CCU-তেই মৃত্যু ফাঁদ! এনআরএস হাসপাতালে ভাঙল ছাদের চাঙড়, অল্পের জন্য রক্ষা ১২ রোগী

পূর্ত দফতর ইতিমধ্যেই সিসিইউ ভবনটির মেরামতির কাজ শুরু করছে। এনআরএস কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত, এই মেরামতির কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিসিইউ-তে রোগী ভর্তি করা হবে না।

Published on: Apr 3, 2026, 16:46:04 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

আরজি কর হাসপাতালের লিফ্ট-কাণ্ডের পর ফের প্রশ্নের মুখে সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো ব্যবস্থা। এবার শহরের অন্যতম বড় সরকারি হাসপাতাল নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল (এনআরএস)-এর সিসিইউ-তেই মৃত্যু ফাঁদ। ছাদের চাঙড় ভেঙে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। দুর্ঘটনার সময় সেখানে ১২ জন রোগী ছিলেন। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন সকলেই। তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে হাসপাতাল চত্বর জুড়ে। পাশাপাশি হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের এইরূপ বেহাল দশা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

এনআরএস হাসপাতালে ভাঙল ছাদের চাঙড় (সৌজন্যে টুইটার)
এনআরএস হাসপাতালে ভাঙল ছাদের চাঙড় (সৌজন্যে টুইটার)

এনআরএস-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ সিসিইউ। জানা গেছে, দুদিন আগেই হাসপাতালের ইউএনবি বিল্ডিংয়ের ৬ তলায় হঠাৎই ছাদের চাঙড় ভেঙে পড়ে। সেই সময় সিসিইউ-তে ভর্তি ছিলেন অন্তত ১২ জন রোগী। সৌভাগ্যবশত, কেউ গুরুতরভাবে আহত হননি। তবে চাঙড় ভেঙে পড়ার জেরে সিসিইউ-র মেঝে ফেটে যায় এবং ছাদে বড় ফাটল ধরা পড়ে, যা দেখে আতঙ্ক ছড়ায় রোগী ও চিকিৎসাকর্মীদের মধ্যে। এদিকে, দুর্ঘটনার পর দ্রুত পদক্ষেপ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঝুঁকি এড়াতে সঙ্গে সঙ্গে সব রোগীকে অন্য ওয়ার্ডে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ১২ বেডের সিসিইউ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। আপাতত ওই সিসিইউ-তে নতুন করে কোনও রোগী ভর্তি করা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অন্য একটি বিল্ডিংয়ে অস্থায়ীভাবে ৫ বেডের সিসিইউ চালু করে চিকিৎসা পরিষেবা চালানো হচ্ছে।

পূর্ত দফতর ইতিমধ্যেই সিসিইউ ভবনটির মেরামতির কাজ শুরু করছে। এনআরএস কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত, এই মেরামতির কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিসিইউ-তে রোগী ভর্তি করা হবে না। এই প্রসঙ্গে হাসপাতালের সিসিইউ বিভাগের কো-ইনচার্জ ডা. সাত্যকি মজুমদার জানান, সিসিইউ-র ছাদের একটি অংশে ফাটল দেখা দিয়েছিল। ইতিমধ্যেই সেই অংশের মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে। সতর্কতা হিসেবে রোগীদের দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে পাশের নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সিসিইউ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হওয়ায় এর পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। তাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েই বিভাগের কাজ চালু রাখা হয়েছে। বর্তমানে সিসিইউ-তে ১২ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন, মোট শয্যা সংখ্যা ১৫টি। পাশাপাশি, রোগীদের অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ-যেমন এইচডিইউ, নিউরো আইসিইউ এবং রেসপিরেটরি আইসিইউ-সবই স্বাভাবিকভাবেই চলছে।

পাশাপাশি, সিসিইউ-র ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতির কাজও জোরকদমে এগোচ্ছে। অন্যদিকে, রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম বলেছেন, 'গত ১ এপ্রিল সিসিইউ-এর দেওয়ালে একটি ফাটল নজরে আসে। পূর্ত দফতরকে খবর দেওয়া হয়। তাঁরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং ফলস সিলিং সরিয়ে ছাদটি পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে কাজ চলছে। রোগীদের এইচডিইউ-তে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।'

সরকারি হাসপাতালগুলির পরিকাঠামোর প্রশ্ন

এই ঘটনাকে ঘিরে ফের সামনে এল সরকারি হাসপাতালগুলির ভঙ্গুর পরিকাঠামোর প্রশ্ন। এর আগেও আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-এ লিফ্ট বিকল হয়ে পড়ার ঘটনা সামনে এসেছিল। পাশাপাশি, ট্রমা কেয়ার ইউনিটে পর্যাপ্ত টয়লেট না থাকার অভিযোগ ঘিরেও তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়, যেখানে পরপর দু’দিন মৃত্যুর ঘটনাও সামনে আসে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, পুরনো ভবন, এবং প্রয়োজনের তুলনায় রোগীর চাপ-এই তিনের সংমিশ্রণেই পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। বহু ক্ষেত্রেই সময়মতো মেরামত না হওয়া বা অস্থায়ী সমাধানের ওপর নির্ভর করাই বড় ঝুঁকি ডেকে আনছে। এনআরএস-এর ঘটনা ফের রোগী ও তাদের পরিবারের উদ্বেগকে আরও প্রকট করে তুলল।

প্রশ্ন উঠছে, শহরের প্রধান সরকারি হাসপাতালগুলিতে যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসার জন্য ভরসা করেন, সেখানে ন্যূনতম নিরাপত্তা কেন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না? বারবার দুর্ঘটনা ঘটার পরও কেন স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না?