Nepal Flash Flood: চিন সীমান্তেই রয়েছেন স্ত্রী? সঠিক খবরের আশায় মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ মুকুল-পুত্র

Nepal Flash Flood: বুধবার নবান্নে শুভ্রাংশু রায় ও রাজ্যের নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের ডেকে পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari)।

Published on: Sep 15, 2026, 16:37:32 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Nepal Flash Flood: ২০ দিন পেরিয়ে গিয়েছে। নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান ও হিমবাহ হ্রদ গলে জোড়া বিপর্যয়ের পর থেকে নিখোঁজ বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ের (Subhranshu Roy) স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের এখনও কোনও নিশ্চিত সন্ধান মেলেনি। এ নিয়ে বহু জল্পনাকল্পনা চলেছে। শর্মিষ্ঠাবিহীন শুভ্রাংশু রায়ের হালিশহরের বাড়িতে কার্যত শূন্যতা গ্রাস করেছে। একাদশ শ্রেণির মেয়েই মায়ের মতো করে আগলে রাখছে ছোট ভাইকে। যদিও হাল ছাড়তে নারাজ মুকুল রায়-পুত্র। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, স্ত্রী বিপর্যয়ের আগেই নিরাপদে চিন সীমান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তাই তিনি সুরক্ষিত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হতে চলেছেন শুভ্রাংশু রায় ও রাজ্যের নিখোঁজ পরিবারের সদস্যরা।

বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় (সৌজন্যে টুইটার)
বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় (সৌজন্যে টুইটার)

সূত্রের খবর, আগামিকাল, বুধবার নবান্নে শুভ্রাংশু রায় ও রাজ্যের নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের ডেকে পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari)। শুভ্রাংশুর দাবি, তিনিই কোনও আশার খবর দিতে পারবেন। মঙ্গলবার নিজের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠকে প্রয়াত রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের পুত্র বলেন, ‘আমি নিজের আশার কথা বলেছি মাত্র। শর্মিষ্ঠারা যে চিন সীমান্তের দিকে চলে গিয়েছে, তেমন একটি সূত্র চিনের এক সংস্থার কাছে পাওয়া গিয়েছে। আমার ফেসবুক পোস্টে তা শেয়ার করেছি। তাই আমার ধারণা, ওই চিন সীমান্তেই কিছু লুকিয়ে রয়েছে। এটা তো দুই রাষ্ট্রের সরকারি স্তরে সমন্বয় হওয়ার কথা, আমরা তো কিছু বলতে পারব না। সরকারের কাছে আমার আবেদন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানান আমাদের প্রতিটি পরিবারকে। আমি শুধু নিজের স্ত্রীর জন্য বলছি না। যে ৩২ বা ৩৭ টি পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজ, তাঁদের সবার উদ্বেগের অবসান ঘটাতে বলছি কথাটা। যে পোর্টালটি চালু হয়েছে, তাতে ফিরে আসা এবং নিখোঁজ পর্যটকদের ছবি-সহ নাম প্রকাশিত হোক। তাহলে সকলের সব বুঝতে সুবিধা হবে।'

এরপরই শুভ্রাংশু বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী যথেষ্ট চেষ্টা করছেন। বুধবার আমাদের ডেকে পাঠিয়েছেন নবান্নে। এই বিষয়টা নিয়ে কথা বলবেন। নিখোঁজ পরিবারগুলির ২ জন করে সদস্য যাবেন। আমি ও আমার মেয়ে যাব।' তবে স্ত্রী শর্মিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ সম্ভব হয়েছে, এমন খবর পুরোপুরি ভিত্তিহীন ৷ যা নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন শুভ্রাংশু৷ তিনি বলেন, 'এমন কিছুই ঘটেনি৷ আমরা ওঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি৷ কিছু সংবাদ মাধ্যমে খবর বেরিয়েছে৷ এটা ঠিক নয়৷ বিদেশমন্ত্রক নেপাল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে৷ আমরা শেষ যেটা জানতে পেরেছি, নেপাল সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আমার স্ত্রী-সহ ৩২ জন ইমিগ্রেশন সেন্টার থেকে চিনের উদ্দেশে বেরিয়ে গিয়েছিলেন৷ এরপর সেখান থেকে বেরিয়ে তাঁরা কোথায় ছিলেন, কী পরিস্থিতিতে ছিল, সেটা জানতে হবে৷ আশা করছি ভালো খবরই পাবো৷'

কৈলাস, মানস সরোবর দর্শনে একটি টুর সংস্থার সঙ্গে বেরিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা ভৌমিক। বাড়িতে দুই ছেলেমেয়েকে রেখে একাই গিয়েছিলেন। গত ২৫ আগস্ট রাতে তাঁর সঙ্গে শুভ্রাংশু ও তাঁর পরিবারের ভিডিও কলে কথাবার্তা হয়। শর্মিষ্ঠা জানান, ভিসা হাতে এসেছে, পরদিনই তাঁরা চিন সীমান্তের দিকে অর্থাৎ মানস সরোবরের পথে রওনা দেবেন। ঠিক তার পরেরদিন, ২৬ আগস্ট বিধ্বংসী জোড়া বিপর্যয়ের সাক্ষী হয় নেপাল। যার জেরে প্রায় দেড় হাজার মানুষের প্রাণ হারিয়েছেন। নিখোঁজ এখনও বহু। নিখোঁজদের তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের এখনও ৩২ থেকে ৩৭টি পরিবারের সদস্য রয়েছেন। এখনও তাঁদের খোঁজ মেলেনি। আদৌ তাঁরা বেঁচে আছেন কিনা, তাও ঠিক নেই। যদিও শুভ্রাংশু রায় বারবারই নিজের ফেসবুক পোস্টে আশাপ্রকাশ করছেন, তাঁর স্ত্রী-সহ বাকিরা সুরক্ষিত রয়েছেন। স্ত্রীকে ফিরে পেতে শুভ্রাংশু রায়ের মরিয়া চেষ্টা আর অনন্ত আশার সুফল কবে মিলবে? সেই উত্তর এখনও অজানা।