Bengal STF: হাওয়ালায় সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ হয়ে পাকিস্তানে টাকা! ধৃত ISI চর প্রদীপ্তর তদন্তে হাড়হিম মোড়
Bengal STF: ফজলে রাব্বি ইসলামপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন জেলা সভাপতি জাকির হোসেনের ভাই। ইসলামপুরের পাটাগোরাগ্রাম থেকে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় ফজলে রাব্বিকে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স গ্রেফতার করে।
Bengal STF: পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের চর সন্দেহে শিলিগুড়ির এক যুবককে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিসের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। ধৃতের নাম প্রদীপ্তকুমার সরকার। আইএসআই-নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকার অভিযোগে ধৃত সেই প্রদীপ্ত সরকারের তদন্তে নয়া তথ্য। মূলত হাওয়ালা চক্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিল প্রদীপ্ত। হাওয়ালার মাধ্যমে পাক গুপ্তচরদের লিঙ্কে থাকা ব্যক্তিদের কাছে বাংলাদেশে টাকা পৌঁছে দেওয়াই তার অন্যতম কাজ ছিল। সেই টাকা পরে পৌঁছে যেত পাক জঙ্গিদের হাতে! এই কাজের জন্য প্রদীপ্ত মোবাইলের একটি সিম কার্ড ব্যবহার করত! সেই সিম কার্ড পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের সূত্রে খবর।

কয়েকদিন আগে কোচবিহার থেকে তিন চরকে গ্রেফতার করে বেঙ্গল এসটিএফ। তারা এ রাজ্য থেকে গুচ্ছ গুচ্ছ সিম (SIM Card Smuggling) তুলে নেপাল, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে থাকা আইএসআই কর্তাদের পাঠাত বলে অভিযোগ। এই সিম পাঠানোর জন্য তাদের কাছ টাকা আসত পাকিস্তান থেকে। জানা যায়, এই টাকা জমা পড়ত করত শিলিগুড়ির একটি মানি এক্সচেঞ্জারের অফিসে। এই অফিসটির মালিক প্রদীপ্ত। তদন্তকারীদের নজরে আসার পরেই এবার প্রদীপ্ত কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া সেই সিম কার্ড ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের কাছে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন এসটিএফের তদন্তকারীরা। অপরদিকে, জালনোট ও সিম কার্ড পাচারকাণ্ডে ইসলামপুর থেকে গ্রেফতার হওয়া ফজেল রাব্বি সিদ্দিকিকে শুক্রবার দিনহাটা মহকুমা আদালতে এফটিএফ এর পক্ষ থেকে তোলা হয়। সেখানে বিচারক তাকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
ফজলে রাব্বি ইসলামপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন জেলা সভাপতি জাকির হোসেনের ভাই। ইসলামপুরের পাটাগোরাগ্রাম থেকে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় ফজলে রাব্বিকে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স গ্রেফতার করে। এর আগে সাপের বিষ পাচারের চালাচ্ছিল। একটি মামলাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল বলে অভিযোগ। রাব্বি ও প্রদীপ্তের মধ্যে কোনও যোগাযোগ রয়েছে কী? সেই বিষয়ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মূলত রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জাল নোটের ব্যবসার সঙ্গে রাব্বি যুক্ত ছিল বলেই প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তবে দিল্লি থেকে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে ধৃত প্রদীপ্ত শিলিগুড়ির বাসিন্দা থাকলেও বর্তমানে দিল্লিতে বসবাস শুরু করেছিল। তার মাধ্যমে পাকিস্তানের আইএসআই নেপালকে করিডোর করে উত্তরবঙ্গ দিয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত হাওয়ালার নেটওয়ার্ক আর এই কাজে বাংলাদেশে থাকা প্রদীপ্তর কিছু সঙ্গী সহযোগিতা করছিল। হাওয়ালার মাধ্যমে যাওয়া সেই টাকা পাক গুপ্তচর ও তাদের স্লিপার সেল এর কাছে পৌঁছে যেত।
মাঝেমধ্যেই সেই হাওয়ালার টাকা সংক্রান্ত হিসাবের জন্য তাকে বাংলাদেশে যেতে হত। আর সেখান থেকে তদন্তকারীদের নজরে আসে শিলিগুড়ির এই বাসিন্দা। খতিয়ে দেখা গিয়েছে, তার কাছে যে সিম কার্ড রয়েছে, সেটা পাকিস্তান থেকে অপারেট করা হচ্ছিল! কাজেই সিম পাচার চক্রের সঙ্গেও তার একটি যোগ পাওয়া গিয়েছে। শুধু তাই নয়, জাল নোট কারবারের সঙ্গেও তার যোগাযোগ থাকতে পারে বলেই তদন্তকারীদের ধারণা। এই সমস্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই তাকে এসটিএফ হেফাজতে নিয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং এর গভীরে কোন আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক কাজ করছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
E-Paper

