'কেস ডায়েরি না পেলে...,' বেলডাঙা মামলায় রাজ্যের আর্জি খারিজ SCর, বহাল হাইকোর্টের নির্দেশই
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতা হাইকোর্ট বেলডাঙা থানাকে নির্দেশ দিয়েছিল কেস ডায়েরি এনআইএ-র হাতে তুলে দিতে।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা অশান্তি মামলাকে ঘিরে আবারও আইনি লড়াই সামনে এল। কেস ডায়েরি এনআইএ-কে হস্তান্তরের কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল রাজ্য সরকার। তবে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর বেঞ্চ সেই আবেদন গ্রহণ করল না। বরং বিচারপতিরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে তা যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত বলেই মনে হয়েছে তাঁদের। অর্থাৎ, বেলডাঙার ঘটনার কেস ডায়েরি তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-কে হস্তান্তরের নির্দেশই বহাল থাকল।

বেলডাঙা মামলার শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি প্রশ্ন তোলেন, 'কেস ডায়েরি না পেলে এনআইএ নিরপেক্ষভাবে কীভাবে রিপোর্ট দেবে?' একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, 'আমাদের মনে হয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট রিজনেবল নির্দেশ দিয়েছে।' তবে রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে সুপ্রিম কোর্ট শুধু কলকাতা হাই কোর্টকে নির্ধারিত দিনে মামলার শুনানি করার নির্দেশ দিয়েছে। শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো বেলডাঙার অশান্তির ঘটনায় ইউএপিএ ধারায় মামলা রুজু হবে কিনা, তা স্থির হওয়ার আগেই নথি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুধুমাত্র এনআইএ-র রিপোর্টের ভিত্তিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও রাজ্যের আপত্তি শোনেনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করছে না আদালত।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতা হাইকোর্ট বেলডাঙা থানাকে নির্দেশ দিয়েছিল কেস ডায়েরি এনআইএ-র হাতে তুলে দিতে। ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবরে অশান্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা। গত ১৬ জানুয়ারি আলাউদ্দিনের দেহ সেখানে পৌঁছোতেই সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামেন। ভিনরাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই বিক্ষোভ থেকে অশান্তি ছড়ায়। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুরও করা হয়। সেই অশান্তির ঘটনায় প্রথমে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তবে সেই ঘটনা নিয়ে বেশ কয়েকটি মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। শুনানিতে হাইকোর্ট জানিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার যদি চায়, এনআইএ-কে দিয়ে বেলডাঙার ঘটনার তদন্ত করাতে পারে। আদালতের কথামতো এনআইএ-র হাতে তদন্তভার হাতে যায়। তবে অভিযোগ, তদন্ত শুরু করলেও মামলার কেস ডায়েরি হাতে পায়নি এনআইএ। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তারা। আদালত কেস ডায়েরি হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে রাজ্যে।
E-Paper

