Sate Fish: ত্রিপুরার পাবদা, ইউপি-র চিতল! প্রতিটি রাজ্যের আছে ‘স্টেট ফিশ’, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য মাছ কোনটি, জানেন কি

ভারতের উত্তরের বরফগলা নদীর ঠান্ডা জল থেকে শুরু করে দক্ষিণের সমুদ্র উপকূল—প্রতিটি ভৌগোলিক অঞ্চলের নিজস্ব রাজ্য মাছ রয়েছে। কিন্তু রহস্য লুকিয়ে রয়েছে পূর্ব ভারতের অন্যতম নদীমাতৃক রাজ্য বাংলায়।

Published on: Sep 4, 2026, 06:51:35 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

নদীনালা, খালবিল ও দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতে ঘেরা ভারতে মাছ কেবল বাঙালির রসনা তৃপ্তির মাধ্যম নয়, এটি দেশের বহু রাজ্যের অর্থনীতি, খাদ্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার প্রধান স্তম্ভ। আমাদের দেশে বাঘ, ময়ূর কিংবা আম যেমন জাতীয় পশু, পাখি ও ফলের মর্যাদা পেয়েছে, ঠিক তেমনই দেশের বিভিন্ন রাজ্য তাদের স্থানীয় জলজ প্রজাতি সংরক্ষণ ও নিজস্ব জলবায়ুর পরিচয় বহনকারী বিশেষ কিছু মাছকে দেওয়া হয়েছে 'রাজ্য মাছ' বা 'স্টেইট ফিশ'-এর খেতাব।

ত্রিপুরার পাবদা, ইউপি-র চিতল! প্রতিটি রাজ্যের আছে ‘স্টেট ফিশ’, পশ্চিমবঙ্গের কী
ত্রিপুরার পাবদা, ইউপি-র চিতল! প্রতিটি রাজ্যের আছে ‘স্টেট ফিশ’, পশ্চিমবঙ্গের কী

ভারতের উত্তরের বরফগলা নদীর ঠান্ডা জল থেকে শুরু করে দক্ষিণের সমুদ্র উপকূল—প্রতিটি ভৌগোলিক অঞ্চলের নিজস্ব রাজ্য মাছ রয়েছে। কিন্তু রহস্য লুকিয়ে রয়েছে পূর্ব ভারতের অন্যতম নদীমাতৃক রাজ্য বাংলায়। মাছে-ভাতে বাঙালির পাড়ায় কোনটা হতে পারে সরকারি রাজ্য মাছ? ইলিশ নাকি রুই? চিতল নাকি ভেটকি? নাকি আমাদের চেনা খাস জলাশয়ের কোনো মিষ্টি জলের প্রজাতি? সেই উত্তর জানার আগে চলুন ঘুরে আসা যাক দেশের অন্যান্য প্রান্তের জলজ রাজ্যের বৈচিত্র্যে।

উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি ও মিষ্টি জলের রাজ্য মাছ

ভারতের উত্তরের হিমালয় সংলগ্ন নদী ও পাহাড়ের বরফগলা জলের মাছগুলোর আকৃতি ও প্রজাতি উপকূলীয় অঞ্চলের চেয়ে অনেকটাই আলাদা:

  • জম্মু ও কাশ্মীর এবং হিমাচল প্রদেশ: হিমালয়ের বরফগলা ঠান্ডা নদীতে পাওয়া যায় 'ব্রাউন ট্রাউট' (Brown Trout) ও 'গোল্ডেন মহাশীর' (Golden Mahseer)। জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্য মাছ হলো কালচে ছোপযুক্ত 'ব্রাউন ট্রাউট'। অন্যদিকে হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড তাদের নদীমাতৃক ঐতিহ্যের জন্য বিলুপ্তপ্রায় ও লড়াই করার জন্য পরিচিত 'গোল্ডেন মহাশীর'-কে রাজ্য মাছের মর্যাদা দিয়েছে।
  • অসম ও অরুণাচল প্রদেশ: উত্তর-পূর্ব ভারতের অসমে ব্রহ্মপুত্রের বুকে পাওয়া যায় সুস্বাদু 'চিতল' (Chitala / Clown Knifefish)। এখানকার লোকসংস্কৃতি ও রান্নার সাথে চিতল মাছের গভীর সম্পর্ক থাকায় অসমের রাজ্য মাছ হলো চিতল।
  • মণিপুর ও ত্রিপুরা: মণিপুরের অত্যন্ত বিরল ও ঐতিহ্যবাহী মাছ হলো 'পেনবা' (Pengba)। মিষ্টি জলের এই মাছটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব প্রচুর। অন্যদিকে ত্রিপুরা তাদের স্থানীয় জলাশয়ের জনপ্রিয় মিষ্টি জলের মাছ 'পাবদা'-কে (Pabda) রাজ্য মাছ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতের সামুদ্রিক ও মিষ্টি জলের মাছের বৈচিত্র্য

ভারতের দীর্ঘ উপকূলরেখা থাকার কারণে দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলোতে সামুদ্রিক মাছের আধিপত্য চোখে পড়ার মতো:

