ওড়িশায় বাংলাদেশি সন্দেহে খুন! জুয়েলের পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী, মা'কে চাকরির নিয়োগপত্র

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নাজেমা বিবিকে সুতি ১ নম্বর ব্লকের বিএলআরও অফিসে অ্যাটেন্ডেট হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে।

Published on: Jan 7, 2026, 18:08:18 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

জীবিকার সন্ধানে ভিন রাজ্যে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের যুবক জুয়েল রানা (২১)। গত ২৫ ডিসেম্বর ওড়িশার সম্বলপুরে তথাকথিত ‘বাংলাদেশি’ অপবাদ দিয়ে তাঁকে গণপিটুনি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। সেই ভয়াবহ ঘটনায় জুয়েলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল তাঁর পরিবারে। মঙ্গলবার রাতে মানবিক মুখ দেখিয়ে নিহতের মায়ের হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিল রাজ্য সরকার।

জুয়েলের পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী (সৌজন্যে টুইটার)
জুয়েলের পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী (সৌজন্যে টুইটার)

ঘটনার সূত্রপাত

গত ২০ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদ থেকে জুয়েল রানা-সহ আরও কয়েকজন যুবক ওড়িশার সম্বলপুরে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়েছিলেন। ২৫ ডিসেম্বর রাত ৮টা ৩০ মিনিট নাগাদ জুয়েল স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে যান। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন আরিক ও পলাশ। সেখানে তাঁরা কথা বলছিলেন বাংলায়। অভিযোগ, সেই সময় পাঁচজন দুষ্কৃতীর দল সেখানে যায়। তারা মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে অশান্তি করতে থাকে। শ্রমিকরা বৈধ পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাঁদের বাংলাদেশি বলে গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। দুষ্কৃতীদের হাত থেকে কোনও মতে পালিয়ে যান আরিক ও পলাশ। পালাতে পারেননি জুয়েল। তাঁকে বেধড়ক মারধর করে দুষ্কৃতীরা। জুয়েল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। জুয়েলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ

এই ঘটনার পরই সরব হয় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। মন্ত্রী শশী পাঁজা সাংবাদিক বৈঠক করে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, 'পরিবারের পাশে আমরা রয়েছি। সব রকম সাহায্য করা হবে।' মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সেই প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়িত হল। মঙ্গলবার রাতে জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা সাংসদ খলিলুর রহমান সুতি থানার অন্তর্গত চক বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা জুয়েলের বাড়িতে গিয়ে তাঁর মা নাজেমা বিবির হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন।মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নাজেমা বিবিকে সুতি ১ নম্বর ব্লকের বিএলআরও অফিসে অ্যাটেন্ডেট হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সবুজ সংকেত আসার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁর হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।

বিডিও অরূপ কুমার সাহা বলেন, 'রাজ্য সরকারের নির্দেশে নাজেমা বিবিকে চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ তিনি কাজে যোগ দেবেন।' তিনি আরও বলেন, 'জুয়েল রানার মৃত্যুর পর ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ওই পরিবারকে দু’লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ওই পরিবারকে রেশন এবং অন্যান্য সাহায্য প্রদান করা হয়েছে।' অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের চাকরির নিয়োগপত্র পেয়ে নাজেমা বিবি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। তিনি বলেন, 'আমার ছেলের মৃত্যুর পর মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল দল যে ভাবে আমার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে তার কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই।' ভিন রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের একবার বড় প্রশ্ন তুলে দিল এই ঘটনা। তবে রাজ্য সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে শোকাতুর পরিবারটি। সাংসদ খলিলুর রহমান জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, আজ তা পূরণ করা হল।