষের যাতায়াত কিছুটা সহজ হবে। থিমের জৌলুস আর সাবেকি পুজোর ঐতিহ্য— দুইয়ের টানেই কলকাতার মণ্ডপে মণ্ডপে বাড়ছে ভিড়। মহাষ্টমী ও মহানবমীতে সেই ভিড় আরও বাড়ার সম্ভাবনা। তাই ঠাকুর দেখার আনন্দের পাশাপাশি নিয়ম মেনে চলা, ভিড়ের মধ্যে ধৈর্য রাখা এবং পুলিশের নির্দেশ মেনে চলার উপরেও জোর দিচ্ছে প্রশাসন। উৎসবের শেষ দিনগুলিতে শহরের পুজো পরিক্রমা কতটা নির্বিঘ্ন থাকে, এখন সেদিকেই নজর।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


