SIR Row in WB Assembly: এসআইআর আলোচনায় ‘না’ স্পিকারের, বিধানসভায় ভোট নিয়ে শুভেন্দুকে বড় বার্তা মমতার

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। ক্ষমতাসীন তৃণমূলের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক আতঙ্ক তৈরি করেছে।

Published on: Feb 5, 2026, 14:09:01 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বৃহস্পতিবার বাজেট পেশের আগে শুভেন্দু বনাম মমতা দেখল বিধানসভা। আজ অধিবেশনে এসআইআর আলোচনায় সম্মতি দেননি স্পিকার। তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু বলেন, ‘আমাদের জানানো হল এসআইআর নিয়ে আলোচনা হবে। আমরা তৈরি হয়ে এলাম। কিন্তু এখন বলছেন হবে না।’ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে এরপর বিঁধতে থাকেন শুভেন্দু। বলেন, ‘অনুপ্রবেশ সমস্যায় ডেমোগ্রাফি বদল হচ্ছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, কাঁটাতার দেওয়া যায়নি জমি সমস্যার কারণে। জবাবে মমতা বলেন, ‘অনুপ্রবেশের কথা মাথায় ঢুকেছে। বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে?’

বৃহস্পতিবার বাজেট পেশের আগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এসআইআর সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। (PTI)
বৃহস্পতিবার বাজেট পেশের আগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এসআইআর সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। (PTI)

কাঁটাতার নিয়ে শুভেন্দুর অভিযোগ নিয়ে মমত বলেন, ‘আমি অনেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেখেছি। আমাকে দেখাবে না। কেন্দ্রীয় সরকারকে জমি দিয়েছি। আগে কাজ শেষ করুন, তারপর আরও জমি দেব। জাতীয় গ্রন্থাগারে পেগাসাস লাগিয়েছেন অনুপ্রবেশের কথা বলছেন? একটা রোহিঙ্গা খুঁজে পেয়েছেন? ২০২৪ সালে এই ভোটার লিস্টে ভোট হয়েছে। তা হলে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলুন।’ ভোটের ফল নিয়ে বড় দাবি করে মমতা বলেন, ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কী অবস্থা দেখা যাচ্ছে। তাই আপনারা জিরো ছিলেন, জিরো আছেন, জিরোই থাকবেন। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। কিন্তু জেনে রাখুন, অনেক সিট হারাবেন।’

এর আগে গতকাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এসআইআর মামলায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সওয়াল করেন সুপ্রিম কোর্টে। সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, 'সবকিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে, আমরা ন্যায়বিচার পাচ্ছি না, যখন ন্যায়বিচার দরজার আড়ালে কাঁদছে - আমরা কোথাও ন্যায়বিচার পাচ্ছি না। আমি ইসিআইকে চিঠি লিখেছি... কিন্তু কোনও জবাব পাইনি। আমি খুব কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, আমি আমার দলের জন্য লড়াই করছি না।' এরপর মমতা কয়েকটি ছবি দেখাতে চান প্রধান বিচারপতিকে। তিনি অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করা হচ্ছে। মমতা প্রশ্ন তোলেন, কেন অসমে এসআইআর হচ্ছে না, তবে ২৪ বছর পরে বাংলায় এসআইআর হচ্ছে। এদিকে তিনি বলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে ৮ হাজারের বেশি মাইক্রো অবজারভার নিয়ে এসে নাকি নাম মোছা হচ্ছে ভোটার তালিকা থেকে। তিনি নির্বাচন কমিশনকে হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন বলে আখ্যা দেন।

উল্লেখ্য, এসআইআর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দলের অভিযোগ, বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য এই প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করছে। এই প্রস্তাবে ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, এই মৃত্যুর দায় কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারকে নিতে হবে। এর আগে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন যে এই 'এসআইআর-এর ভয়ের' কারণে রাজ্যে প্রতিদিন ৩-৪ জন মানুষ আত্মহত্যা করছেন। তিনি এটিকে এনআরসি-র অপর রূপ বলে অভিহিত করেছেন। বিজেপির পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে অভিযোগ করছে, তৃণমূল সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের মধ্যে গুজব ও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More