'ওরা নিজেরাই আর...,' শাহের টার্গেটকে ছাপিয়ে বাংলায় তৃণমূলকে সাফাইয়ের হুঙ্কার শুভেন্দুর

এসআইআর ইস্যুতে তৃণমূলকে তোপ দাগেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। 

Published on: Jan 2, 2026, 19:51:20 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

এই মুহূর্তে আরআইআর নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ইতিমধ্যেই খসড়া ভোটার তালিকায় ৫৮ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ গিয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় এই সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের। এই আবহে রাজ্যে জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়লেও নতুন বছরের দ্বিতীয় দিন থেকে বাড়ছে রাজনৈতিক পারদ। শুক্রবার মালদহের চাঁচলের সভা থেকে তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বললেন, ‘১৪ ফেব্রুয়ারির পরে ওরা নিজেরাই আর ভোটে লড়তে চাইবে না। বলে দেবে, আমরা আর লড়ব না।’

বাংলায় তৃণমূলকে সাফাইয়ের হুঙ্কার শুভেন্দুর (Hindustan Times)
বাংলায় তৃণমূলকে সাফাইয়ের হুঙ্কার শুভেন্দুর (Hindustan Times)

এদিন মালদহের চাঁচলের সভায় তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি থেকে শুরু করে রাজ্যের নিরাপত্তা ইস্যু - সব নিয়েই নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তেড়েফুঁড়ে ওঠেন বিরোধী দলনেতা। সভায় আগতদের মনে করান, ঠিক সময়ে তিনি তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন। বুঝে গেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ছাড়া গতি নেই। এই প্রসঙ্গেই আসন্ন নির্বাচনে ফের বাংলায় ২২০ আসনের জেতার দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতায় কোর কমিটির বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০০ আসনের টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির নেতাদের। বক্তব্য ছিল, 'আমরা যদি ৩ আসন থেকে ৭৭ আসনে পৌঁছতে পারি, তাহলে ৭৭ থেকে ২০০ আসনে পৌঁছনো অসম্ভব কেন হবে?' সেই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই চাঁচল থেকে শুভেন্দু বলেন, ‘উত্তর মালদহে কোনও দিন দাঁত ফোটাতে পারেনি তৃণমূল। কারণ এখানে সনাতনীরা একজোট। যদি সংখ্যালঘু ১০০টা ভোটের ৯৯টা তৃণমূলে পড়ে, তাহলে কেন সনাতনী, আদিবাসীদের ১০০টা ভোটের ৯৯টা বিজেপিতে পড়বে না? এমনটা ঘটলে বিজেপি ২২০টা আসনে জিতবে।’

এরপরেই এসআইআর ইস্যুতে তৃণমূলকে তোপ দাগেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এ তো সবে শুরু। ১৪ ফেব্রুয়ারির পরে ওরা নিজেরাই বলবে, আমরা আর ভোটে লড়ব না।’ অযোধ্যায় রাম মন্দির হওয়ার পরে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের সেই স্লোগানও এদিন শোনা যায় শুভেন্দুর মুখে, ‘ইয়ে তো স্রেফ ঝাঁকি হ্যায়, কাশী-মথুরা আভি বাকি হ্যায়।’ এক সময়ে অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গর নাম এক নিঃশ্বাসে উচ্চারণ হতো। অঙ্গ বলতে বর্তমানের বিহারকেই বোঝানো হয়। বিরোধী দলনেতার কথায়, ‘৫০ কিলোমিটার দূরের বিহারে বিজেপি সরকার হয়েছে। বাকি সবাই ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে।’ কলিঙ্গ বলতে বোঝায় ওড়িশা। সেখানেও বিজেপি সরকার। শুভেন্দুর কথায়, ‘জয় জগন্নাথ বলে ওড়িশার মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। আদিবাসী নেতা মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন।’ এবার বঙ্গের পালা বলে দাবি তাঁর। তিনি বলেন, ‘অঙ্গ আর কলিঙ্গ জেতা হয়ে গিয়েছে। এবার বঙ্গ জিততে হবে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন পূরণ করতেই হবে।’

একই সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করেছেন, 'চোরের দলে গেলে সবাই বদলাবে। আগে বুঝেছিলাম বলে ৬ বছর আগেই পালিয়ে এসেছি। একে একে সবাই এসেছে গেরুয়ার নীচে কারণ মোদীজি ছাড়া এই দুর্বৃত্তদের কেউ আটকাতে পারবে না।' বাংলায় দুর্গাপুজো, কালীপুজো করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আগেও করেছে বিজেপি। এদিন নতুন করে সেই অভিযোগ তোলেন শুভেন্দুও। তাঁর কথায়, ‘সনাতনীদের এখন ধর্মপালন করতে হাইকোর্টের অনুমতি নিতে হয়। এ কোন রাজ্যে বাস করছি আমরা?’ বাংলাদেশে দীপু দাসের হত্যাকাণ্ডকে মুর্শিদাবাদের হরগোবিন্দ দাস, চন্দন দাস খুনের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘মাংস কাটার ছুরি দিয়ে কুপিয়ে মেরেছে। মোথাবাড়িতে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। ধুলিয়ান, সামশেরগঞ্জে হিংসা ছড়িয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সব হিসেব হবে।’

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া

তবে শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যকে হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার। তিনি বলেন, ‘বালখিল্য আচরণ। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে এই সব বলেন, তখন বোঝা যায়, তিনি রাজনীতিটাকে মস্করার জায়গায় নামিয়ে দিয়েছেন। তৃণমূলের মতো একটা দল ভোটার তালিকা বেরলে আর ভোটে লড়বে না, এটা তাঁর আশা নাকি বোকামি? মানুষ এ সব কথা শুনে হাসে।’ শুভেন্দুকে পাল্টা জবাব দিয়েছেন তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যও। তিনি বলেন, 'লোকসভা ও বিধানসভার ফলাফলে অনেক পার্থক্য থাকে। শুভেন্দুবাবু পুলিশের অনুমতি ছাড়া আসানসোলে একটি সভা করেছিলেন। তাতে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পুলিশ অনুমতি না দিলে কোনও কারণ থাকে।'