Partha Chatterjee: 'ভারতের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তার...,' মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী
Partha Chatterjee: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে টার্গেটের পিছনে অভিযুক্ত হামিম মন্ডল নামে জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ ও বর্ধমান পুলিশ। হামিল সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর সদস্য এই হামিম মণ্ডল।
Partha Chatterjee: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে টার্গেট করে ধৃত জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি হামিম মণ্ডলের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগাযোগ নিশ্চিত করেছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। তবে তাদের প্ল্যান ভেস্তে দিয়েছে এসটিএফ। শনিবার এসটিএফের আইজি গৌরব শর্মা সাংবাদিক বৈঠকে রীতিমতো বিস্ফোরক সমস্ত তথ্য তুলে ধরেন। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য চিন্তিত প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
রবিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশে দাঁড়িয়ে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেখানে তিনি লিখেছেন, 'পূর্ব বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডলের গ্রেফতারিকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) যে তথ্য প্রকাশ করেছে, সেটা পড়ে যা বুঝতে পারছি, এটা শুধুমাত্র একটি সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলার তদন্ত হতে পারে না; বরং সীমান্তপারের জঙ্গি নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল র্যাডিক্যালাইজেশন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিরাপত্তা, এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে একসঙ্গে নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত গুরুতর বিষয়। হামিম মণ্ডলের সঙ্গে পাকিস্তান-ভিত্তিক একাধিক হ্যান্ডলারের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে 'রানা', 'উজায়ের', 'আবিদ জাট ৩৩৩' এবং 'হামাদ' নামে পরিচিত কয়েকটি পাকিস্তানি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল; এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে জইশ-ই-মহম্মদ-এর যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছে।'
উদ্বেগের প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, 'সবথেকে যেটা চিন্তার বিষয়, আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছিল। পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা হামিমকে শুভেন্দু অধিকারীর চলাফেরা, কর্মসূচি এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছিল। সামগ্রিকভাবে, হামিম মণ্ডলের ঘটনা একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধের ঘটনা হিসেবে নয়, বরং ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পরিবর্তিত চ্যালেঞ্জের প্রতিফলন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ওপর পাকিস্তানি জঙ্গিদের নজরদারি ও আক্রমণের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকার সমস্ত চেষ্টা আমাদের করতে হবে। মৌলবাদী শক্তির কাছে মাথা নোয়ালে চলবে না। জিরো টলারেন্স অ্যান্ড কুইক অ্যাকশন নিতে হবে।' বলে রাখা প্রয়োজন, নিয়োগ দুর্নীতিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেস থেকে তাঁকে অপসারিত করা হয়েছিল। এরপর জেল থেকে ফিরে আসেন পার্থ। যে সময় পার্থ ফেরেন তার কয়েক মাস পরই ছিল ছাব্বিশের নির্বাচন। জল্পনা ছড়াচ্ছিল তবে কী বেহালা পশ্চিম থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হবেন তিনি? কিন্তু দেখা গেল তৃণমূল তাঁকে টিকিট দেয়নি। এদিকে, এবার রাজ্যেরও পালা বদল হয়। তৃণমূল ভেঙে দু’ভাগ হয়েছে। নতুন তৃণমূলে অনেকেই যোগদান করেছেন। এর মধ্যে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে পোস্ট, অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে টার্গেটের পিছনে অভিযুক্ত হামিম মন্ডল নামে জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ ও বর্ধমান পুলিশ। হামিল সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর সদস্য এই হামিম। এই জঙ্গিগোষ্ঠী মূলত পাকিস্তানের সংগঠন। এরা টাকার বিনিময়ে খুন, তোলাবাজি ও সন্ত্রাসবাদী কাজ করে। এই সংগঠন বিগত কয়েক বছর ধরে কাশ্মীরে মাথাচাড়া দিয়েছে। এবার বাংলাতেও সেই জঙ্গি সংগঠনের সদস্যের খোঁজ মিলল। জানা গিয়েছে, হাওড়ার পিলখানার বাসিন্দা হামিম। তাঁর বাবা গেঞ্জির কারখানায় কাজ করত। সে-ও তাঁর বাবার সঙ্গেই ওই কারখানায় কাজ করত। বিগত দুই থেকে তিন মাস ধরেই হামিম বর্ধমানে থাকছিল, ঠিক যেই সময়ে রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। বর্ধমানে বসেই কী তবে মুখ্যমন্ত্রীর উপরে হামলার ছক কষছিল? এই নিয়েই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়াতে দেখা গেল।
E-Paper

