তিন প্রজন্ম ভারতীয় সেনায়! তবুও SIR-এ নাম বাদ বধূর, বারাসত জেলাশাসকের দফতরে দীর্ঘ লাইন

এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে নাম ফের তালিকায় উঠবে কিনা, সেই উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

Published on: Mar 06, 2026 12:44 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ভোটার তালিকা নিয়ে নজিরবিহীন ডামাডোল। প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ রেখে তাঁদের নথি খতিয়ে দেখছেন রাজ্যের বিচারপতিরা। এই আবহে হাজার হাজার অভিযোগ উঠছে উত্তর ২৪ পরগনা জুড়ে। যার জেরে বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই ভিড় উপচে পড়ছে বারাসতের জেলাশাসকের দফতরে।

বারাসত জেলাশাসকের দফতরে দীর্ঘ লাইন
বারাসত জেলাশাসকের দফতরে দীর্ঘ লাইন

সূত্রের খবর, এসআইআর প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগানার বহু ভোটারের। হাতে নথি, মুখে দুশ্চিন্তা-ভোটার তালিকায় নাম ফের তুলতেই দূরদূরান্ত থেকে বারাসতের জেলাশাসকের দফতরে ছুটে এসেছেন বহু মানুষ। বনগাঁ, বাগদা, বসিরহাট, বারাকপুর, হাবড়ার মতো জেলার নানা প্রান্ত থেকে সকালেই পৌঁছন আবেদনকারীরা। কেউ ভোরে বেরিয়েছেন, কেউ রাতেই রওনা দিয়েছেন। তবে সকলের লক্ষ্য একটাই-ভোটার তালিকায় নিজের বা পরিবারের নাম ফিরিয়ে আনা। যেমন- সেনা পরিবারের বধূ রমা দত্ত। বাবা-স্বামী ও ছেলে তিন প্রজন্ম দেশের সেবা করেছেন। তারপরও এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকায় বাদ গিয়েছে তাঁর নাম। শাশুড়িকে সাহায্য করার জন্য আসা শ্রেয়া দত্তের অভিযোগ, '২০০২ সালে আমার শাশুড়ি রমা দত্তের নাম ভোটার তালিকায় ছিল। তাঁর বাবা, স্বামী ও ছেলে-তিনজনই ভারতীয় সেনায় ছিলেন। তারপরেও তাঁর নাম বাদ। এটা যারই গাফিলতি হোক, আমরা হেনস্থার শিকার।'

বাগদার বাসিন্দা বিশ্বনাথ বাইন আবার সেনাপুত্র। তাঁর বাবার নাম ২০০২ সালের তালিকায় রয়েছে। তারপরও নাম বাদ গিয়েছে বিশ্বনাথের নাম। এই প্রসঙ্গে বিশ্বনাথ বাইন বলেন, 'আমার বাবা সেনায় চাকরি করতেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল। তবুও আমার নাম বাদ দিয়েছে।' অন্যদিকে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম বাদ গিয়েছে হাবড়া থেকে আসা বিজয় ভৌমিকেরও। তাঁর নিজের নাম রয়েছে ২০০২ সালের তালিকায়। এই রকম হাজার হাজার অভিযোগ রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জুড়ে। হাবড়ার বাসিন্দা বিজয় ভৌমিকের কথায়, 'আমি ২০০২ সালের ভোটার। তবু আমার নাম বাদ গেছে। তাই সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছি।' সকলেরই অভিযোগ, সংশোধিত তালিকা প্রকাশের পর হঠাৎই বাদ গেছে বহু নাম। কারও বাবা-মায়ের নাম ২০০২ সালের তালিকায় থাকলেও নতুন তালিকায় পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম নেই বলে দাবি। ফলে ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। নাম ফের তুলতে ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হয়। তাই ভোর থেকেই জেলাশাসকের দফতরের সামনে লাইন দীর্ঘ হয়। নথিপত্র হাতে দাঁড়িয়ে একের পর এক আবেদন জমা দেন মানুষ। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে নাম ফের তালিকায় উঠবে কিনা, সেই উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।