Opposition Leader in Bengal Assembly: খারিজ অভিষেকের চিঠি! বিধানসভার বিরোধী দলনেতার নাম বাছাই নিয়ে জট, ক্ষুব্ধ শোভনদেব

Opposition Leader in Bengal Assembly: বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, পরিষদীয় দল সংক্রান্ত যে কোনও চিঠি বা দাবি জানানোর এক্তিয়ার শুধুমাত্র সেই দলের বিধায়কদেরই রয়েছে। বিধানসভা সচিবালয় সূত্রে খবর, কোনও দল কিংবা দলের সাধারণ সম্পাদকের লেটারহেডে লিখে এভাবে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার নাম জানানো নিয়ম বহির্ভূত। 

Published on: May 19, 2026 2:08 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Opposition Leader in Bengal Assembly: ভোটে ভরাডুবি। সরকার পক্ষ থেকে তৃণমূল কংগ্রেস এখন বিরোধী পক্ষ। কিন্তু বিধানসভায় জটিলতা তারপরেও। বালিগঞ্জের প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের নেতা (বিরোধী দলনেতা) নির্বাচিত করা হলেও, বিধানসভায় তাঁর বসার ঘর পাওয়া নিয়ে তৈরি হলো তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা। সোমবারও বিধানসভার বিরোধী দলনেতার ঘরটি তালাবন্ধ হয়েই থাকল। আর এই ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি চিঠি, যাকে কোনও ভাবেই মান্যতা দিতে রাজি নয় বিধানসভার সচিবালয়। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই চিঠিতে কাজ হবে না। ইতিমধ্যে বিধানসভার সচিবালয়ের তরফে তা অভিষেককে জানানো হয়েছে।

বিধানসভার বিরোধী দলনেতার নাম বাছাই নিয়ে জট (PTI)
বিধানসভার বিরোধী দলনেতার নাম বাছাই নিয়ে জট (PTI)

বিতর্কের সূত্রপাত

বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ষীয়ান রাজনীতিক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করার পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিধানসভার সচিবালয়ে যে চিঠি পাঠানো হয়, তাতে স্বাক্ষর ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আর এখানেই আপত্তি তুলেছে সচিবালয়।

নিয়ম কী বলছে?

বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, পরিষদীয় দল সংক্রান্ত যে কোনও চিঠি বা দাবি জানানোর এক্তিয়ার শুধুমাত্র সেই দলের বিধায়কদেরই রয়েছে। বিধানসভা সচিবালয় সূত্রে খবর, কোনও দল কিংবা দলের সাধারণ সম্পাদকের লেটারহেডে লিখে এভাবে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার নাম জানানো নিয়ম বহির্ভূত। নিয়ম অনুযায়ী, তৃণমূলের জয়ী ৮০ জন বিধায়ক বিরোধী দলনেতা বাছাই করবেন। তা কোনও দল ঠিক করতে পারে না। সচিবালয়ের যুক্তি হল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার সাংসদ, বিধানসভার সদস্য নন। তাই বিধানসভার রুল বুক অনুযায়ী তাঁর দেওয়া চিঠির কোনও আইনি বৈধতা নেই। যিনি বিধানসভার সদস্য নন, তাঁর চিঠির ভিত্তিতে বিরোধী দলনেতার ঘর বা অন্যান্য সুবিধা ছাড়া সম্ভব নয়।

ক্ষুব্ধ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়

অন্যদিকে, সচিবালয় এই আপত্তির কথা স্পষ্ট করে দেওয়ার পরই এদিন বিধানসভা চত্বরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ঘটনার প্রতিবাদে তিনি তথ্যের অধিকার আইনে (আরটিআই) একটি আবেদনও জানান। প্রবীণ এই রাজনীতিক বলেন, অতীতে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকার থাকাকালীন এমনটা ঘটেনি। তাঁর কথায়, 'একটা সময়ে তৃণমূলের একমাত্র বিধায়ক ছিলাম আমি। তখন রাস্তায় বসে দল করেছি। দরকার হলে এবারও রাস্তায় বসে যাব, কিন্তু কোনও আবেদন-নিবেদন করতে যাব না। এটা অন্যায়।' টানাপোড়েনের মাঝে এদিন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘর খোলা হয়নি। তা তালাবন্ধই ছিল। শুধুমাত্র একটি ঘর বিরোধী দলের বিধায়কদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত বিধানসভার অন্য একটি ঘরে বসে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়দের নিয়ে কাজ চালান তিনি। দলীয় নেতৃত্বকে এই বিষয়টি জানিয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ওদিকে সচিবালয় সাফ জানিয়েছে, কারও কথায় বিধানসভার রুল ভাঙা সম্ভব নয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভার রুল বুক নিয়ে এই দড়িটানাটানি আসলে তৃণমূল জমানারই এক ‘স্মারক।’ এ ব্যাপারে ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে। ২০১৬ সালের পর প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকে সুযোগ না দিয়ে তৃণমূল যেভাবে তৎকালীন স্পিকারকে দিয়ে পিএসি চেয়ারম্যান পদ নিজেদের ইচ্ছেমতো বণ্টন করেছিল তা ছিল বেনজির। প্রথমে মানস ভুঁইয়া, পরে শঙ্কর সিং এবং শেষে খাতায়-কলমে বিজেপি বিধায়ক মুকুল রায়কে সেই পদে বসানো হয়েছিল। তখন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় রুল বুক দেখিয়েই তা ন্যায্য প্রমাণ করেছিলেন। এবার সেই রুল বুক দেখিয়েই সচিবালয় পাল্টা জবাব দিচ্ছে তৃণমূলকে।