Suvendu Adhikari: 'সমৃদ্ধ ও নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গ...,' BJPর ঐতিহাসিক জয়ের পরই মাস্টারপ্ল্যান শুভেন্দুর

Suvendu Adhikari: সোমবার সন্ধ্যার বিজয় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ২০৪৭-এর মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ হবে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। কেন্দ্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজ্যের উন্নয়ন হবে, এটাই এখন বিজেপির মূল মন্ত্র।

Published on: May 05, 2026 5:48 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Suvendu Adhikari: বঙ্গ রাজনীতিতে ইতিহাস লিখেছে পদ্ম শিবির। চারিদিকে চরম উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছে সমর্থকদের মধ্যে। ২০০-র বেশি আসন নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে ধরাশায়ী করার পর, এবার নতুন সরকার গঠনের তৎপরতা শুরু হয়েছে গেরুয়া শিবিরে। এখন রাজনৈতিক মহলে সবথেকে বড় প্রশ্ন, কে হবেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? যদিও নির্বাচনী প্রচারে অমিত শাহ বার বার পশ্চিমবঙ্গের ‘ভূমিপুত্র’কেই মুখ্যমন্ত্রী করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় সকলকে চমকে দিয়ে মঙ্গলবার সকালেই পশ্চিমবঙ্গবাসীর উদ্দেশে বিজেপির নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

BJPর জয়ের পরই মাস্টারপ্ল্যান শুভেন্দু অধিকারীর (PTI)
BJPর জয়ের পরই মাস্টারপ্ল্যান শুভেন্দু অধিকারীর (PTI)

রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে পোস্ট শুভেন্দু অধিকারীর

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নতুন সরকার কেমন হবে, সোমবার সন্ধ্যার বিজয় ভাষণেই তার আভাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরপরেই মঙ্গলবার সকালে এক তাৎপর্যপূর্ণ পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যবাসীকে প্রণাম জানিয়ে লেখেন, 'প্রণাম পশ্চিমবঙ্গবাসী। পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টিকে বিপুল সমর্থন দেওয়ার জন্য ও যশস্বী প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভরসা রাখার জন্য আপনাদের প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।' তিনি আরও জানান, 'এই জয় প্রত্যেক দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রবাদীর জয়, প্রত্যেক বিজেপি কার্যকর্তার জয়। বিজেপির অঙ্গীকার এক উন্নত, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গ। আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। সকলকে সাথে নিয়ে আমরা গড়ে তুলবো একটি সুস্থ, সুন্দর ও উন্নত রাজ্য। রাজ্যবাসীর সেবা করাই হবে নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।'

নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা

রাজ্যবাসীর উদ্দেশে করা পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচন কমিশনকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, 'বিধানসভা নির্বাচনের এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মচারীবৃন্দ, কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্য ও কলকাতা পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের জানাই বিশেষ কৃতজ্ঞতা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীজির নেতৃত্বে এক বিকশিত ও আত্মনির্ভর পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলাই আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।' এদিকে, এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি যে পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সিংহাসনে কে বসতে চলেছেন, কিন্তু তার আগেই নতুন সরকারের চরিত্র নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণার আগেই শুভেন্দু অধিকারীর এই সক্রিয়তা তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্বকেই পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করছে। ভোটে জিতে সরকার গড়লেও বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি। যদিও অমিত শাহের সেই 'ভূমিপুত্র' তত্ত্বই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

নবান্নের নতুন মুখের জন্য তিনটি সমীকরণ উঠে আসছে:

শুভেন্দু অধিকারী: পরপর দু’বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাস্ত করে নিজের ‘জায়েন্ট কিলার’ ভাবমূর্তি বজায় রেখেছেন তিনি। প্রচার থেকে শুরু করে রণকৌশল- দলের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে তাঁর দাবি সবথেকে জোরালো।

শমীক ভট্টাচার্য: বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে সামনের সারিতে আনা হতে পারে।

উত্তরবঙ্গের মুখ: ভোটের লড়াইতে উত্তরবঙ্গ ফের দু’হাত উজাড় করে বিজেপিকে সমর্থন দিয়েছে। সেই আঞ্চলিক আবেগকে সম্মান জানাতে কোনও তৃতীয় বা নতুন মুখকেও চমক হিসেবে নিয়ে আসতে পারে বিজেপি নেতৃত্ব।

এখন দেখার, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কার হাতে তুলে দেয় বাংলার প্রশাসনিক ব্যাটন। সোমবার সন্ধ্যার বিজয় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ২০৪৭-এর মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ হবে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। কেন্দ্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজ্যের উন্নয়ন হবে, এটাই এখন বিজেপির মূল মন্ত্র। শুভেন্দু অধিকারীর আজকের পোস্টেও সেই সুরই প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

এক নজরে বিজেপির সরকারের অগ্রাধিকার:

১. নিরাপত্তা: প্রতিটি নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

২. বিকাশ: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বিকশিত ভারত’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন।

৩. সেবা: রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের পরিষেবা প্রদান।