SIR Tribunal: রাস্তার দুরবস্থায় নাজেহাল! যাতায়াতের ধকলে ট্রাইব্যুনাল ছাড়তে চান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি
জানা গিয়েছে, সল্টলেকে থাকেন ইন্দ্রজিৎ। কাজের সূত্রে নিয়মিত তাঁকে জোকায় যেতে হয়। কিন্তু বাড়ি থেকে গন্তব্যে পৌঁছতেই দীর্ঘ সময় কেটে যাচ্ছে। পাইলট কার সঙ্গে থাকলেও এক দিকে যেতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। ফেরার সময় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
বেহাল রাস্তা আর যানজটে নিত্যদিনের দীর্ঘ যাত্রা। সেই সমস্যাই এ বার প্রভাব ফেলল জোকা ট্রাইব্যুনালের কাজে। বাড়ি থেকে ট্রাইব্যুনালে যাতায়াতের অসুবিধার কথা জানিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করলেন কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এই মর্মে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির দপ্তরে চিঠিও পাঠিয়েছেন তিনি।

জানা গিয়েছে, সল্টলেকে থাকেন ইন্দ্রজিৎ। কাজের সূত্রে নিয়মিত তাঁকে জোকায় যেতে হয়। কিন্তু বাড়ি থেকে গন্তব্যে পৌঁছতেই দীর্ঘ সময় কেটে যাচ্ছে। পাইলট কার সঙ্গে থাকলেও এক দিকে যেতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। ফেরার সময় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। শহরের যানজটের পাশাপাশি রাস্তার ভগ্নদশাকেও এই দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি।
ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, প্রথম দিকে তাঁর ধারণা ছিল, ট্রাইব্যুনালের কাজ হয়তো দু-তিন মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে কয়েক মাসের যাতায়াতের সমস্যা মেনে নেওয়া সম্ভব বলেই ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু কাজের পরিধি দেখে পরে তাঁর সেই ধারণা বদলে যায়। বিষয়টি দ্রুত মিটে যাওয়ার বদলে দীর্ঘ সময় ধরে চলবে বলেই বুঝতে পারেন তিনি। তখনই নিয়মিত এত দূরের পথ পাড়ি দেওয়া তাঁর পক্ষে কতটা কঠিন হতে পারে, তা স্পষ্ট হয়।
তাই ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে তিনি প্রধান বিচারপতির দপ্তরে আবেদন করেছেন। তবে পুরোপুরি কাজ ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা তাঁর নেই বলেই চিঠিতে ইঙ্গিত দিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তাঁর বক্তব্য, প্রতিদিন দীর্ঘ রাস্তা পাড়ি দেওয়ার প্রয়োজন না থাকলে তিনি দায়িত্ব পালন করতে আপত্তি করবেন না। বাড়ির কাছাকাছি কোনও জায়গায় কাজের ব্যবস্থা করা গেলে কিংবা বাড়ি থেকেই কাজ করার সুযোগ থাকলে সমস্যাটি অনেকটাই মিটতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে জোকা ট্রাইব্যুনালের কাজের গতি। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার পরে ট্রাইব্যুনালে বিপুল সংখ্যক আবেদন জমে রয়েছে। অভিযোগ, সেই আবেদনের নিষ্পত্তির কাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। ফলে দ্রুত শুনানি এবং সিদ্ধান্তের জন্য ট্রাইব্যুনালে আরও বিচারপতি নিয়োগের দাবি বার বার উঠেছে।
তার মধ্যেই ট্রাইব্যুনালের এক সদস্যের তরফে দায়িত্ব পালনের বাস্তব সমস্যার কথা সামনে এল। ফলে শুধু মামলার সংখ্যা নয়, বিচারপতিদের কর্মস্থলে পৌঁছনোর পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক সংস্থায় প্রতিদিনের যাতায়াত যদি এতটাই সময়সাপেক্ষ এবং কষ্টকর হয়, তা হলে তার প্রভাব কাজের উপরও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
জানা গিয়েছে, এর আগেও কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবগণনম ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। এ বার ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের আবেদন সামনে আসায় সেই বিষয়টিও ফের আলোচনায় এসেছে।
তবে তাঁর আবেদন এখনও গ্রহণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি। শেষ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের কাজ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হবে, নাকি বিকল্প কোনও ব্যবস্থা করা হবে, এখন সেই দিকেই নজর। তবে তাঁর চিঠি একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিচার ব্যবস্থার কাজকে গতিশীল রাখতে শুধু প্রয়োজনীয় লোকবল নয়, বিচারপতিদের নিয়মিত যাতায়াতের জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামোরও প্রয়োজন।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


