Sudip Banerjee on TMC MLA Nayana: মমতার সঙ্গে ছেড়েছেন সুদীপ, এবার কি স্ত্রী নয়না যোগ দেবেন ঋতব্রতদের দলে?
নয়াদিল্লিতে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চে যোগ দেওয়ার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল, তাঁর স্ত্রী তথা চৌরঙ্গীর তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ও কি স্বামীর পথেই হাঁটবেন? অবশেষে সেই জল্পনার জবাব দিলেন সদ্য এনসিপিআই-তে যোগদান করা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলবদল। নয়াদিল্লিতে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চে যোগ দেওয়ার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল, তাঁর স্ত্রী তথা চৌরঙ্গীর তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ও কি স্বামীর পথেই হাঁটবেন? অবশেষে সেই জল্পনার জবাব দিলেন সদ্য এনসিপিআই-তে যোগদান করা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং।

টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কলকাতা উত্তরের সাংসদ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আপাতত নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলেই থাকছেন। তিনি বলেন, 'আমি আমার নিজের স্ত্রীকে এখনও বোঝাতে পারিনি। সে এখনও বিধানসভায় তৃণমূলের ডেপুটি লিডার হয়ে রয়েছে। আমি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, সে আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে। শেষে আমরা সহমতে পৌঁছেছি—যে যার মতো চলবে।'
সুদীপের এই মন্তব্যে স্পষ্ট, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কে তার কোনও প্রভাব পড়ছে না। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, একই পরিবারের সদস্যদের ভিন্ন রাজনৈতিক দলে থাকার নজির নতুন নয়। সৌগত রায় ও তথাগত রায়ের রাজনৈতিক অবস্থান কিংবা কেরলের বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবারের উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি। এর আগে সুদীপের দলত্যাগের পর নয়নার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছিল। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। তবে সুদীপের বক্তব্যে পরিষ্কার, আপাতত স্বামী-স্ত্রীর রাজনৈতিক পথ আলাদা হলেও তাঁদের সিদ্ধান্ত পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে সমালোচকদেরও জবাব দেন সুদীপ। তিনি বলেন, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় পাঁচবারই তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত হয়েছেন, অন্যদিকে তিনি নিজে কংগ্রেস ও তৃণমূল মিলিয়ে দশবার জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। সুদীপ বলেন, 'নয়নার সুবিধা হল, কোনওকালে কংগ্রেস থেকে জেতেনি। পাঁচবার জিতেছে, প্রত্যেকবার তৃণমূল থেকে জিতেছে। আর আমি কংগ্রেস থেকে শুরু করে তৃণমূলে ঢুকেছি। তাতে ১০ বার জনপ্রতিনিধি হয়েছি। আর ও তৃণমূলেই পাঁচ হয়েছে। দু’জনে মিলে ১৫। এই ১৫ বার একটা পরিবার থেকে জিততে গেলে মানুষের অনেক কাছে থাকতে হয়। তারপরও যখন শুনি কেউ কেউ গালিগালাজ করছে, বোঝা ভাবছে, উত্তর কলকাতা থেকে কেন সরিয়ে দিল প্রশ্ন করছে, তখন আমার করুণা হয়। একথাগুলো বলবার আগে এগুলো দেখা উচিত।' এরই সঙ্গে রসিকতার সুরে সুদীপ আরও বলেন, তাঁর যদি কোনও বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে এখনও সেই কাজ স্ত্রীর মাধ্যমে করা সম্ভব। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক যে অটুট রয়েছে, তাঁর এই মন্তব্যে সেই ইঙ্গিতই মিলেছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


