SC on WB SIR Case: ‘৮০ দিন লাগবে’ শুধু বাংলার বিচারকরা SIR-র কাজ করলে, ভিনরাজ্যেরও জাজ আনতে বলল SC
আগামী ১০ মার্চ সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানির কথা ছিল। কিন্তু আজ তড়িঘড়ি শুনানি করা হল। কেন সেটা করা হচ্ছে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। আজ মামলার শুনানি হতেই পুরোটা স্পষ্ট হয়ে গেল। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নিয়ে কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের কাজের জন্য প্রয়োজন হলে ভিনরাজ্য থেকেও জুডিশিয়াল অফিসার বা বিচারক নিয়োগ করা যাবে। নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার (এসআইআর) শুনানির কাজের জন্য পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশা থেকেও জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করা যাবে। দেওয়ানি বিচারকদেরও (কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতা) এসআইআরের কাজে নিয়োগ করার অনুমতি দিয়েছে শীর্ষ আদালত। যদিও তাঁরা ভাষা বুঝতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সওয়াল করেন যে ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ডের জুডিশিয়াল অফিসাররা বুঝতে পারবেন না বাংলা। শীর্ষ আদালত অবশ্য জানিয়েছে, এই বিষয়ে তাদের কিছু করার নেই। অতীতে একটা সময় একই প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ ছিল পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড। ফলে পশ্চিমবঙ্গের বিষয়ে ওই রাজ্যের জুডিশিয়াল অফিসারদের ধারণা আছে বলে মনে করছে সুপ্রিম কোর্ট।

'একজন ২৫০টি মামলার নিষ্পত্তি হলেও ৮০ দিন লাগবে'
আর সুপ্রিম কোর্ট আজ সেই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের রিপোর্টের প্রেক্ষিতে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, এসআইআরের শুনানি নিয়ে শীর্ষ আদালতে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। তাতে জানানো হয়েছে যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য পর্যাপ্ত জুডিশিয়াল অফিসার নেই। প্রত্যেক জুডিশিয়াল অফিসার যদি ২৫০টি মামলার নিষ্পত্তি করেন, তাহলেও পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৮০ দিনের মতো লাগবে। সেই পরিস্থিতিতে ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশার জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগেরও সবুজ সংকেত দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। সেইসঙ্গে ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের প্রতি শীর্ষ আদালত বলেছে যে কলকতা থেকে যদি এই মর্মে কোনও আর্জি জানানো হয়, তাহলে যেন জরুরি ভিত্তিতে ও সহানুভূতির ভিত্তিতে বিবেচনা করা হয়।
৫০ লাখের মতো কাজ পড়ে আছে
প্রাথমিকভাবে বাংলার বিচারকদের দিয়ে সেই কাজ করতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। দিনকয়েক আগে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে বাংলার জুডিশিয়াল অফিসারদের এসআইআরের তথ্যগত অসঙ্গতির (লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি) নথি যাচাই এবং নিষ্পত্তি সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা যাবে। তবে আজ শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ৫০ লাখের মতো কাজ করতে হবে। সেই পরিস্থিতিতেই পড়শি দুই রাজ্যের বিচারকদেরও নিয়োগের অনুমতি দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়ে কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?
এমনিতে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা আছে। সুপ্রিম কোর্টও আগেরদিন সেই নির্দেশ দিয়েছিল। আজ নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা হবে না সময়সীমা। ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরেও প্রকাশ করা যেতে পারে সেই তালিকা। অর্থাৎ বাড়তি সময় চলে আসবে। সেই প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, যে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে, সেটিও ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই বেরোচ্ছে বলে ধরা হবে।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


