বড় স্বস্তি! 'সুপ্রিম' অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশে বহাল মুকুল রায়ের বিধায়কপদ, শুভেন্দু-স্পিকারকে...

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে জিতেছিলেন মুকুল রায়। তবে ওই বছরের ১১ জুন মুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন।

Published on: Jan 16, 2026, 22:50:50 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

স্বস্তি মুকুল রায়ের। আপাতত তিনি বিধায়ক পদে বহাল থাকছেন। মুকুল রায়ের বিধায়কপদ খারিজের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের আবেদনের ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্টের ওই রায়ে শুক্রবার অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।

স্বস্তি মুকুল রায়ের (PTI)
স্বস্তি মুকুল রায়ের (PTI)

একই সঙ্গেই সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায় এবং মুকুল রায়কে নোটিশ জারি করেছে। চার সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শীর্ষ আদালতে মুকুল পুত্রের মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মুকুল রায় দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং হাসপাতালে ভর্তি। সক্রিয় রাজনীতি থেকে তিনি এখন অনেক দূরে। সব দিক বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট আপাতত হাইকোর্টের নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে। গত ১৩ নভেম্বর দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী মুকুল রায়ের বিধায়কপদ খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। ওই রায়ে শুধু মুকুলের বিধায়কপদই খারিজ হয়নি, বাতিল হয়ে যায় বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগের সিদ্ধান্তও। মুকুলের মামলায় স্পিকার জানিয়েছিলেন, বিধায়কের দলত্যাগ নিয়ে তিনি সম্পূর্ণ নিশ্চিত নন। তাই পদ খারিজ করতে পারছেন না। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিল, দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়।

ঘটনার সূত্রপাত

এই বিতর্কের সূত্রপাত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর। তার আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে জিতেছিলেন মুকুল রায়। তবে ২০২১ সালের ১১ জুন মুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। সেই ঘটনার পরই দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী তাঁর বিধায়কপদ খারিজের আবেদন করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যদিও খাতায়-কলমে বিধায়ক থাকায় কৃষ্ণনগর উত্তরের বিদায়ককে বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। যা নিয়েও সুপ্রিম কোর্টেও মামলা হয়। শুরুতে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় মুকুল রায়ের দলত্যাগ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর আবেদন খারিজ করেছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, মুকুল আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির সদস্য। ফলে তাঁর বিধায়কপদ খারিজের প্রশ্ন ওঠে না।

মুকুল রায়ের বিদায়ক পদ খারিজ নিয়ে প্রথমবারের আবেদন খারিজের পর অধ্যক্ষকে তা পুনর্বিবেচনার জন্য দ্বিতীয়বার আবেদন করেছিলেন বিরোদী দলনেতা। কিন্তু অধ্যক্ষ তাতেও কর্ণপাত করেননি। ফলে ২০২৩ সালে নতুন করে আদালতের দ্বারস্থ হন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ ছিল, মুকুল রায় বিজেপি বিধায়ক হলেও প্রকাশ্যেই তিনি তৃণমূলের হয়ে রাজনৈতিক কাজ করছেন। ফলে দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁর বিদায়ক পদ খারিজ করা উচিত। সেই মামলাতেই কলকাতা হাইকোর্ট বিধানসভার অধ্যক্ষের রায় বাতিল করে দেয়। নির্দেশ দেয় মুকুল রায়ের বিধায়কপদ খারিজের। এই মামলায় বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়ের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তিনিই প্রথম আদালতের দ্বারস্থ হয়ে প্রশ্ন তোলেন, বিজেপির টিকিটে জিতে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরেও কীভাবে মুকুল রায় পিএসি চেয়ারম্যান থাকতে পারেন। প্রথা অনুযায়ী, এই পদ বিরোধী দলের বিধায়কের জন্য সংরক্ষিত থাকে বলেই দাবি করেন তিনি। কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের উপর ফের সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। এবার সেই রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত মুকুল রায়ের বিধায়কপদ খারিজের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না। ফলে দলত্যাগ বিরোধী আইনে বিধায়ক খারিজের ব্যাপারে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক টানাপড়েন অব্যাহত রইল।