Sukhendu Sekhar Roy Update: অমিত শাহের বৈঠকে সুখেন্দু শেখর রায়, জোর জল্পনা বিজেপিতে যোগদান নিয়ে
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ডাকা এক বৈঠকে উপস্থিত প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়। যদিও সুখেন্দু শেখর রায় এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেননি। বরং তিনি একাধিকবার বলেছেন, ভবিষ্যতে কোন রাজনৈতিক পথে হাঁটবেন, সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেননি।
Sukhendu Sekhar Roy Update: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের সুর ক্রমশ স্পষ্ট হয়েছে। সেই আবহে ফের রাজনৈতিক জল্পনা উসকে দিলেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ডাকা এক বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে চর্চা। আলিপুরের সৌজন্য সভাগৃহে আয়োজিত ওই বৈঠকে সুখেন্দু শেখর রায়ের উপস্থিতি দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, তবে কি এবার বিজেপির পথেই হাঁটতে চলেছেন তিনি? যদিও প্রাথমিকভাবে এই সাক্ষাৎকে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ বলেই দাবি করা হয়েছে।

রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে একের পর এক রাজনৈতিক ধাক্কা লেগেছে। দলের অন্দরে বিভাজন যেমন প্রকাশ্যে এসেছে, তেমনই সংসদেও ভাঙনের ছবি স্পষ্ট হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। তিনজনই তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। তাঁদের ইস্তফার জেরে রাজ্যসভার তিনটি আসন শূন্য হয়েছে এবং সেই আসনগুলিতে আগামী ২৪ জুলাই উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। মনোনয়ন জমা, স্ক্রুটিনি ও প্রত্যাহারের সূচিও প্রকাশ করা হয়েছে।
এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই অমিত শাহের বৈঠকে সুখেন্দুর উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। কারণ, রাজ্যসভা থেকে ইস্তফার পর থেকেই তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা চলছে। বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠলেও সুখেন্দু এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট করে কিছু জানাননি। তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একই মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
শুধু অমিত শাহের বৈঠকেই নয়, সোমবার আরও একটি ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিন ছিল ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির উদ্যোগে দিনটি পালন করা হয়। এই দিনেই সুখেন্দু শেখর রায় নিজের সামাজিক মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক চিঠি প্রকাশ করেন। চিঠিটি ১৯৪৩ সালে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তাঁর বাবা শিবেন্দু শেখর রায়কে লিখেছিলেন। সে সময় দুর্ভিক্ষপীড়িত এলাকায় ত্রাণ শিবির পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা সেই চিঠি প্রকাশ করে সুখেন্দু জানান, এটি তাঁদের পরিবারের ঐতিহাসিক স্মৃতির অংশ।
শ্যামাপ্রসাদের চিঠি প্রকাশ এবং একই দিনে অমিত শাহের বৈঠকে যোগ দেওয়া—এই দুই ঘটনাকে একসঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাঁদের মতে, ঘটনাগুলি নিছক কাকতালীয় নাও হতে পারে। যদিও সুখেন্দু শেখর রায় এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেননি। বরং তিনি একাধিকবার বলেছেন, ভবিষ্যতে কোন রাজনৈতিক পথে হাঁটবেন, সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেননি।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সুখেন্দুর প্রতিটি পদক্ষেপই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে তৃণমূল থেকে ইস্তফা, রাজ্যসভার আসন শূন্য হওয়া এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ—সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। যদিও তিনি আদৌ বিজেপিতে যোগ দেবেন কি না, নাকি আপাতত নির্দল অবস্থানেই থাকবেন, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও সময়ের অপেক্ষায়। তবে সোমবারের ঘটনাপ্রবাহ যে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনার পারদ চড়িয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


