Sudip Banerjee on Abhishek Banerjee: 'একজন একা একটা দলকে শেষ করে দিতে পারবে, এটা ভাবা ভুল', অভিষেকের পাশে সুদীপ

তৃণমূলের সাম্প্রতিক নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর দলের ভিতরে এবং বাইরে সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্নগুলির একটি হলো—এই পরাজয়ের জন্য কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী? দলের একাংশের নেতা-কর্মীরা যেখানে সরাসরি অভিষেকের নেতৃত্ব ও কৌশলকে দায়ী করছেন, সেখানে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন।

Published on: Jun 15, 2026, 08:32:26 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থান, সংগ্রাম এবং ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছানোর কাহিনীর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর নাম। দীর্ঘদিন লোকসভায় দলের মুখ হিসেবে কাজ করেছেন, সংসদে তৃণমূলের বৃহত্তম প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বও দিয়েছেন। সেই প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির পরিবর্তন তাই নিছক দলবদল নয়, বরং রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এই আবহে শিবির বদল প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন সুদীপ।

নতুন রাজনৈতিক মঞ্চে যোগদানের পর প্রথমবার মুখ খুলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন কলকাতা উত্তর কেন্দ্রের সাংসদ। (Handout)
নতুন রাজনৈতিক মঞ্চে যোগদানের পর প্রথমবার মুখ খুলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন কলকাতা উত্তর কেন্দ্রের সাংসদ। (Handout)

রবিবার নয়াদিল্লিতে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের নতুন রাজনৈতিক মঞ্চে যোগদানের পর প্রথমবার মুখ খুলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন কলকাতা উত্তর কেন্দ্রের সাংসদ। তাঁর বক্তব্যে যেমন ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও আবেগ, তেমনই ছিল তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ, সংগঠনের দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনী বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে খোলামেলা মূল্যায়ন।

দল ছাড়লেও মমতার বিরুদ্ধে নন সুদীপ

রাজনৈতিক মহলের অনেকের ধারণা ছিল, নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দিয়েই হয়তো তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানাবেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি। টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজনৈতিক অবস্থান বদলালেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও অনুরাগ অটুট রয়েছে। তাঁর কথায়, জীবনের একটি বড় সময় তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজনীতি করেছেন। নির্বাচনের সময় যাঁকে ‘মা দুর্গা’ বলে অভিহিত করেছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার কারণে তাঁকে হঠাৎ করে সম্পূর্ণ বিপরীত ভাষায় আক্রমণ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। এই বক্তব্যে স্পষ্ট, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক অবস্থানকে আলাদা করেই দেখতে চাইছেন তিনি। তবে একইসঙ্গে তিনি এটাও বুঝিয়ে দিয়েছেন যে দলীয় নেতৃত্বের প্রতি সম্মান থাকলেও সংগঠনের বর্তমান অবস্থান নিয়ে তাঁর গভীর উদ্বেগ রয়েছে।

অভিষেককে এককভাবে দায়ী করতে নারাজ সুদীপ

তৃণমূলের সাম্প্রতিক নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর দলের ভিতরে এবং বাইরে সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্নগুলির একটি হলো—এই পরাজয়ের জন্য কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী? দলের একাংশের নেতা-কর্মীরা যেখানে সরাসরি অভিষেকের নেতৃত্ব ও কৌশলকে দায়ী করছেন, সেখানে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের পরাজয় কখনও একজন ব্যক্তির কারণে ঘটে না। কোনও নেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন, তাঁর সিদ্ধান্তের প্রভাবও থাকতে পারে, কিন্তু গোটা সংগঠনের ব্যর্থতার দায় একা কারও কাঁধে চাপানো রাজনৈতিক বাস্তবতাকে সরলীকরণ করা হবে। তিবি বলেন, 'আমি মানি না। একজন ব্যক্তি এতবড় একটা রাজনৈতিক দলকে একাই শেষ করে দিতে পারবে, এটা ভাবা ভুল।'

বরং সুদীপের মতে, মানুষের মধ্যে জমে থাকা অসন্তোষও এই ফলাফলের পিছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে। সাধারণ ভোটারদের একাংশ পরিবর্তন চাইছিলেন এবং সেই মনোভাবই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে। এরই সঙ্গে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এসে আইপ্যাক কার্যত তৃণমূলের হয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More