  • কেরালা ও তামিলনাড়ু: ব্যাকওয়াটার ও সমুদ্র ঘেরা কেরালা রাজ্যের রাজ্য মাছ হলো 'গ্রিন ক্রোমাইড' (Green Chromide), যা স্থানীয় ভাষায় 'কারিমিন' (Karimeen) নামে বিখ্যাত। তামিলনাড়ু বেছে নিয়েছে সুস্বাদু 'কোরাল ট্রাউট' বা স্থানীয় মিষ্টি জলের প্রজাতি।
  • গোয়া ও মহারাষ্ট্র: সমুদ্র বিলাসী গোয়ার রাজ্য মাছ হলো 'গ্রে মুল্লেট' বা 'শেভটো' (Shevto)। বাণিজ্যনগরী মহারাষ্ট্রের উপকূলীয় অর্থনীতি নির্ভর করে 'পমফ্রেট' (Silver Pomfret) মাছের ওপর। সম্প্রতি মহারাষ্ট্র সরকার সিলভার পমফ্রেটকে তাদের রাজ্য মাছ ঘোষণা করেছে।
  • অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা: অন্ধ্রপ্রদেশের রাজ্য মাছ হলো 'ক্যাটফিশ' বা 'কররা মাত্তা' (Muddu / Striped Murrel)। প্রতিবেশী ওড়িশা রাজ্য তাদের বিশাল জলাশয় ও চিলকা হ্রদের কথা মাথায় রেখে বেছে নিয়েছে সুস্বাদু 'মরিগ্যাল' বা 'মৃগেল' (Mrigal) মাছকে।

নদীমাতৃক বাংলার মাছ

এবার আসা যাক মাছে-ভাতে বাঙালির কথায়। যখনই পশ্চিমবঙ্গের কথা ওঠে, তখনই চোখের সামনে ভেসে ওঠে পদ্মা বা গঙ্গার রুপোলি ফসল 'ইলিশ'। বর্ষার দিনে সর্ষে ইলিশ কিংবা ভাপা ইলিশ ছাড়া বাঙালির রূপকথা যেন অসম্পূর্ণ। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত ইলিশ শিকার এবং কৃত্রিম প্রজনন না হওয়ার দরুন সরকারি নথিতে কি ইলিশ স্থান পেয়েছে? নাকি জায়গা করে নিয়েছে বাঙালির রোজকার খাবারের পাতের 'রুই' বা 'কাতলা'?

২০১২ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার যখন নিজস্ব রাজ্য পশু, পাখি ও মাছের সরকারি তালিকা প্রকাশ করে, তখন জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষার তাগিদে অত্যন্ত স্বকীয় এক মাছকে 'রাজ্য মাছ' হিসেবে ঘোষণা করে।

অনেক তর্ক-বিতর্ক ও বিশ্লেষণের পর বাঙালির আবেগ, আন্তর্জাতিক রফতানি মূল্য এবং মিষ্টি ও নোনা জলের মিলনস্থলের রূপোলি ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার 'ইলিশ' (Tenualosa ilisha) মাছকেই আনুষ্ঠানিকভাবে 'রাজ্য মাছ' (State Fish of West Bengal) হিসেবে ঘোষণা করেছে। নদী থেকে সমুদ্রে চলাচলের অনন্য জীবনচক্র এবং বিপন্ন হতে বসা এই রূপোলি সম্পদকে বাঁচাতেই সরকারি স্তরে এই সম্মান প্রদান করা হয়েছিল।

বিভিন্ন রাজ্যের মাছের তালিকা

  • পশ্চিমবঙ্গ: ইলিশ (Hilsa)
  • গুজরাত: ঘোল মাছ (Blackspotted Croaker)
  • সিকিম: কাটলি (Katley / Neolissochilus hexagonolepis)
  • অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলঙ্গানা: স্ট্রাইপড মুড়েল (Striped Murrel / Channa striata)
  • অরুণাচল প্রদেশ, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং উত্তরাখণ্ড: গোল্ডেন মহিষীর (Golden Mahseer)
  • বিহার: মাগুর (Magur / Clarias batrachus)
  • কেরালা: কারিমিন বা পার্লস্পট (Karimeen / Pearlspot)
  • কর্নাটক: কার্নাটিক কার্প (Carnatic Carp)
  • মণিপুর: পেংবা (Pengba)
  • ত্রিপুরা: পাবদা (Indian Butter Catfish)
  • উত্তরপ্রদেশ: চিতল (Chital / Indian Featherback)
  • ওড়িশা: মহানদী মহিষীর (Mahanadi Mahseer)
  • নাগাল্যান্ড: চকলেট মহিষীর (Chocolate Mahseer)
  • গোয়া: স্ট্রাইপড গ্রে মুললেট (Striped Grey Mullet)
  • মিজোরাম: বার্মিজ কিংফিশ (Burmese Kingfish)

রাজ্য মাছের এই বৈচিত্র্য কেবল তালিকায় সীমাবদ্ধ নয়, এটি আমাদের দেশের প্রতিটি রাজ্যের নদী ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখার এক অঙ্গীকার। ইলিশের সংরক্ষণ যেমন বাঙালির দায়িত্ব, তেমনই প্রতিটি রাজ্যের রাজ্য মাছ রক্ষা করা ভারতের সামগ্রিক জলজ জীববৈচিত্র্যের বেঁচে থাকার মূল চাবিকাঠি।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More