'অতদূর থেকে তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে...,' BJP-তে ঘর ওয়াপসি? বেসুর তৃণমূলের সুনীল সিং
গত বছর শেষের দিকেও সুনীল সিংয়ের দলবদল নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়েছিল। তিনি আবার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংয়ের ভগ্নিপতিও বটে।
বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণা করতেই পুরো প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। টিকিট পাননি এক ঝাঁক বিধায়ক। তা নিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভের আগুন ক্রমেই বাড়ছে। উপরতলা থেকে জল ঢালার চেষ্টা হলেও বিদ্রোহ যে বড্ড ছোঁয়াচে তাই যেন বারবার প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে কয়েকদিন ধরে নোয়াপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক সুনীল সিংয়ের বিজেপিতে যাওয়ার জল্পনা চলছিল। এবার কার্যত সেই জল্পনাতেই শিলমোহর দিয়ে সুনীল সিং জানালেন, আর তৃণমূলে থাকতে চান না তিনি। একই সঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নোয়াপাড়ার এবারের তৃণমূল প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে নিয়ে।

শুক্রবার রাতে গারুলিয়ায় রামনবমীর মিছিলে নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী তথা বারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে দেখা যায় তৃণমূল নেতা সুনীল সিংকে। পাশাপাশি থেকে দুজন একসঙ্গে রামনবমীর মিছিলে বেশ খানিকটা পথও হাঁটেন। এহেন ছবি প্রকাশ্যে আসতেই বিধানসভা ভোটের আগে আবার সুনীলের বিজেপিতে যাওয়ার জল্পনা ছড়িয়েছে। যা নিয়ে শোরগোল শুরু হয়ে গিয়েছে নোয়াপাড়ার রাজনীতিতে। এই আবহে সুনীল সিং সাফ বললেন, বীজপুর থেকে তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে নিয়ে এসে প্রার্থী করেছে দল। মানুষ ক্ষেপে গিয়েছে। দলের লোকেরাও ক্ষেপে গিয়েছে। পাশাপাশি, খানিক ক্ষোভের সঙ্গেই তিনি বলেন, চারবারের বিধায়ক মঞ্জু বসুকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপমান নোয়াপাড়ার মানুষ মেনে নেবে না। রাজ্যে পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই নোয়াপাড়াতেও পরিবর্তন হবে বলে মত তাঁর।
যদিও এই মঞ্জু বসু আবার আগেই বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন। টিকিট না পেয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, টাকা না দেওয়ার জন্যই তাঁকে প্রার্থী করা হয়নি। এবার একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে সুনীল বলছেন, 'অত দূর থেকে কেন তৃণাঙ্কুরকে আনা হল? কেন এলাকা থেকে কাউকে প্রার্থী করা হল না? কেন মঞ্জু বসুকে প্রার্থী করা হল না? কেন মলয় ঘোষকে প্রার্থী করা হল না? অনেক লোক ছিল যাঁরা প্রার্থী হওয়ার যোগ্য। এখনও নোয়াপাড়ার মানুষ বলছে অত দূরের প্রার্থীকে আমরা ভোট দেব না।' একই সঙ্গে দলের দলের প্রতি একরাশ অভিমান ঝরে পড়ছে সুনীলের গলায়। তিনি বলেছেন, 'জয়েন করার পর থেকে তৃণমূল আমাকে বিশ্বাস করে না। দল যদি বিশ্বাস না করে তাহলে ওই দলে থাকা উচিত? আমার মনে হয়েছে যেখানে বিশ্বাস নেই সেখানে থাকার দরকার নেই।' এরপরই প্রশ্ন উঠেছে, নোয়াপাড়া কেন্দ্রে কী তাহলে সমীকরণ বদলাচ্ছে? জল্পনা আরও উসকে দিয়েছে সুনীল সিংয়ের মন্তব্যে।
প্রসঙ্গত, গত বছর শেষের দিকেও সুনীল সিংয়ের দলবদল নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়েছিল। তিনি আবার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংয়ের ভগ্নিপতিও বটে। গত বছরের অক্টোবরে নোয়াপাড়ার গারুলিয়াতে রাজনৈতিক সভা থেকে ফেরার পথে খোদ রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎও করতে দেখা যায়। সুনীলকে পদ্ম ফুল উপহার দেন শুভেন্দু। হাসি মুখে জড়িয়েও ধরেছিলেন। পাল্টা শুভেন্দুর পায়ে হাত দিয়ে প্রণামও করতে দেখা যায় সুনীলকে।
E-Paper

